চকলেটপ্রেমী হয়েও ৪৭-এ ফিট ইমরান হাশমি, কী তার ডায়েটের রহস্য

৪৭ বছর বয়সেও ইমরান হাশমির ফিটনেস নজর কাড়ছে ভক্তদের। সম্প্রতি মুক্তি পেয়েছে তাঁর অভিনীত ‘আওরাপন ২’। ছবিতে তার অভিনয়ের পাশাপাশি আলোচনায় এসেছে ছিপছিপে ও পেশিবহুল শরীর। কীভাবে নিজেকে এমন ফিট রাখেন অভিনেতা? সাবেক ব্যক্তিগত প্রশিক্ষক রাহুল ভাটের সঙ্গে এক আলাপচারিতায় উঠে এসেছে তাঁর শরীরচর্চা ও খাদ্যাভ্যাসের কিছু দিক।

ইমরানের ফিটনেস রুটিনে ওয়ার্ম-আপকে দেওয়া হয় গুরুত্ব। রাহুল ভাট জানান, তিনি প্রায় সাত মিনিট ওয়ার্ম-আপ করেন। ব্যায়ামের আগে শরীর প্রস্তুত না করে সরাসরি কঠিন ওয়ার্কআউটে চলে যাওয়া ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

রাহুলের মতে, শুধু ট্রেডমিলে হাঁটা বা দৌড়ে শরীরের তাপমাত্রা বাড়ানোই যথেষ্ট নয়। এতে মূলত পায়ের পেশি সক্রিয় হয়। তাই ব্যায়ামের আগে শরীরের প্রয়োজনীয় অংশগুলোকে প্রস্তুত করে নেওয়া জরুরি।

ওয়ার্কআউটের সময় ইমরানকে বেঞ্চে বসে ডাম্বেল দিয়ে ব্যায়াম করতে দেখা যায়। তাকে ৫০টি রিপিটিশন করতে বলেন রাহুল। পরে দাঁড়িয়ে ডাম্বেল ব্যবহারের কৌশলও দেখান অভিনেতা।

ইমরান এক হাতে ডাম্বেল নিয়ে ভারসাম্য বজায় রেখে ওজন তোলার পদ্ধতি অনুসরণ করেন। অভিনেতার ভাষ্য অনুযায়ী, তার ফিজিওথেরাপিস্ট ভারী ওজন তোলার ক্ষেত্রে একসঙ্গে দুই হাতে ডাম্বেল ব্যবহারের বদলে এই ধরনের ইউনিল্যাটারাল পদ্ধতির পরামর্শ দিয়েছেন।

রাহুলের মতে, দাঁড়িয়ে দুই হাতে একসঙ্গে ডাম্বেল তোলার ক্ষেত্রে চোট পাওয়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই নিজের শক্তি ও শারীরিক সক্ষমতা অনুযায়ী ওজন বেছে নিয়ে ব্যায়াম করাই গুরুত্বপূর্ণ।

শরীরচর্চায় নিয়ম মেনে চললেও খাবারের ক্ষেত্রে ইমরান একেবারে কঠোর নন। ব্যায়ামের সেটের ফাঁকে কথোপকথনের প্রথম পর্বে রাহুল ভাটের সঙ্গে আলাপচারিতায় অভিনেতা নিজেকে চকলেটপ্রেমী বলে উল্লেখ করেন। নতুন নতুন খাবার চেখে দেখতেও তার ভালো লাগে।

তবে তার খাদ্যাভ্যাসের মূল কথা হলো পরিমিতি। ইমরান জানান, ভারতীয় খাবারের বৈচিত্র্যের কারণে ডায়েট বা ক্যালোরি হিসাব করে চলা অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে।

রাহুলও মনে করেন, খাবারপ্রেমী একজন মানুষকে তার পছন্দের খাবার একেবারে ছেড়ে দিতে বলা বাস্তবসম্মত নয়। কোন খাবার শরীরের জন্য ভালো এবং কোনটি এড়িয়ে চলা উচিত, তা বুঝতে নিজের শরীরের প্রতিক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করা জরুরি।

ইমরানের ফিটনেস রুটিন থেকে একটি বিষয় স্পষ্ট যে, সুস্থ থাকার জন্য পছন্দের সব খাবার একেবারে বাদ দেওয়াই একমাত্র পথ নয়। বরং খাবারের পরিমাণ, পুষ্টিগুণ এবং নিজের প্রয়োজনের মধ্যে ভারসাম্য তৈরি করাই গুরুত্বপূর্ণ।

অর্থাৎ, চকলেটপ্রেমী হয়েও ফিট থাকা সম্ভব, যদি খাবারের ক্ষেত্রে থাকে পরিমিতি এবং শরীরচর্চায় থাকে নিয়মিততা। ইমরানের ফিটনেস দর্শনের মূল বার্তাটিও যেন সেখানেই, কঠোর নিষেধাজ্ঞার চেয়ে সচেতনতা ও ভারসাম্যই দীর্ঘমেয়াদি ফিটনেসের চাবিকাঠি।

সূত্র: এনডিটিভি