যেখানে বাড়ির অংশ গাছ-পাথর-জলধারা, সুনীল শেট্টীর ‘জাহান’ যেন জীবন্ত বনভূমি

বাড়ি মানেই কি শুধু দামি আসবাব, ঝলমলে ঝাড়বাতি আর বিলাসী সাজসজ্জা? বলিউড অভিনেতা সুনীল শেট্টী দেখিয়ে দিয়েছেন, প্রকৃতিকে সঙ্গী করেও তৈরি করা যায় স্বপ্নের বাড়ি।

মুম্বইয়ের কোলাহল থেকে দূরে মহারাষ্ট্রের খন্ডালায় তার খামারবাড়ি ‘জাহান’ যেন কোনও বিলাসবহুল রিসর্ট নয়, বরং পাহাড়ের কোলে লুকিয়ে থাকা এক জীবন্ত অরণ্য। গাছপালা, পাথর, জলধারা আর প্রাকৃতিক উপাদান দিয়েই সাজানো হয়েছে এই বাড়ি।

সবচেয়ে চমকপ্রদ বিষয় হলো, বাড়ি তৈরির সময় একটি গাছও কাটা হয়নি। বরং যে গাছ যেখানে ছিল, সেখানেই রেখে তার চারপাশে তৈরি করা হয়েছে ঘর। অনেক গাছ আবার ছাদ ভেদ করে উঠে গেছে উপরে।

ঘরের নিচ দিয়ে বয়ে যায় ঝরনা

সুনীল শেট্টীর বাড়ির সবচেয়ে আকর্ষণীয় বৈশিষ্ট্যগুলোর একটি হলো, বাড়ির ভেতর দিয়েই বয়ে যাওয়া প্রাকৃতিক জলধারা।

মেঝের নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয় ঝরনার জল। বসার ঘর তৈরি করা হয়েছে সেই জলধারার ওপরেই। পাহাড় থেকে গড়িয়ে আসা বিশাল পাথরও সরানো হয়নি। বরং সেগুলোকেই বাড়ির অন্দরসজ্জার অংশ করে তোলা হয়েছে।

যেখানে সাধারণ বাড়িতে শো-পিস হিসেবে থাকে দামি শিল্পকর্ম, সেখানে সুনীলের বাড়ির সৌন্দর্য বাড়িয়েছে প্রকৃতির নিজস্ব উপহার—গাছ, পাথর আর জল।

প্রকৃতির সঙ্গে মিশে থাকা ‘বায়োফিলিক’ নকশা

সুনীল শেট্টীর বাড়ির নকশায় রয়েছে বায়োফিলিক ডিজাইন। অর্থাৎ, মানুষের জীবনযাপনের সঙ্গে প্রকৃতিকে মিলিয়ে দেওয়ার ধারণা।

এই ধরনের নকশায় ঘরের মধ্যে গাছপালা, প্রাকৃতিক আলো, কাঠ, পাথর, জল এবং সবুজের ব্যবহার করা হয়। বর্তমানে বিশ্বজুড়ে এই ধরনের স্থাপত্য জনপ্রিয় হলেও, সুনীল শেট্টী অনেক আগেই নিজের বাড়িতে এই ধারণার প্রয়োগ করেছিলেন।

বাড়ির প্রতিটি ঘরে রয়েছে কাঠ, ইট ও পাথরের ব্যবহার। রং হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে সাদা, সবুজ ও বাদামির মতো প্রাকৃতিক আবহ তৈরি করা রং।

বোতাম টিপলেই খুলে যায় ছাদ

এই বাড়ির আরও একটি অভিনব বৈশিষ্ট্য হলো ‘রিট্র্যাক্টেবল’ ছাদ।

একটি বোতাম চাপলেই ছাদ খুলে যায়। ফলে রাতের আকাশ, তারা কিংবা চাঁদের আলো উপভোগ করা যায় ঘরের সোফায় বসেই।

প্রকৃতির নিয়মেই চলে বাড়ির জলব্যবস্থা

পাহাড় ঘেরা এই বাড়িতে বৃষ্টির জল সংরক্ষণের বিশেষ ব্যবস্থা রয়েছে। বর্ষার সময়ে বৃষ্টির জল ও ঝরনার জল স্বাভাবিক প্রবাহে চলাচল করে এবং তৈরি করে প্রাকৃতিক জলধারা।

অতিরিক্ত জল ধরে রাখার ব্যবস্থাও রয়েছে বাড়িতে, যা পরিবেশবান্ধব জীবনযাপনের উদাহরণ।

বিলাসিতা নয়, প্রকৃতিই এই বাড়ির আসল সৌন্দর্য

সুনীল শেট্টী জানিয়েছেন, জমিটি কেনার সময় সেখানে থাকা বড় বড় পাথর সরানো হয়নি। পাহাড় থেকে গড়িয়ে আসা সেই পাথরগুলোই এখন বাড়ির অন্দরসজ্জার অংশ।

বাগানে রয়েছে শাকসবজি চাষের ব্যবস্থাও। কৃত্রিম চাকচিক্যের বদলে প্রকৃতির রূপ, গন্ধ ও স্পর্শকে গুরুত্ব দিয়েছেন অভিনেতা।

মুম্বইয়ের তারকাদের ঝলমলে প্রাসাদের মতো নয় সুনীল শেট্টীর ‘জাহান’। কিন্তু প্রকৃতির সঙ্গে এমন নিবিড় সম্পর্কই এই বাড়িকে করে তুলেছে অনন্য।

এই বাড়িতেই মেয়ে অথিয়া শেট্টী ও ক্রিকেটার কেএল রাহুলের বিয়ের অনুষ্ঠান হয়েছিল। আর সেই কারণেই নয়, প্রকৃতিকে ঘরের অংশ করে তোলার অসাধারণ ভাবনার জন্যও ‘জাহান’ আজ আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।