শেষ হয়ে আসছে ২০২৩ সাল, শুরু হবে নতুন একটি বছর। চলতি বছরের পাশাপাশি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পুষ্টি এবং স্বাস্থ্যের উপর এর প্রভাব সম্পর্কে আমাদের ধারণার বেশ কিছু পরিবর্তন এসেছে। প্রতিনিয়তই পুষ্টি সম্পর্কিত ধারণা বিকশিত হচ্ছে, বৈজ্ঞানিক অগ্রগতি দ্বারা প্রভাবিত হচ্ছে, রুচির পরিবর্তন হচ্ছে এবং সামগ্রিক সুস্থতার প্রতি আগ্রহ বাড়ছে মানুষের। কার্যকরী খাবারের উপর আগ্রহ বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি খাবার সম্পর্কে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে কোভিড এসে যেন সুস্থতার গুরুত্ব খুব ভালো করে বুঝিয়ে দিয়ে গেছে আমাদের। চলতি বছর শারীরিক এবং মানসিক উভয় সুস্থতার দিকে মানুষের মনোনিবেশ করার প্রবণতা দেখা গেছে আরও বেশি। খাদ্য ও পুষ্টি সম্পর্কে আমাদের চিন্তাভাবনার পরিবর্তন এবং স্বাস্থ্যের উপর এর প্রভাবগুলো কী ছিল এই বছর? জেনে নিন সেটাই।
ব্যক্তিগতকৃত পুষ্টি: ব্যক্তিগতকৃত বা পার্সোনালাইজড পুষ্টির ধারণা দেখা গেছে ব্যাপকভাবে। জেনেটিক টেস্টিং এবং এআই-চালিত অ্যালগরিদমের মতো সরঞ্জামগুলো ব্যবহার করে, ব্যক্তিরা তাদের জেনেটিক মেকআপ, লক্ষ্য এবং জীবনধারা পছন্দের উপর ভিত্তি করে কাস্টমাইজড খাদ্যতালিকা তৈরি করেছেন। এই প্রবণতা সঠিক ওজন ব্যবস্থাপনাতে রেখেছে ভূমিকা। এছাড়া নির্দিষ্ট স্বাস্থ্য সমস্যাও দূর করতে সাহায্য করেছে।
শাকসবজি খাওয়া এবং বিকল্প প্রোটিন: স্বাস্থ্য সম্পর্কে উদ্বেগের কারণে শাকসবজি খাওয়ার প্রতি মানুষের আগ্রহ দেখা গেছে। এগুলো পুষ্টিতে সমৃদ্ধ এবং ক্যালোরি এবং চর্বি কম। কমেছে প্রোটিন খাওয়ার প্রবণতা। মসুর ডাল, কুইনো, মটর প্রোটিন এবং ল্যাবে তৈরি মাংসের মতো বিকল্প প্রোটিন বেছে নেওয়ার চেষ্টা করেছে স্বাস্থ্য সচেতন মানুষ।
অন্ত্রের স্বাস্থ্যের প্রতি গুরুত্ব: অন্ত্রের স্বাস্থ্যের প্রতি গুরুত্ব দিয়েছেন সচেতনরা। ফলে স্বাস্থ্যকর মাইক্রোবায়োমকে সমর্থন করে এমন খাবারগুলোতে বছরজুড়ে মনোযোগ দেওয়া হয়েছে। প্রোবায়োটিকস, প্রিবায়োটিকস খাবারগুলো ছিল সবার আগ্রহের তালিকায়। ভালো হজম, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এবং মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখা আবশ্যক।
কার্যকরী এবং অ্যাডাপটোজেনিক খাবার: নির্দিষ্ট পুষ্টি এবং অ্যাডাপ্টোজেনসহ কার্যকরী খাবারের চাহিদা বেড়েছে এই বছর। এসব খাবার মৌলিক পুষ্টির বাইরেও স্ট্রেস কমানো এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে কার্যকরী। হলুদ, অশ্বগন্ধা, এবং ঔষধি মাশরুমের মতো উপাদানগুলো বিভিন্ন পণ্যের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে স্বাস্থ্য সচেতনদের আগ্রহের কারণে।
পুষ্টিতে প্রযুক্তির প্রভাব: ডায়েট ট্র্যাক, বিশ্লেষণ এবং পরিচালনা করার জন্য ব্যবহৃত হয়েছে প্রযুক্তি। স্মার্ট ডিভাইস, অ্যাপস এবং পরিধানযোগ্য গ্যাজেট ব্যবহারকারীদের সংখ্যা বেড়েছে। মানুষ তাদের খাদ্য গ্রহণ নিরীক্ষণ করতে, ব্যক্তিগতকৃত সুপারিশ গ্রহণ করতে এবং পুষ্টির ডেটা অনায়াসে ট্র্যাক করতে ব্যবহার করেছে প্রযুক্তি। প্রযুক্তি এবং পুষ্টির এই একীকরণ মানুষকে আরও সচেতন হতে সহায়তা করেছে নিঃসন্দেহে।
তথ্যসূত্র: এনডিটিভি