চুল পড়া, রুক্ষতা কিংবা চুলের জেল্লা কমে যাওয়া এ ধরনের সমস্যায় অনেকেই নানা ধরনের তেল, শ্যাম্পু ও সিরাম ব্যবহার করেন। কিন্তু চুলের সুস্থতা শুধু বাইরে থেকে যত্ন নেওয়ার ওপর নির্ভর করে না, খাবারের পুষ্টিও গুরুত্বপূর্ণ।
প্রতিদিনের খাবারের তালিকায় পুষ্টিকর কিছু খাবার যোগ করলে চুলের সামগ্রিক স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সহায়তা করতে পারে। এ ক্ষেত্রে আখরোট হতে পারে সহজ একটি সংযোজন। এতে রয়েছে স্বাস্থ্যকর ফ্যাট, ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড, ভিটামিন ও বিভিন্ন খনিজ উপাদান, যা শরীরের পাশাপাশি চুল ও ত্বকের স্বাস্থ্য ভালো রাখতেও ভূমিকা রাখতে পারে।
তবে শুধু আখরোট খেলেই চুল পড়া বন্ধ বা অকালপক্বতা পুরোপুরি দূর হবে এমন নিশ্চয়তা নেই। চুল পড়ার পেছনে পুষ্টির ঘাটতি, মানসিক চাপ, হরমোনের পরিবর্তনসহ নানা কারণ থাকতে পারে। তাই নিয়মিত ও সুষম খাবারের অংশ হিসেবে আখরোট খাওয়াই ভালো।
কেন খাদ্যতালিকায় রাখবেন আখরোট?
আখরোটে রয়েছে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড, ভিটামিন ই, ফাইবার, ম্যাগনেশিয়াম, পটাশিয়াম, আয়রন ও ক্যালসিয়ামের মতো বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান।
স্বাস্থ্যকর ফ্যাট ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্টসমৃদ্ধ খাবার নিয়মিত খেলে শরীরের সামগ্রিক পুষ্টির চাহিদা পূরণে সহায়তা করে। সেই সঙ্গে চুলের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি পাওয়ার সুযোগও বাড়ে।
চুল অতিরিক্ত শুষ্ক ও রুক্ষ হয়ে গেলে খাবারে স্বাস্থ্যকর ফ্যাটের উপস্থিতিও গুরুত্বপূর্ণ। তাই বাদামজাতীয় খাবারকে সুষম খাদ্যতালিকার অংশ হিসেবে রাখা যেতে পারে।
সকালে কয়েকটি আখরোট দিয়েই শুরু হোক দিন
আখরোট খাওয়ার জন্য আলাদা কোনও জটিল নিয়মের প্রয়োজন নেই। প্রতিদিন অল্প পরিমাণ আখরোট সরাসরি খেতে পারেন। চাইলে আগের রাতে পানিতে ভিজিয়ে রেখে সকালে খেতে পারেন।
তবে ভিজিয়ে খেতেই হবে এমন কোনও বাধ্যবাধকতা নেই। কাঁচা বা হালকা ভাজা আখরোটও খাওয়া যায়।
পুষ্টিকর স্মুদিতে যোগ করুন আখরোট
সকালের নাশতায় একটু ভিন্নতা আনতে আখরোট দিয়ে তৈরি করতে পারেন ঘন ও পুষ্টিকর স্মুদি।
এর জন্য কয়েকটি কাঠবাদাম ও আখরোট আগে থেকে ভিজিয়ে রাখুন। সঙ্গে নিতে পারেন একটি শুকনো ডুমুর, এক কাপ দুধ বা কাঠবাদামের দুধ, এক চামচ চিয়া বীজ, সামান্য দারচিনি ও স্বাদ অনুযায়ী অল্প মধু।
সব উপকরণ ব্লেন্ডারে দিয়ে ভালোভাবে মিশিয়ে নিন। চাইলে ঠান্ডা করে খেতে পারেন। এই স্মুদিতে বাদাম, বীজ ও দুধ থাকায় একসঙ্গে পাওয়া যাবে প্রোটিন, স্বাস্থ্যকর ফ্যাট, ফাইবারসহ নানা পুষ্টি উপাদান।
সালাদে আনুন বাদামের স্বাদ
আখরোট শুধু আলাদা করে খাওয়ার দরকার নেই। হালকা রোস্ট করে ছোট টুকরো করে নিন। এবার শসা, টমেটো ও অন্যান্য পছন্দের সবজির সঙ্গে মিশিয়ে তৈরি করে ফেলুন সহজ একটি সালাদ।
চাইলে এতে সামান্য লেবুর রস ও গোলমরিচও যোগ করতে পারেন। এতে সালাদে যেমন স্বাদ বাড়বে, তেমনই বাদাম থেকে মিলবে স্বাস্থ্যকর ফ্যাট ও কিছু গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি।
ওটস কিংবা দইয়ের সঙ্গেও মানিয়ে যায়
সকালের নাশতায় ওটস দিয়ে পায়েসের মতো খাবার তৈরি করলে তার ওপর ছড়িয়ে দিতে পারেন কুচি করা আখরোট। একইভাবে টক দইয়ের সঙ্গে ফল ও আখরোট মিশিয়েও খাওয়া যায়।
এভাবে আখরোটকে প্রতিদিনের খাবারে যুক্ত করলে আলাদা করে কোনো ‘হেয়ার সাপ্লিমেন্ট’ নেওয়ার প্রয়োজন না থাকলেও সুষম খাদ্যতালিকায় একটি পুষ্টিকর উপাদান যোগ হবে।
শুধু আখরোট নয়, চুলের যত্নে চাই সুষম খাবার
চুল ভালো রাখতে শুধু একটি খাবারের ওপর নির্ভর না করে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় পর্যাপ্ত প্রোটিন, শাকসবজি, ফল, গোটা শস্য, ডাল, ডিম, মাছ ও স্বাস্থ্যকর ফ্যাট রাখা জরুরি।
চুল পড়া হঠাৎ বেড়ে গেলে, মাথার ত্বকে ফাঁকা জায়গা তৈরি হলে কিংবা অল্প বয়সেই চুল দ্রুত পাকতে শুরু করলে শুধু খাবার পরিবর্তন না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো। কারণ এসব সমস্যার পেছনে অন্য কোনও শারীরিক কারণও থাকতে পারে।
তাই দামি প্রসাধনীর পাশাপাশি খাবারের দিকেও নজর দিন। প্রতিদিনের সুষম খাদ্যতালিকায় পরিমিত আখরোট যোগ করা হতে পারে চুল ও শরীরের সামগ্রিক যত্নের একটি সহজ অভ্যাস।