বর্ষা মানেই একদিকে স্বস্তির বৃষ্টি, অন্যদিকে চুল ও মাথার ত্বক নিয়ে বাড়তি দুশ্চিন্তা। আর্দ্র আবহাওয়ায় মাথার ত্বকে ঘাম ও তেল জমে যাওয়ার প্রবণতা বাড়ে। বৃষ্টির পানিতে চুল ভিজে গেলে অনেকেরই দেখা দেয় চুলকানি, খুশকি কিংবা চুল রুক্ষ হয়ে যাওয়ার সমস্যা। অতিরিক্ত আর্দ্র পরিবেশে মাথার ত্বকে ফাঙ্গাল সমস্যাও দেখা দিতে পারে।
এ সময়ে চুলকে শুধু সুন্দর দেখালেই হবে না, মাথার ত্বক পরিষ্কার ও শুষ্ক রাখার দিকেও নজর দিতে হবে। পাশাপাশি চুলের রুক্ষতা কমাতে ব্যবহার করতে পারেন কিছু সহজ ঘরোয়া প্যাক।
মেথি-দইয়ে চুলে আসুক কোমলতা
মেথি ও টক দইয়ের প্যাক বর্ষায় চুলের যত্নে ব্যবহার করতে পারেন। মেথিতে থাকা বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান চুলের যত্নে সহায়ক হতে পারে। অন্যদিকে টক দই চুল ও মাথার ত্বকে আর্দ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করে।
দুই টেবিল চামচ মেথি সারা রাত পানিতে ভিজিয়ে সকালে মিহি করে বেটে নিন। এর সঙ্গে তিন টেবিল চামচ টক দই মিশিয়ে মাথার ত্বক ও চুলে লাগান। ৩০ থেকে ৪০ মিনিট রেখে হালকা শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।
নিম-তুলসীর প্যাকে স্বস্তি মাথার ত্বকে
বর্ষায় মাথার ত্বকে চুলকানি বা অস্বস্তি হলে নিম ও তুলসী দিয়ে তৈরি প্যাক ব্যবহার করতে পারেন। এই দুই উপাদানের অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল বৈশিষ্ট্য মাথার ত্বকের পরিচর্যায় সহায়ক হতে পারে।
নিম ও তুলসীপাতা ভালো করে বেটে পেস্ট তৈরি করে মাথার ত্বকে লাগিয়ে ২০ থেকে ৩০ মিনিট অপেক্ষা করুন। এরপর হালকা শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। তবে মাথার ত্বকে সংক্রমণ, ক্ষত বা তীব্র চুলকানি থাকলে শুধু ঘরোয়া প্যাকের ওপর নির্ভর না করে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া ভালো।
ডিম-দইয়ের মাস্কে চুলে ফিরুক উজ্জ্বলতা
চুলের রুক্ষতা কমিয়ে নরম ও মসৃণ রাখতে ডিম ও টক দইয়ের মাস্কও ব্যবহার করা যায়। ডিমে থাকা প্রোটিন চুলের কন্ডিশনিংয়ে সহায়ক, আর দই চুলে কোমলতা আনতে সাহায্য করতে পারে।
একটি ডিমের সঙ্গে চার টেবিল চামচ টক দই মিশিয়ে ভালোভাবে ফেটিয়ে নিন। এবার চুলের গোড়া থেকে আগা পর্যন্ত লাগিয়ে প্রায় ৩০ মিনিট রেখে দিন। এরপর ভালোভাবে শ্যাম্পু করে ধুয়ে ফেলুন।
বর্ষায় চুল ভালো রাখতে আরও কিছু অভ্যাস
বৃষ্টিতে ভিজে গেলে যত দ্রুত সম্ভব চুল পরিষ্কার করে শুকিয়ে নেওয়া জরুরি। ভেজা চুল দীর্ঘক্ষণ বেঁধে বা মাথার ত্বক ভেজা অবস্থায় রেখে দিলে অস্বস্তি বাড়তে পারে। চুলে অতিরিক্ত তেল বা ভারী প্রসাধনী ব্যবহার না করে নিজের চুলের ধরন অনুযায়ী শ্যাম্পু ও কন্ডিশনার বেছে নেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ।
মনে রাখতে হবে, মাথার ত্বকে বারবার ফুসকুড়ি, তীব্র চুলকানি, লালচে ভাব, ক্ষত বা অতিরিক্ত চুল পড়া দেখা দিলে ঘরোয়া উপায় প্রয়োগ না করে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ।