‘আমি প্রাক্তন প্রেমিকার সঙ্গে অন্যায় করেছি’

প্রশ্ন: আমার বয়স ৩৬ বছর। ক্যারিয়ার পরিবার সব কিছু নিয়ে ভালোই আছি। কিন্তু অন্যের সাফল্য দেখলে কেমন যেন অস্থিরতা কাজ করে আমার। এমন না যে হিংসা করছি। কিন্তু আমিও কেন তার মতো সাফল্য পেলাম না সেটা হিসাব করতে বসি। যদি মনে হয় আমারও সু্যোগ ছিল কিন্তু কাজে লাগাইনি তাহলে আমার সারাদিন মন খারাপ থাকে। কীভাবে এই সমস্যা থেকেবের হবো?

উত্তর: ১) মাইন্ডফুলনেস অনুশীলন করুন: অতীতের সুযোগ হারানোর জন্য দুঃখিত হওয়া বা ভবিষ্যতের সাফল্য নিয়ে চিন্তা করা আমাদের বর্তমানকে উপভোগ করতে বাধা দেয়। তাই অতীত বা ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তা না করে বর্তমান মুহূর্তে এবং বর্তমান পরিবেশ-পরিস্থিতিকে পরিপূর্ণভাবে উপলব্ধি করুন এবং নিজের চিন্তা ও অনুভূতিগুলোকে নিরপেক্ষভাবে পর্যবেক্ষণ করুন।

২) নিজেকে আত্মস্থ করুন: আমরা যখন নিজেদেরকে অন্যদের সাথে তুলনা করি, তখন আমরা নিজেদের প্রকৃত সৌন্দর্য এবং ক্ষমতাকে অবমূল্যায়ন করি। আমাদের নিজেদেরকে যেমন আছি তেমনই গ্রহণ করা উচিত। প্রতিটি মানুষই অসাধারণ এবং অনন্য! কেউই কারোর সাথে তুলনীয় নয়। তাই নিজের প্রতি সদয় হোন এবং নিজের সাফল্য ও ব্যর্থতাকে জীবনের অংশ হিসেবে গ্রহণ করুন।

৩) নিজের সাফল্যকে মূল্যায়ন করুন: আপনি ইতোমধ্যে অনেক কিছু অর্জন করেছেন এবং আরও অনেক কিছু অর্জন করতে পারবেন। আপনার জীবনে ইতিমধ্যে যে সাফল্যগুলো অর্জন করেছেন সেগুলোকে গুরুত্ব দিন। ছোট ছোট অর্জনগুলোও উদযাপন করুন।

৪) নিজের আবেগ-অনুভূতিকে ভালোবাসুন: আপনার সকল আবেগ-অনুভূতি আপনারই অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাই এদেরকে ভালো বা মন্দ এরকম বিচার না করে নিরপেক্ষ ভাবে আপন করুন। নিজের মধ্যে তথাকথিত নেতিবাচক চিন্তাভাবনা বা আবেগ অনুভূতি তৈরি হলে সেটাকে ঠিক সেভাবেই গ্রহণ করুন কোন রকম বাধা না দিয়ে আনন্দের সাথে এবং ভালোবাসার মাধ্যমে।  

প্রশ্ন: আমার বয়স ৩২ বছর। দীর্ঘদিন প্রেমের পরেও শেষ পর্যন্ত পরিবারের পছন্দে বিয়ে করেছি আমি। এই নিয়ে আমার অপরাধবোধ কাজ করে। আমি প্রাক্তন প্রেমিকার সঙ্গে অন্যায় করেছি। তার কোনও দোষ ছিল না। আমারই পরিবারের বিপক্ষে যাওয়ার সাহস হয়নি। এখন সমস্যা হচ্ছে আমার জীবনে কোনও দুঃখ আসলেই আমার মনে হয় এটা আমার সেই পাপের ফল। আমি সারাক্ষণ হীনমন্যতায় ভুগি। কীভাবে এটা কাটিয়ে উঠব? প্রাক্তন প্রেমিকার সংগে আমার কোনও যোগাযোগ নেই।

উত্তর: ১) বর্তমানকে গুরুত্ব দিন: অতীতের ভুল বা ভবিষ্যতের চিন্তা আমাদের বর্তমানকে নষ্ট করে। সুতরাং আপনার অতীতের ভুলগুলোকে ছেড়ে দিয়ে বর্তমানকে গুরুত্ব দিন এবং বর্তমান মুহূর্তে বাঁচুন। অতীতের আপনি এবং বর্তমানের আপনি এক নন। আপনার জীবনের এবং বর্তমান সম্পর্কগুলোর প্রতি পরিপূর্ণ মনোযোগ দিন এবং তাদের পরিচর্যা করুন। জীবনকে নতুনভাবে শুরু করুন এবং ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যান। অতীতে যা কিছু ঘটেছে তা প্রাকৃতিকভাবে সেই সময়ে সংঘটিত হওয়ার ছিল বলেই হয়েছে।

২) নিজের প্রতি সহানুভূতিশীল হোন: অপরাধবোধ আমাদের মানসিক শান্তি নষ্ট করে, অন্যের সাথে সুসম্পর্ক তৈরি করতে বাধা দেয় এবং কর্মদক্ষতা কমিয়ে দেয়। অপরাধবোধ থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য নিজেদের সকল কৃতকর্মকে প্রাকৃতিক নিয়মে সংঘটিত হয়েছে, এরকম মনে করুন। অনুশোচনা থেকে নিজেকে মুক্ত করতে পারলেই কেবলমাত্র আমরা অন্যদের প্রতি সহানুভূতিশীল হতে পারব।

৩) শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম করুন: মনে মনে ১ থেকে ৪ পর্যন্ত গুনতে গুনতে নাক দিয়ে ধীরে ধীরে শ্বাস নিন। এরপর মনে মনে ১ থেকে ৪ পর্যন্ত গুনতে গুনতে শ্বাস ধরে রাখুন। সবশেষে মনে মনে ১ থেকে ৬ পর্যন্ত গুনতে গুনতে নাক দিয়ে ধীরে ধীরে শ্বাস ছাড়ুন। শ্বাস ছাড়ার সময় আপনার পেট ভিতরের দিকে টেনে নিন যাতে ফুসফুসের নিচের অংশে আটকে থাকা বাতাস নাক দিয়ে বেরিয়ে যেতে পারে। এই শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম আপনি যখনই মনে করবেন তখনই কয়েকবার করতে পারেন।

৪) প্রকৃতির সাহচর্যে থাকুন: প্রতিদিন অন্তত ১৫ থেকে ৩০ মিনিট খালি পায়ে ঘাস বা মাটির উপর হাঁটুন বা দাঁড়ান। অথবা বড় কোনও গাছের কাণ্ড জড়িয়ে ধরে রাখুন (ট্রি হাগিং) কিছু সময়ের জন্য। এটি আপনার শরীরের সাথে প্রকৃতির সরাসরি সংযোগ স্থাপন করে এবং আপনাকে মাটির সাথে সংযুক্ত হতে সাহায্য করে।