প্রশ্ন: আমার বয়স ৩৭ বছর, বিয়ে করেছি ১০ বছর আগে। আমার স্বামী মানুষ হিসেবে ভালো, কিন্তু দায়িত্বশীল না। ধরুন বাচ্চা কাঁদছে, কিন্তু সে মোবাইলে মগ্ন। একা হাতে নানা দিক সামলাতে গিয়ে আমার মেজাজ খারাপ হয়ে যাচ্ছে আজকাল। আমি চিৎকার চেঁচামেচি করছি। এতে সন্তানদের উপরেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। স্বামীর সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা বলার চেষ্টা করেছি। বললে একদিন দুইদিন ঠিক থাকে। এরপর আবার যা তাই। কী করবো?
উত্তর: মানুষের প্রকৃতি জোর করে পাল্টানো যায় না। তাছাড়া সবার মধ্যে সব বৈশিষ্ট্য আশা করাটা অনুচিত। এই ব্যাপারটা আপনি এবং আপনার স্বামী যতো তাড়াতাড়ি মেনে নিতে পারবেন, তত তাড়াতাড়ি আপনাদের জন্য ভালো। আপনার স্বামীর চরিত্রের ইতিবাচক দিকগুলোকে মূল্যায়ন করুন, তার সাথে সাংসারিক দায়িত্ব নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করুন। দায়িত্বগুলো ভাগাভাগি করার চেষ্টা করুন। আপনার নিজের জন্য কিছু সময় বের করুন ও নিজের যত্ন নিন। এটি হতে পারে বই পড়া, গান শোনা, বা কোনো শখের কাজ করা। প্রিয়জনদের সাথে সময় কাটান। তাদের সাথে কথা বলুন, আপনার অনুভূতিগুলো শেয়ার করুন। প্রতিদিন কিছু সময় ব্যায়াম করুন। এটি আপনার মানসিক চাপ কমাতে এবং শারীরিক সুস্থতা বজায় রাখতে সাহায্য করবে। পুষ্টিকর খাবার খান এবং পর্যাপ্ত পানি পান করুন। প্রতিদিন পর্যাপ্ত ঘুমানোর চেষ্টা করুন। ঘুম আপনার শরীর ও মনের পুনরুজ্জীবনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মেডিটেশন ও যোগব্যায়াম মানসিক শান্তি ও স্থিতি বজায় রাখতে সাহায্য করে।
প্রশ্ন: আমার বয়স ২৫ বছর। একটি মেয়েকে ভালোবাসি, যৌনতায় তার বিন্দুমাত্র আগ্রহ নেই। সে সম্ভবত এসেক্সুয়াল। কিন্তু তাতেও আমার কোনও সমস্যা নেই, আমি তাকে বিয়ে করতে চাই। এসেক্সুয়াল কাউকে বিয়ে করাটা কি ভুল সিদ্ধান্ত হবে?
উত্তর: শারীরতাত্বিকভাবে স্বাভাবিক জিনগত বৈশিষ্টসম্পন্ন কোনও মানুষ এসেক্সুয়াল হতে পারে না। যৌনতা এবং প্রজনন একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। তবে যৌনতার ব্যপারে কারো আগ্রহ কম-বেশী হতেই পারে। বিয়ের আগে যৌনতার ব্যপারে অনাগ্রহ থাকাটা অনেকের ক্ষেত্রেই স্বাভাবিক। সম্পর্কের ভিত্তি হলো পারস্পরিক সম্মান ও বোঝাপড়া। বিয়ে করার সিদ্ধান্ত ভুল হবে কিনা, তা আপনার এবং আপনার সঙ্গীর প্রয়োজন ও চাহিদার উপর নির্ভর করে। আপনার এবং আপনার সঙ্গীর যৌন অভিরুচি আপনাদের বিয়ের পর মিলেমিশে একাকার (সিনক্রোনাইজড) হবে যদি আপনাদের পারস্পারিক ভালোবাসা অটুট থাকে। অনেক সময় বিভিন্ন হরমোনের ভারসাম্যহীনতার কারণেও যৌনতার প্রতি অনাগ্রহ সৃষ্টি হতে পারে। সেক্ষেত্রে আপনার সঙ্গীকে নিয়ে একজন এন্ডোক্রাইনোলজিস্টের সাথে পরামর্শ করতে পারেন। আপনার সঙ্গীর ভেতরে বিয়ের পরেও যদি যৌন বিষয়ে অনাগ্রহ থেকে যায়, তাহলে আপনার এবং আপনার স্ত্রীর পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সাথে ব্যাপারটি নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করুন এবং প্রয়োজনে একজন কাপল থেরাপিস্ট-এর পরামর্শ গ্রহণ করুন।