প্রশ্ন: আমার বয়স ২৯ বছর। আমার একজনের মাধ্যমে একটি ছেলের সাথে পরিচয় হয়। বিয়ের জন্যই এগিয়েছিলাম। কথাবার্তায় ভালো লাগে তাকে। কিন্তু সে বিয়ে করবো করবো বলে ৩ বছর কাটিয়ে দিয়েছে। জিজ্ঞেস করলে নানা অজুহাত দেয়। আবার আমাকেই বিয়ে করবে সেটার নিশ্চয়তা দেয়। তার চারিত্রিক কোনও সমস্যা নেই। কিন্তু বিয়ের কথা আসলেই টালবাহানা শুরু করে। আমি বুঝতে পারছি না কী করবো। তার জন্য অপেক্ষা করাটা কি ভুল হবে?
উত্তর: প্রেমিকের জন্য অপেক্ষা করাটা আপনার জন্য ভুল হবে কিনা সেটা সুস্পষ্টভাবে কেউই বলতে পারে না। আমাদের জীবনে অনেক পরিকল্পনাই বাস্তবায়িত হয় না। আবার কোনও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সিদ্ধান্ত নিতে যত তথ্য উপাত্ত প্রয়োজন তার খুব কমই আমাদের বিবেচনায় আনা সম্ভব হয়। বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের গতিপ্রকৃতির মধ্যে আমাদের অবস্থান কাপড়ের বুননের সুতার মতোই। আমাদের জীবনের ঘটনাপ্রবাহ এক বৃহৎ দক্ষযজ্ঞের অংশ। শিমুলের তুলোর বাতাসে ওড়ার মতো নিজেকে সময়ের পরিক্রমায় ভাসিয়ে দিতে পারলে কোনও কিছু নিয়েই কোনও ব্যগ্রতা থাকবে না। ফলে চিন্তা-ভাবনা স্বচ্ছ ও স্থির থাকবে এবং আপনি যথাসময়ে যথোপযুক্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে সক্ষম হবেন। আপনার নিজের অনুভূতি এবং চাহিদাগুলো মূল্যায়ন করুন। আপনার মন আপনাকে যেদিকে পরিচালিত করতে চায় সেদিকেই চলুন। আপনি চাইলে আপনার পরিবার এবং ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের সাথে আলোচনা করতে পারেন। তারা আপনাকে তাদের দৃষ্টিকোণ থেকে বিভিন্ন পরামর্শ দিতে পারবেন।
প্রশ্ন: আমার বয়স ৩৮ বছর। এক বছরের বেশি হলো ডিভোর্স হয়েছে স্ত্রীর সঙ্গে। সমস্যা হচ্ছে আমি কোনোভাবেই মুভ অন করতে পারছি না। প্রাক্তন স্ত্রীকে সবসময় সোশ্যাল মিডিয়ায় অনুসরণ করি। বিবাহিত সময়ের কথা মনে পড়ে। নতুন জীবনের কথা ভাবতেও পারি না। দিনে দিনে হতাশা চরম মাত্রায় পৌঁছেছে। কীভাবে স্বাভাবিক জীবনে ফিরব?
উত্তর: আপনি এখন যে মানসিক অবস্থার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছেন তা খুবই স্বাভাবিক। আপনজনের সঙ্গে বিচ্ছেদ আমাদের মস্তিষ্কে অঙ্গহানির অনুভূতি তৈরি করে। এই বেদনাদায়ক অনুভূতি প্রশমিত হতে গড়পড়তা দুই বছর সময় নেয়। সুতরাং সময়ের সাথে সাথে আপনার প্রাক্তন স্ত্রীর স্মৃতিগুলোও ম্লান হয়ে যাবে। এটি একটি প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া। এই প্রক্রিয়াকে সহনীয় করতে এগুলো (যেমন সোশ্যাল মিডিয়াতে প্রাক্তন স্ত্রীকে ফলো করা বা স্টকিং) থেকে জোরপূর্বক নিজেকে সরিয়ে রাখার চেষ্টা করে কোনও লাভ হবে না। বরং নিজের মনোযোগকে অন্য আকর্ষণীয় বিভিন্ন বিষয়ে ধাবিত করার চেষ্টা করুন যেমন, বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয় বা কাছের মানুষদের সাথে সময় কাটানো, নতুন বা পুরনো কোনো শখে বা শৌখিন পেশায় মনোনিবেশ করা, নতুন জায়গায় ঘুরতে যাওয়া, নতুন মানুষের সাথে পরিচিত হওয়া, নিয়মিত ব্যায়াম করা, সুষম খাদ্য গ্রহণ করা, পর্যাপ্ত ঘুমানো ইত্যাদি।