হাসতে মানা নেই, আজ যে রসিকতা দিবস!

‘মুরগি রাস্তা পার হলো কেন?’—এমন প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে কখনও কি ভেবেছেন, এর পেছনে আসলে কোনও গুরুতর কারণ নেই? কিংবা ‘নক নক!’ শুনে দরজা খোলার আগেই যদি হাসি পেয়ে যায়, তাহলে বুঝতে হবে কৌতুকের জাদু কাজ করছে।

হাসি, রসিকতা আর মজার কথাকে উদ্‌যাপন করার জন্য রয়েছে বিশেষ একটি দিন—‘টেল এ জোকস ডে’, বাংলায় যাকে বলা যায় রসিকতা দিবস বা কৌতুক বলার দিবস। এটি এপ্রিল ফুল দিবসের মতো প্র্যাঙ্ক করার দিন নয়। বরং প্রিয়জনদের সঙ্গে কৌতুক ভাগ করে নেওয়া, হাসা এবং অন্যকে হাসানোর উপলক্ষ।

হাসির জন্য একটি দিন!

জীবনযাত্রার ব্যস্ততায় হাসির মুহূর্ত যেন দিন দিন কমে যাচ্ছে। কাজ, পড়াশোনা, দায়িত্ব আর নানা চিন্তার ভিড়ে একটু হাসি-ঠাট্টা তাই মনকে বেশ হালকা করে দিতে পারে। আর রসিকতা দিবস সেই সুযোগটাই সামনে এনে দেয়।

একটি ভালো কৌতুক যেমন আড্ডার পরিবেশ জমিয়ে তুলতে পারে, তেমনি নতুন মানুষের সঙ্গে পরিচয়ের সময়ও বরফ গলাতে সাহায্য করতে পারে। কারও মন খারাপ? একটি মজার কৌতুক হয়তো তার মুখে হাসি ফিরিয়ে দিতে পারে।

হাসির সঙ্গে শারীরিক ও মানসিক সুস্থতারও নানা সম্পর্ক রয়েছে। হাসি মানসিক চাপ কমাতে, ভালো লাগার অনুভূতি বাড়াতে এবং শরীরে এন্ডোরফিন নিঃসরণে ভূমিকা রাখতে পারে। তাই হাসার সুযোগ যখন পাওয়া যায়, সেটি হাতছাড়া করার কারণই বা কী!

ভালো কৌতুকের আসল রহস্য

কৌতুক হতে পারে মৌখিক কিংবা লিখিত। তবে ভালো কৌতুকের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো তার পাঞ্চলাইন—অর্থাৎ শেষের সেই কথা, যা পুরো কৌতুকের মজাটিকে প্রকাশ করে।

একটি ভালো কৌতুক সাধারণত খুব বেশি দীর্ঘ হয় না। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত এমনভাবে বলা হয়, যাতে শ্রোতা শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত বুঝতে না পারেন আসল মজা কোথায়। তারপর আসে পাঞ্চলাইন—আর তখনই হাসির বিস্ফোরণ!

ভাষাবিদ রবার্ট হেটজরনের ব্যাখ্যাতেও কৌতুকের এই বৈশিষ্ট্য উঠে এসেছে। তার মতে, কৌতুকের হাস্যরস শেষ বাক্যে গিয়ে চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছায়। তাই পাঞ্চলাইনের আগে অতিরিক্ত ব্যাখ্যা দিয়ে সেই মজাটিকে নষ্ট না করাই ভালো।

কৌতুককে আবার বেশি সিরিয়াস কেন

কৌতুক বলার সময় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—নিজেকে খুব বেশি সিরিয়াস না নেওয়া। কৌতুক বলতে গিয়ে ভুল হয়ে গেলো? সমস্যা নেই। পাঞ্চলাইন ঠিকমতো দিতে পারলেন না? তাতেও ক্ষতি নেই। বরং আপনার ভুলেই যদি সবাই হেসে ওঠে, তাহলে উদ্দেশ্য তো পূরণই হলো।

আবার আপনি যে কৌতুকে হেসে গড়াগড়ি খাচ্ছেন, অন্যজন সেটি শুনে একটুও না হাসতে পারেন। কারণ সবার রসবোধ এক নয়। তাই নিজের কৌতুক নিয়ে আত্মবিশ্বাসী থাকুন এবং অন্যের ভিন্ন রুচিকেও সম্মান করুন।

ইতিহাসেও রয়েছে কৌতুকের ছোঁয়া

টেল এ জোকস ডের নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠাতা বা শুরুর সাল সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য নেই। দিবসটি কোনও সরকারের আনুষ্ঠানিক সরকারি ছুটিও নয়। তবে কৌতুকের ইতিহাস যে বহু পুরোনো, তা নিয়ে সন্দেহ নেই।

হাস্যরসের প্রাচীন নিদর্শনের কথা বলতে গিয়ে প্রায় খ্রিস্টপূর্ব ১৯০০ সালের সুমেরীয় সভ্যতার একটি কৌতুকের উদাহরণ প্রায়ই উল্লেখ করা হয়। সেটি ছিল এমন এক ধরনের রসিকতা, যা আজকের ভাষায় বললে বেশ ‘পাদ-সংক্রান্ত’!

অর্থাৎ, হাজার হাজার বছর আগে মানুষ যেমন হাসতো, আজও তেমনই হাসে। শুধু কৌতুকের ধরন বদলেছে!

কীভাবে উদ্‌যাপন করবেন

রসিকতা দিবস উদ্‌যাপনের জন্য খুব বেশি আয়োজনের প্রয়োজন নেই। বন্ধুদের সঙ্গে বসে কয়েকটি মজার কৌতুক বলতে পারেন। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে পুরোনো মজার গল্প শেয়ার করতে পারেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পছন্দের কৌতুক পোস্ট করেও অন্যদের হাসাতে পারেন।

চাইলে অনলাইনে বিভিন্ন ধরনের কৌতুক পড়তে পারেন কিংবা কৌতুকের বই ঘাঁটতে পারেন। তবে কৌতুক বাছাইয়ের সময় শ্রোতা ও পরিবেশের কথা মাথায় রাখাই ভালো।

আর একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিজে হাসুন, অন্যকেও হাসান। কারণ একটি ভালো কৌতুকের সবচেয়ে বড় সাফল্য হলো, সেটি শোনার পর মানুষের মুখে হাসি ফুটে ওঠা।

হাসিই হোক দিনের মূল আয়োজন

রসিকতা দিবস আসলে আমাদের মনে করিয়ে দেয়, জীবনের সবকিছু সবসময় গম্ভীরভাবে নেওয়ার প্রয়োজন নেই। মাঝে মাঝে কাজের চাপ, দুশ্চিন্তা আর ব্যস্ততা থেকে একটু দূরে গিয়ে হাসতে হয়, মজা করতে হয়।

একটি ছোট্ট কৌতুক হয়তো পৃথিবী বদলে দেবে না। কিন্তু সেটি কারও খারাপ দিনকে ভালো করে দিতে পারে, বন্ধুত্বের আড্ডাকে আরও জমিয়ে তুলতে পারে কিংবা অপরিচিত দুজন মানুষের মধ্যে কথাবার্তার শুরুটা সহজ করে দিতে পারে।

তাই এই দিনে পকেটে রাখুন দু-একটি ভালো কৌতুক, সুযোগ পেলেই শুনিয়ে দিন। অন্যের কৌতুকেও প্রাণ খুলে হাসুন। কারণ হাসি ভাগ করলে কমে না, বরং বাড়ে।