‘দেশের এই পরিস্থিতিতে নিজেকে কীভাবে শান্ত রাখতে পারি?’

প্রশ্ন: আমার বয়স ২৯ বছর। আমার সন্তান ক্যানসারে ভুগছে। ওর বয়স ৪ বছর। দেশ-বিদেশ সব জায়গায় চিকিৎসা করিয়েছি। কিন্তু খুব আশার কোনও বাণী শোনাতে পারছেন না চিকিৎসকরা। আমার প্রচণ্ড কষ্ট হয়। মনে হয় আত্নহত্যা করি। আমার সন্তানের কিছু হয়ে গেলে আমি আসলে বেঁচে থাকার আর কোনও কারণ খুঁজে পাবো না।

উত্তর: সন্তান হারানোর শোক পৃথিবীর কঠিনতম শোকগুলোর মধ্যে একটি। আশু সন্তান হারানোর ঝুঁকি এর চাইতেও বেদনাদায়ক। আপনি প্রকৃতির সাথে আরও একাত্ম হওয়ার চেষ্টা করুন। খোলা-মাঠ বা গাছপালাপূর্ণ পরিবেশে প্রতিদিন কিছুটা সময় কাটানোর চেষ্টা করুন এবং খালি পায়ে মাটি বা ঘাসের উপর প্রতিদিন ১৫ থেকে ৩০ মিনিট দাঁড়িয়ে থাকার অভ্যাস করুন। কষ্টকে নিবিড়ভাবে আত্মস্থ করুন। স্রষ্টা ইচ্ছার কাছে বা প্রকৃতির কাছে নিজেকে পরিপূর্ণভাবে সমর্পণ করুন। আপনার মতো অবস্থায় থাকা মানুষদের সাথে যোগাযোগ করুন এবং তাদের সাথে মিলে বিভিন্ন সাপোর্ট গ্রুপ বা সেল্ফ হেল্প গ্রুপের কার্যক্রমে নিয়মিত অংশগ্রহণ করুন। ব্রিদিং এক্সারসাইজ ও মাইন্ডফুল মেডিটেশন এবং রিভার্স মেডিটেশন আপনার মনের কষ্ট প্রশমনে সহায়তা করবে। দুঃখ এবং সুখ দুটোই জীবনের অপরিচ্ছেদ্য অংশ। আমরা যখন যেটার মুখোমুখি হবো, তখন সেটাকে আলিঙ্গন করাটাই বাঞ্ছনীয়।

প্রশ্ন: আমার বয়স ৩১ বছর। আমার রক্ত দেখলে আতংক হয়। সম্প্রতি দেশের এই সহিংসতা আমাকে প্রচণ্ডভাবে আঘাত করেছে। এত রক্ত, এত ভয় আর আতংক চারদিকে। দেশের এই পরিস্থিতিতে নিজেকে কীভাবে শান্ত রাখতে পারি?

উত্তর: আপনার অনুভূতিগুলো একেবারে স্বাভাবিক এবং আপনার উদ্বেগের কারণগুলোও খুবই যৌক্তিক। সহিংসতা এবং রক্তপাতের দৃশ্য যে কাউকে আতংকিত করতে পারে। এই পরিস্থিতিতে নিজেকে শান্ত রাখতে কিছু পদক্ষেপ নিতে পারেন:

১) সহিংসতার সংবাদ থেকে বিরতি: সহিংসতার খবর থেকে কিছুটা দূরে থাকুন। এটি আপনার মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য ভালো হতে পারে।

২) মেডিটেশন ও শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম: নিয়মিত মেডিটেশন এবং শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম আপনার মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করতে পারে।

৩) প্রিয়জনদের সাথে সময় কাটান: পরিবার ও বন্ধুদের সাথে অধিক সময় কাটানো আপনাকে মানসিকভাবে শক্তিশালী করতে পারে।

৪) সৃজনশীল কাজে নিজেকে ব্যস্ত রাখা: ছবি আঁকা, বই পড়া, নতুন কোন বিষয়ে জ্ঞান অর্জন এবং চর্চা করা বা অন্য কোনো সৃজনশীল কাজে নিজেকে ব্যস্ত রাখার চেষ্টা করুন।