কিডনির যত্নে শরীরচর্চা, জানুন নটরাজাসনের উপকারিতা

কিডনি শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলোর একটি। রক্ত থেকে বর্জ্য ও অতিরিক্ত তরল ছেঁকে প্রস্রাবের মাধ্যমে শরীর থেকে বের করে দেওয়ার পাশাপাশি শরীরের পানি ও বিভিন্ন খনিজের ভারসাম্য রক্ষাতেও কিডনির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তাই কিডনির সুস্থতা ধরে রাখতে জীবনযাপনের দিকে নজর দেওয়া জরুরি।

শরীরচর্চা সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী এবং কিডনি রোগীদের ক্ষেত্রেও নিয়মিত, উপযুক্ত মাত্রার ব্যায়াম উপকার করতে পারে। যোগাসন শরীরের নমনীয়তা, ভারসাম্য ও মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করতে পারে। তবে কোনও নির্দিষ্ট যোগাসন কিডনির পাথর গলিয়ে দেয় বা কিডনি রোগ প্রতিরোধ করে এমন দাবি করার মতো পর্যাপ্ত প্রমাণ নেই।

বিশেষ করে নটরাজাসন বা ‘ড্যান্সার পোজ’ একটি ভারসাম্যনির্ভর যোগাসন। এতে শরীরের বিভিন্ন পেশি সক্রিয় হয় এবং নমনীয়তা ও ভারসাম্য অনুশীলন করা যায়। তবে কিডনিতে পাথর হওয়ার ঝুঁকি কমানোর ক্ষেত্রে যোগাসনের চেয়ে পর্যাপ্ত পানি পান ও স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের গুরুত্ব বেশি। পর্যাপ্ত তরল গ্রহণ প্রস্রাবকে পাতলা রাখতে সাহায্য করে, ফলে পাথর তৈরির উপাদানগুলোর জমাট বাঁধার ঝুঁকি কমে।

নটরাজাসন কীভাবে করবেন

প্রথমে সমতল জায়গায় সোজা হয়ে দাঁড়ান। পা দুটো পাশাপাশি রাখুন এবং মেরুদণ্ড সোজা রাখুন। দুই হাত শরীরের পাশে স্বাভাবিক অবস্থায় থাকবে।

এবার শরীরের ভার বাঁ পায়ের ওপর রেখে ডান হাঁটু ধীরে ধীরে পেছনের দিকে ভাঁজ করুন। ডান হাত দিয়ে ডান পায়ের পাতা বা গোড়ালি ধরার চেষ্টা করুন। একই সময়ে বাঁ হাতটি সামনের দিকে বা ওপরের দিকে তুলতে পারেন।

এরপর ধীরে ধীরে শরীর সামনের দিকে সামান্য ঝুঁকিয়ে ডান পা পেছনের দিকে ওপরে তুলুন। যতটা আরামদায়ক, ততটাই করুন। জোর করে শরীর বাঁকানোর চেষ্টা করবেন না।

কয়েক সেকেন্ড এই অবস্থানে থেকে ধীরে ধীরে আগের অবস্থায় ফিরে আসুন। তারপর পা বদলে একইভাবে অনুশীলন করতে পারেন। ভারসাম্য রাখতে সমস্যা হলে দেয়াল বা অন্য কোনো স্থির জিনিসের সহায়তা নেওয়া ভালো।

এই আসনের সম্ভাব্য উপকার কী

নটরাজাসনের মূল উপকার কিডনির পাথর কমানো নয়। এটি মূলত ভারসাম্য, নমনীয়তা ও শরীরের পেশির নিয়ন্ত্রণ বাড়ানোর একটি যোগাসন। নিয়মিত ও সঠিকভাবে যোগাভ্যাস করলে শরীরের নমনীয়তা ও ভারসাম্য উন্নত হতে পারে এবং মানসিক চাপও কিছুটা কমতে পারে।

তবে কিডনি সুস্থ রাখা বা কিডনিতে পাথর প্রতিরোধের ক্ষেত্রে জীবনযাপনের অন্য বিষয়গুলোও গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে পর্যাপ্ত পানি পান করা অন্যতম কার্যকর উপায়। গরম আবহাওয়া বা বেশি ঘাম হলে শরীর থেকে পানি কমে যায়, ফলে প্রস্রাব ঘন হয়ে পাথর তৈরির ঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই শরীরচর্চার সময় পানিশূন্যতা এড়ানো জরুরি।

কিডনিতে পাথর ঠেকাতে আসলেই কী করবেন

কিডনিতে পাথর প্রতিরোধে পর্যাপ্ত পানি পান করা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপগুলোর একটি। তবে সবার পানির চাহিদা এক নয়। বয়স, আবহাওয়া, শারীরিক পরিশ্রম এবং কিডনির অন্য কোনো সমস্যা আছে কি না এসব বিষয়ের ওপর তরলের প্রয়োজন নির্ভর করে। কিডনি ফেইলিউর বা অন্য কোনও কারণে যদি চিকিৎসক তরল সীমিত করতে বলে থাকেন, তাহলে নিজের ইচ্ছায় বেশি পানি পান করা ঠিক নয়।

খাবারের দিক থেকেও সতর্ক থাকা দরকার। অতিরিক্ত লবণ কমানো এবং পাথরের ধরন অনুযায়ী খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন করা ভবিষ্যতে পাথর হওয়ার ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করতে পারে। কারও আগে কিডনিতে পাথর হয়ে থাকলে পাথরটি কী ধরনের ছিল, তা জানা গুরুত্বপূর্ণ। কারণ সব ধরনের কিডনি পাথরের জন্য একই খাদ্যাভ্যাস প্রযোজ্য নয়।

কারা নটরাজাসন করার আগে সতর্ক থাকবেন

যাদের হাঁটু, গোড়ালি, কোমর বা ভারসাম্যজনিত সমস্যা রয়েছে, তাদের এই আসন করার আগে বিশেষভাবে সতর্ক হওয়া দরকার। গর্ভাবস্থা, সাম্প্রতিক অস্ত্রোপচার বা গুরুতর কোনো শারীরিক সমস্যা থাকলে যোগাসন শুরু করার আগে চিকিৎসক বা প্রশিক্ষিত যোগশিক্ষকের পরামর্শ নেওয়া ভালো।

কিডনিতে পাথর, কিডনি রোগ বা কিডনি ফেইলিউর থাকলে শুধু যোগাসনের ওপর নির্ভর করা উচিত নয়। কিডনি পাথরের চিকিৎসা ও ভবিষ্যতে তা প্রতিরোধের পরিকল্পনা পাথরের আকার, ধরন এবং ব্যক্তির শারীরিক অবস্থার ওপর নির্ভর করে। প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা জরুরি।

সব মিলিয়ে, নটরাজাসন শরীরচর্চার একটি ভালো অনুশীলন হতে পারে, কিন্তু এটিকে কিডনির পাথরের চিকিৎসা বা প্রতিরোধের নির্দিষ্ট উপায় হিসেবে দেখা ঠিক নয়। কিডনি ভালো রাখতে নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রমের পাশাপাশি পর্যাপ্ত পানি পান, পরিমিত লবণ গ্রহণ, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস এবং প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ এই সমন্বিত অভ্যাসই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।