কুকুরের আচরণ বুঝতে না পারলে যে ভুলটা করবেন!

কুকুর হঠাৎ ঘেউ ঘেউ করছে, কাউকে দেখে লুকিয়ে যাচ্ছে, অন্য কুকুরের কাছে যেতে চাইছে না কিংবা বারবার একই কাজ করছে—আমরা অনেক সময় এসব আচরণকে ‘দুষ্টুমি’, ‘জেদ’ বা ‘অবাধ্যতা’ বলে ধরে নিই। কিন্তু কুকুরের আচরণের পেছনে হয়তো রয়েছে অন্য একটি গল্প।

কুকুরের আচরণই তার ভাষা। মানুষের মতো করে নিজের প্রয়োজন, ভয় কিংবা অস্বস্তি বোঝানোর সুযোগ তার নেই। তাই তাকে বুঝতে হলে আগে জানতে হবে, সে কীভাবে নিজের কথা প্রকাশ করে। কুকুরের আচরণকে মানুষের দৃষ্টিকোণ থেকে ব্যাখ্যা করতে গিয়ে আমরা অনেক সময় তাকে ভুল বুঝি।

কুকুরের আচরণ নিয়ে কাজ করা প্রশিক্ষক সাইমন উলার মনে করেন, কুকুরের সঙ্গে গভীর ও পারস্পরিক সম্পর্ক গড়তে হলে তার দৃষ্টিকোণ থেকে বিষয়গুলো দেখার চেষ্টা করতে হবে। তার ‘মোর দ্যান জাস্ট আ ডগ’ বইয়ে কুকুর কীভাবে শেখে, পরিবেশের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করে এবং শরীরী ভাষার মাধ্যমে নিজের প্রয়োজন জানায়—এসব বিষয় তুলে ধরা হয়েছে।

ধরুন, একটি কুকুর কোনও নির্দিষ্ট আচরণ বারবার করছে। তার মানে এই নয় যে সে ইচ্ছে করেই আপনাকে বিরক্ত করছে। সাধারণত যে আচরণের পর কুকুর কোনও পুরস্কার বা ইতিবাচক ফল পায়, সেটি আবার করার সম্ভাবনাই বেশি। তাই চিৎকার, ভয় দেখানো বা শাস্তি দেওয়ার বদলে কাঙ্ক্ষিত আচরণের জন্য পুরস্কার দেওয়া বেশি কার্যকর হতে পারে।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ‘পছন্দের সুযোগ;। নিরাপত্তার জন্য কুকুরের জীবনে অনেক সীমা তৈরি করা স্বাভাবিক। কিন্তু প্রতিটি পরিস্থিতিতে তার নিজের কোনও সিদ্ধান্তের সুযোগ থাকবে না—এমনটা জরুরি নয়। বিশেষ করে ভয় পাওয়া কুকুরকে জোর করে মানুষ বা অন্য কুকুরের কাছে নিয়ে গেলে তার ভয় আরও বেড়ে যেতে পারে। বরং তাকে কিছুটা সময় ও নিজের মতো করে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের সুযোগ দিলে কৌতূহল, শেখার ক্ষমতা এবং আবেগ সামলানোর দক্ষতা তৈরি হতে পারে।

কুকুরের আচরণ বোঝার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ভুলগুলোর একটি হলো ভয়কে ‘খারাপ আচরণ’ মনে করা। একটি কুকুর ভয় পাচ্ছে মানেই সে অবাধ্য বা একগুঁয়ে—এমন নয়। ভয় একটি আবেগ। তাই যে বিষয়টি তাকে ভয় দেখায়, সেটির মুখোমুখি জোর করে দাঁড় করিয়ে দিয়ে ‘অভ্যস্ত’ করানোর চেষ্টা সবসময় সঠিক পদ্ধতি নয়। বরং ধীরে ধীরে ইতিবাচক অভিজ্ঞতা তৈরি করা এবং ঘর ও পরিবারের মধ্যে তাকে নিরাপদ বোধ করার সুযোগ দেওয়া জরুরি।

আজকাল অনেকেই কুকুরকে পরিবারের সদস্য হিসেবে দেখেন। তাদের সঙ্গে ক্যাফে, হোটেল কিংবা বিভিন্ন জায়গায় নিয়ে যান। কিন্তু পরিবারের সদস্য করে নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অনেক সময় তাদের কাছ থেকে মানুষের মতো নিখুঁত আচরণও আশা করি। অথচ কুকুর তো মানুষ নয়। তার নিজস্ব স্বভাব, সীমাবদ্ধতা, ভয় ও পছন্দ রয়েছে।

তাই কুকুরকে ভালোবাসার অর্থ শুধু তাকে খাওয়ানো, আদর করা কিংবা প্রশিক্ষণ দেওয়া নয়; তার আচরণ বোঝার চেষ্টাও সেই সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সে কেন ঘেউ ঘেউ করছে, কেন দূরে সরে যাচ্ছে, কেন কোনও নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে অস্বস্তি বোধ করছে—এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে পারলেই হয়তো সম্পর্কটা একতরফা ‘মালিক-পোষা প্রাণী’ সম্পর্কের বাইরে গিয়ে সত্যিকারের পারস্পরিক বন্ধনে পরিণত হবে।

শেষ পর্যন্ত প্রশ্নটা খুব সহজ—আমরা কি শুধু চাই কুকুর আমাদের কথা বুঝুক, নাকি আমরাও একটু চেষ্টা করব তার কথা বুঝতে?