প্রশ্ন: আমার বয়স ১৯ বছর। ওজন নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে আমার মধ্যে কিছুটা অসুস্থতা দেখা দিয়েছে বলে মনে হচ্ছে। আমি আতংকে স্বাভাবিক খাবার খেতে পারি না এখন, শুধু মনে হয় এই বুঝি ওজন বেড়ে গেল। এমনকি কোনও একবেলা সামান্য বেশি খাওয়া হয়ে গেলে গলায় আঙুল দিয়ে বমি করি। দিন দিন আমি দুর্বল এবং অসুস্থ হয়ে যাচ্ছি। কিন্তু কোনোভাবেই এই আতংক থেকে বের হতে পারছি না।
উত্তর: অ্যানোরেক্সিয়া নার্ভোসা রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিরা অতিরিক্ত ওজন কমানোর জন্য নিজেকে ইচ্ছাকৃতভাবে খাবার থেকে বঞ্চিত করেন। বুলিমিয়া নার্ভোসা রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিরা মাঝেমধ্যেই অত্যধিক খাদ্য গ্রহণ করে ফেলেন এবং পরবর্তীতে শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণ করতে গলায় আঙুল দিয়ে বমি করেন, জোলাপ সেবন করেন অথবা অতিরিক্ত ব্যায়াম করেন। আপনার মধ্যে উভয় ধরনের খাদ্যাভ্যাস সংক্রান্ত মানসিক রোগের বৈশিষ্ট্য রয়েছে। আপনি যে আতঙ্ক এবং অসুস্থতা অনুভব করছেন, তা থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি-
১) শিথিলতা ও মনঃসংযোগ: যোগব্যায়াম, মেডিটেশন, শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম বা অন্য যে কোনও শিথিলতা পদ্ধতির মাধ্যমে আপনার মানসিক চাপ কমানোর চেষ্টা করুন।
২) খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন: শর্করা জাতীয় খাবার এড়িয়ে চলুন এবং আমিষ ও স্নেহজাতীয় খাবার বেশি গ্রহণ করুন। ফ্যাট এডাপ্টেশন এবং ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং শুরু করুন।
৩) সমর্থন গ্রুপ: বিবিধ অনলাইন সমর্থন গ্রুপের সঙ্গে সংযুক্ত হওয়ার চেষ্টা করুন যারা একই ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। তাদের অভিজ্ঞতা থেকে আপনি উপকার পেতে পারেন।
৪) পেশাদার সহায়তা: আপনার অবস্থা যদি দিনের পর দিন খারাপ হয়ে যায়, তবে একজন মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ (যেমন মনোরোগ বিশেষজ্ঞ বা সাইকোলজিস্ট) এর সঙ্গে পরামর্শ করা গুরুত্বপূর্ণ।
প্রশ্ন: আমার বয়স ৩১ বছর। দীর্ঘ ১৩ বছর ধরে যে মেয়ের সঙ্গে আমার সম্পর্ক, হুট করেই সে এই সম্পর্ক রাখতে চাইছে না। কিন্তু ওকে ছাড়া আমি জীবনে কী করবো সেটা ভাবতেও আমার ভয় হয়। আমরা বলতে গেলে এক সঙ্গেই বড় হয়েছি, হাজার হাজার স্মৃতি। কোনও নির্দিষ্ট কারণে সে সম্পর্ক রাখতে চাইছে না এমন নয়, তার কথা হচ্ছে অনেকদিন ধরেই আমাদের বনিবনা হচ্ছে না। সে বলছে এই সম্পর্ক ভবিষ্যতে সফল হবে না। আমি কি কোনোভাবেই ওকে ধরে রাখতে পারবো না? আমি রাতের পর রাত ঘুমাই না। মনে হয় আত্নহত্যা করা ছাড়া আমার পথ নেই।
উত্তর: প্রিয়জন বিচ্ছেদের আশঙ্কা গভীর মানসিক ক্ষত তৈরি করে। জীবনে এ ধরনের ঘটনা ঘটাই স্বাভাবিক। আবেগের কারণে সেটা মেনে নিতে কষ্ট হওয়াটাও স্বাভাবিক। একই কারণে মনে আত্মহত্যার চিন্তা তৈরি হয়ে থাকে। এসব থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার জন্য নিচের পরামর্শ গুলো মেনে চলুন।
১) কষ্টকে জীবনের অপরিহার্য অংশ হিসেবে বিবেচনা করুন: কষ্টকে এড়ানোর চেষ্টা না করে জীবনের অপরিহার্য অংশ হিসেবে হিসেবে আলিঙ্গন করুন এবং জীবনযুদ্ধের প্রশিক্ষণ হিসেবে গ্রহণ করুন। তাহলে কষ্টের তীব্রতা এবং আত্মহত্যার প্রবণতা দুটোই কমে যাবে।
২) সামাজিক সমর্থন নিন: আপনার অনুভূতি এবং মানসিক অবস্থা নিয়ে আপনার বন্ধুবান্ধব, আত্মীয় স্বজন ও শুভানুধ্যায়ীদের সাথে কথা বলুন। তাদের সহানুভূতি আপনাকে এ ধরনের সময় পার করতে সাহায্য করবে।
৩) নিজের যত্ন নিন: নিজের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন নিন। নিয়মিত ব্যায়াম করুন, স্বাস্থ্যকর খাবার খান এবং পর্যাপ্ত ঘুমান। ব্রিদিং এক্সারসাইজ করুন। প্রতিদিন পনেরো মিনিট থেকে আধঘণ্টা সময় খালি পায়ে মাটিতে বা ঘাসের উপর হাঁটুন বা দাঁড়িয়ে থাকুন।
৪) বিশেষজ্ঞ পরামর্শ নিন: আপনি যদি মনে করেন যে আপনার পরিস্থিতি মোকাবিলা করা কঠিন হয়ে পড়ছে, বা আত্মহত্যার ঝুঁকি রয়েই যাচ্ছে, তাহলে অনতিবিলম্বে একজন মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের সাথে আলোচনা করুন।