“টিকটকার”—শব্দটি এখন অনেকের কাছে যেন একটি স্টেরিওটাইপে পরিণত হয়েছে। কেউ টিটটক ভিডিও বানালেই তাকে হালকা করে দেখা, সমালোচনা করা—এ যেন নিত্যদিনের চিত্র। কিন্তু প্রশ্ন থেকেই যায়—টিকটকার মানেই কি খারাপ? নাকি আমরা একপেশে ধারণার ভেতরেই আটকে আছি?
টিকটকার বলতে মূলত ভিডিও প্ল্যাটফর্ম টিকটক -এ কনটেন্ট তৈরি করা মানুষদের বোঝানো হয়। তারা শুধু নাচ-গান বা ট্রেন্ড অনুসরণেই সীমাবদ্ধ নন; বিনোদনের পাশাপাশি শিক্ষামূলক কনটেন্ট, রান্না, স্বাস্থ্য, ভ্রমণ কিংবা সামাজিক সচেতনতা নিয়েও ভিডিও তৈরি করেন। অর্থাৎ, এই প্ল্যাটফর্মের পরিসর অনেক বিস্তৃত।
তবে টিকটককে ঘিরে নেতিবাচক ধারণার পেছনে কিছু বাস্তব কারণও রয়েছে। সব কনটেন্ট সমান মানের নয়—কিছু ভিডিওতে অশালীনতা বা অপ্রয়োজনীয় ট্রেন্ড দেখা যায়। আবার অনেকের মতে, এটি সময় নষ্টের একটি মাধ্যম এবং সহজেই আসক্তি তৈরি করতে পারে। ভাইরাল হওয়ার প্রতিযোগিতায় কেউ কেউ ঝুঁকিপূর্ণ বা বিতর্কিত কাজও করে বসেন। এসব কারণে পুরো কমিউনিটির ওপর একটি নেতিবাচক ছাপ পড়ে।
তবে পুরো চিত্রটা এমন নয়। বর্তমানে অনেক টিকটকার শিক্ষামূলক কনটেন্ট তৈরি করছেন, ছোট ব্যবসা প্রচার করছেন, এমনকি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক বার্তাও ছড়িয়ে দিচ্ছেন। অনেকেই এটিকে পেশা হিসেবে নিয়ে আয় করছেন এবং নিজেদের জন্য একটি শক্ত অবস্থান তৈরি করেছেন।
আসলে টিকটক নতুন প্রজন্মের যোগাযোগের একটি মাধ্যম। সংক্ষিপ্ত ভিডিওর মাধ্যমে দ্রুত বার্তা পৌঁছে দেওয়ার এই সংস্কৃতি এখন ডিজিটাল বিশ্বের অংশ হয়ে গেছে। আগে যেমন টেলিভিশন বা ইউটিউব নিয়ে একই ধরনের সমালোচনা ছিল, সময়ের সঙ্গে সেগুলো স্বাভাবিক হয়েছে।
সমস্যা তাই প্ল্যাটফর্মে নয়, বরং ব্যবহারে। দায়িত্বজ্ঞানহীন কনটেন্ট তৈরি, অতিরিক্ত আসক্তি বা ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ঝুঁকির মতো বিষয়গুলো মূলত ব্যবহারকারীর আচরণের সঙ্গেই জড়িত।
সুতরাং, টিকটকারদের এক কথায় “ভালো” বা “খারাপ” বলার সুযোগ নেই। বরং তাদের কনটেন্টের মান, উদ্দেশ্য এবং প্রভাব—এই বিষয়গুলো বিবেচনা করেই মূল্যায়ন করা উচিত।
সর্বোপরি, “টিকটকার মানেই খারাপ”—এ ধারণা অতিরঞ্জিত। এটি একটি প্ল্যাটফর্ম, আর মানুষই সেটিকে ভালো বা খারাপ করে তোলে। তাই একপেশে দৃষ্টিভঙ্গির বদলে কাজ দিয়ে বিচার করাটাই বেশি যুক্তিযুক্ত।