মিলিন্দ সোমানের ফিটনেসের রহস্য জানেন?

বলিউডের সুপারমডেল থেকে শুরু করে জাতীয় স্তরের সাঁতারু—মিলিন্দ সোমানের পরিচয় কেবল একজন অভিনেতা নন, বরং ফিটনেসের এক অনুপ্রেরণা যেন তিনি। ছোটবেলা থেকেই খেলাধুলার সঙ্গে তার গভীর সম্পর্ক। মাত্র ছয় বছর বয়সে সাঁতার শেখা শুরু করেন তিনি। কিশোর বয়সেই জাতীয় পর্যায়ে সাফল্য অর্জন করেন। বয়স যখন ৫০ পেরিয়েছে, তখনও তিনি সহজেই ‘আয়রনম্যান’ ট্রায়াথলন সম্পন্ন করে প্রমাণ করেছেন যে ফিটনেস ক্যালেন্ডারের তারিখে থেমে থাকে না।

মিলিন্দের ফিটনেস দর্শনের মূল কথা হলো—সহজতা ও ধারাবাহিকতা। তার ফিটনেস ঘন্টার পর ঘন্টা জিমে কাটানো বা জটিল মেশিন নির্ভর নয়। প্রতিদিন মাত্র ১০-১৫ মিনিট ব্যায়াম করেই তিনি নিজের শরীরকে ফিট রাখেন। পুশ-আপ, পুল-আপ, ক্রাঞ্চ, হ্যান্ডস্ট্যান্ড বা মাডগরের মতো প্রথাগত ব্যায়াম তার দৈনন্দিন রুটিনের অংশ। ভ্রমণ বা তুষারঢাকা পাহাড়—যেখানেই থাকুন না কেন, তিনি ব্যায়াম বাদ দেন না। তার মতে, নিয়মিত চলাফেরা—হাঁটা, দৌড়, সাইক্লিং—শরীরকে সক্রিয় রাখার সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

খাদ্যাভ্যাসেও মিলিন্দের দর্শন সাদামাঠা ও সচেতন। প্রক্রিয়াজাত খাবারের পরিবর্তে তিনি বেছে নেন স্থানীয় ও ঋতুভিত্তিক উপাদান। লিন প্রোটিন, শস্য, তাজা ফল, শাক-সবজি ও স্বাস্থ্যকর চর্বি তার প্লেটে থাকে প্রতিদিন। চা বা কফির বদলে দিনের শুরু করেন তাজা ফলের রস দিয়ে, এবং প্রচুর পানি পান করেন। দীর্ঘ সাইক্লিং বা ম্যারাথনের মতো শারীরিক কসরতের মাঝেও তিনি এই সাদামাটা ডায়েট মেনে চলেন।

তার জন্য ফিটনেস কেবল শরীরের শক্তি বা চেহারার সৌন্দর্য নয়, বরং মানসিক ভারসাম্য ও জীবনযাপনের মান উন্নয়নের এক পথ। যোগ, ধ্যান এবং পর্যাপ্ত বিশ্রামও তার রুটিনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। আরও বড় কথা, তিনি এই ফিটনেস চেতনা পরিবারেও ছড়িয়ে দিয়েছেন। প্রায়ই দেখা যায়, তার মা ইউশা সোমান—যার বয়স ৮৬—দড়ি লাফ খেলছেন বা যোগব্যায়াম করছেন। মিলিন্দের মতে, বয়স কোনও সীমা নয়, বরং ফিটনেস হলো প্রতিদিনের সচেতন অভ্যাসের ফল। 

তথ্যসূত্র: দ্য হেলথ সাইট ডটকম, এনডিটিভি, হিন্দুস্তান টাইমস