কেউ কি আপনাকে মানসিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করছে? বুঝবেন যে ১০ লক্ষণে

কেউ বারবার এমনভাবে কথা বলছেন যে নিজের স্মৃতি, অনুভূতি বা বিচারবোধ নিয়েই সন্দেহ তৈরি হচ্ছে?

মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, এটি হতে পারে ‘গ্যাসলাইটিং’—যা এক ধরনের মানসিক প্রভাব বিস্তারের কৌশল, যার মাধ্যমে একজন ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে অন্যজনকে বিভ্রান্ত করে নিজের ওপর তার আস্থা কমিয়ে দেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, গ্যাসলাইটিং শুধু মিথ্যা বলা নয়। এতে অস্বীকার, দোষ চাপিয়ে দেওয়া, প্রসঙ্গ ঘুরিয়ে দেওয়া এবং ভুক্তভোগীকে মানসিকভাবে দুর্বল করে তোলার মতো নানা কৌশল ব্যবহার করা হয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এতে ব্যক্তি নিজের সিদ্ধান্ত, স্মৃতি এমনকি বাস্তবতা নিয়েও প্রশ্ন তুলতে শুরু করতে পারেন।

মনোবিজ্ঞানভিত্তিক এক বিশ্লেষণে গ্যাসলাইটিংয়ের ১০টি সাধারণ লক্ষণের কথা তুলে ধরা হয়েছে।

নিজের ভুলের দায় নেন না

গ্যাসলাইটিং করা ব্যক্তি নিজের ভুল বা অনৈতিক আচরণের দায়িত্ব এড়িয়ে যান। স্পষ্ট প্রমাণ থাকলেও ক্ষমা চাওয়ার বদলে বিষয়টি অস্বীকার করেন।

বাস্তব ঘটনাও অস্বীকার করেন

ঘটনা ঘটেছে—এমন প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও তারা দাবি করেন, এমন কিছুই ঘটেনি বা আপনি ভুল মনে করছেন।

 

সরাসরি প্রশ্নের সরাসরি উত্তর দেন না

সহজ প্রশ্নের জবাবে দীর্ঘ, অপ্রাসঙ্গিক ব্যাখ্যা দেন, যাতে মূল বিষয়টি চাপা পড়ে যায়।

প্রসঙ্গ ঘুরিয়ে দেন

আপনি যে বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে চান, তার বদলে অন্য প্রসঙ্গ টেনে এনে আলোচনার দিক বদলে দেন।

আপনার অনুভূতিকে তুচ্ছ করেন

‘তুমি বেশি আবেগপ্রবণ’, ‘অতিরিক্ত ভাবছ’, ‘এত বাড়িয়ে দেখার কিছু নেই’—এ ধরনের মন্তব্য করে আপনার অনুভূতিকে গুরুত্বহীন করে তোলেন।

উল্টো আপনাকেই দোষী বানায়

নিজের ভুলের দায় আপনার ওপর চাপিয়ে দিয়ে নিজেকেই ভুক্তভোগী হিসেবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করেন।

নিজের আচরণের অভিযোগ আপনার দিকেই ফেরান

যে আচরণটি তারা করেছেন, সেটির জন্যই উল্টো আপনাকে দায়ী করেন। এতে আপনি আত্মপক্ষ সমর্থনেই ব্যস্ত হয়ে পড়েন।

আপনাকে একা করে দেওয়ার চেষ্টা করেন

বন্ধু, সহকর্মী বা পরিবারের সদস্যদের থেকে আপনাকে বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা করেন, যাতে আপনি অন্য কারও সমর্থন না পান।

আপনার বিশ্বাসযোগ্যতা নষ্ট করেন

অন্যদের কাছে আপনার সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা তৈরি করেন বা এমনভাবে কথা বলেন, যাতে আপনার কথাকে গুরুত্ব না দেওয়া হয়।

সবসময় সতর্ক হয়ে চলতে বাধ্য করেন

এমন পরিবেশ তৈরি করেন যে আপনি প্রতিটি কথা বা কাজের আগে ভয় পান, বারবার ভাবেন এবং নিজের সিদ্ধান্ত নিয়েই সন্দেহ করতে থাকেন। মনোবিজ্ঞানীরা একে ‘ডিমের খোসার ওপর হাঁটার মতো অনুভূতি’ বলে বর্ণনা করেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘদিন গ্যাসলাইটিংয়ের শিকার হলে আত্মবিশ্বাস কমে যেতে পারে, উদ্বেগ বাড়তে পারে এবং ব্যক্তি নিজের বিচারবোধের ওপর আস্থা হারাতে পারেন।

তাদের পরামর্শ, যদি কোনও সম্পর্ক বা কর্মক্ষেত্রে এসব আচরণ বারবার দেখা যায়, তাহলে ঘটনাগুলো নথিভুক্ত রাখা, বিশ্বস্ত মানুষের সঙ্গে আলোচনা করা এবং প্রয়োজনে মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের সহায়তা নেওয়া উচিত। আর পরিস্থিতি যদি ধারাবাহিকভাবে নিয়ন্ত্রণমূলক ও ক্ষতিকর হয়ে ওঠে, তাহলে সেই সম্পর্ক থেকে নিরাপদ দূরত্ব তৈরি করাই হতে পারে সবচেয়ে কার্যকর সিদ্ধান্ত।