ইটকাঠের এই শহরে দিন দিন সবুজ কমছে। নাগরিক মন একটু সবুজের জন্য সুযোগ হলেই ঢাকা ছাড়তে চায়। কিন্তু নিজের ঘর কীভাবে বাসযোগ্য করা যায় সেটা ভাবতে গিয়ে গাছের আয়োজন এখন সবার জন্যই। ঘরের জানালায়, আসবাবেব মাথায়, বারান্দায় এখন সবুজের সমারোহ। কিন্তু জানেন কি ঘরের গাছের পরিচর্যা বাইরের গাছের থেকে কতটা ভিন্ন?
দরকার পর্যাপ্ত আলো
অনেকেই অভিযোগ করেন, ঘরের ভেতর গাছ ভালো লাগলেও সেটা বেশি দিন বাঁচিয়ে রাখা যায় না। নার্সারিতে যারা গাছের প্রাথমিক জীবন নিয়ে কাজ করেন তারা বলছেন, বেশিরভাগ ইনডোর গাছের জন্য প্রাকৃতিক আলো খুব জরুরি, সেটা আমাদের মাথায় থাকে না। এমনকি বাসায় যদি পর্যাপ্ত আলো-বাতাস না থাকে তাহলে প্রয়োজনে কৃত্রিম আলোর ব্যবস্থা করতে হবে। তবে সেটা অবশ্যই বুঝে-শুনে বিশেষজ্ঞ জনদের পরামর্শ নিয়ে।
পানি দিতে হবে পরিমাপ মতো
নার্সারির পরিচর্যাকারী মান্নান বলেন, প্রয়োজন অনুযায়ী পানি দিন, অতিরিক্ত পানি যেন না হয়। মাটি শুকনো মনে হলে পানি দিতে হবে। গাছের পাতা মাঝে মাঝে স্প্রে করে ভিজিয়ে দিন, গাছকে সময় দিতে হবে। ধুলো জমলে পাতার ফটোসিনথেসিস কমে যায়, তাই ভেজা কাপড় দিয়ে পাতাগুলো মুছে দিন।
এই গাছেও সার লাগে
খাবার না দিলে অনেক গাছ বেড়ে ওঠে না, পাতা নষ্ট হয়, ভেতরে ভেতরে গোড়া পচে যায়, যা বাইরে থেকে দেখা যায় না। হুট করে দেখা যায় গাছ মরে গেছে। প্রতি দুই-তিন মাস পর পর লিকুইড সার বা স্লো-রিলিজ ফার্টিলাইজার ব্যবহার করতে হবে। আশেপাশের যেকোনও নার্সারি থেকে জেনেও নিতে পারেন। তারা কোনও পারিশ্রমিক ছাড়াই পরামর্শ দিয়ে থাকেন।
এসবের পরও যে কাজটি আপনাকে অবশ্যই করতে হবে তা হলো প্রতি এক-দু বছর পর পর গাছের আকার অনুযায়ী বড় পাত্রে স্থানান্তরিত করতে হবে। নতুন পাত্রে ভালো মানের মাটি ও কম্পোস্ট ব্যবহারের পরে সেটার সঙ্গে গাছকে মানিয়ে নিতে সময় দিন।