ফ্যাশনের মঞ্চে পোশাক শুধু সৌন্দর্যের প্রকাশ নয়, কখনও কখনও তা হয়ে ওঠে একটি গল্প বলার মাধ্যম। তেমনই এক ব্যতিক্রমী গল্প নিয়ে আলোচনায় এসেছে মিস উগান্ডার পরা একটি গাউন। ‘লেয়ার্স অব লাইফ’ নামের এই কুতুর পোশাকে সন্তান জন্মদানের অভিজ্ঞতা এবং সি-সেকশনের বিভিন্ন স্তরের ধারণাকে তুলে ধরেছেন ডিজাইনার কিশা আবদাল্লাহ।
ভিয়েতনামে মিস ওয়ার্ল্ডের মঞ্চে মিস উগান্ডার জন্য তৈরি করা হয় বিশেষ এই পোশাক। নকশার প্রতিটি স্তর, গড়ন ও রঙের ব্যবহারে রয়েছে আলাদা অর্থ। মূল অনুপ্রেরণা এসেছে মাতৃত্ব এবং সন্তান জন্মদানের অভিজ্ঞতা থেকে।
ডিজাইনার কিশা আবদাল্লাহ নিজেও নতুন মা হওয়ার অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে গেছেন। তাঁর ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকেই পোশাকটির ভাবনার শুরু। সি-সেকশনের সময় শরীরের বিভিন্ন স্তর নিয়ে গবেষণা করে তিনি সেই ধারণাগুলোকে কুতুর ফ্যাশনের ভাষায় রূপ দেন।
ইনস্টাগ্রামে কিশা জানান, সন্তান জন্মদানের বিভিন্ন স্তরকে একটি কুতুর গাউনে রূপ দেওয়ার ভাবনাই তাঁকে নকশাটি তৈরিতে অনুপ্রাণিত করে। তাঁর কাছে এটি শুধু একটি পোশাক তৈরি নয়, বরং নতুন মা হিসেবে নিজের অভিজ্ঞতার সঙ্গেও যুক্ত একটি ব্যক্তিগত সৃজনশীল যাত্রা।
‘লেয়ার্স অব লাইফ’ গাউনের বিশেষত্ব এর স্তরবিন্যাসে। সি-সেকশনের ধারণা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে পোশাকটিতে সাতটি স্তরকে প্রতীকীভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
প্রথম স্তর ত্বক শরীরের সুরক্ষার প্রতীক। এরপর রয়েছে চর্বির স্তর, যা শরীরের শক্তি ও সঞ্চয়ের ধারণাকে প্রতিনিধিত্ব করে। তৃতীয় স্তর ফ্যাসিয়া, যে টিস্যু শরীরের বিভিন্ন অংশকে একসঙ্গে ধরে রাখে।
চতুর্থ স্তরে রয়েছে পেশি, যা শক্তি ও সন্তান জন্মদানের শারীরিক শ্রমের প্রতীক। পঞ্চম স্তর পেরিটোনিয়াম, পেটের ভেতরের অঙ্গগুলোকে ঘিরে থাকা সুরক্ষামূলক আবরণ। ষষ্ঠ স্তর জরায়ু যেখানে শিশুর বেড়ে ওঠা ও নতুন জীবনের সূচনা।
সবশেষে রয়েছে অ্যামনিওটিক স্যাক বা গর্ভথলি, যা জন্মের আগে শিশুকে সুরক্ষা ও প্রয়োজনীয় পরিবেশ দেয়।
ভাবনাটি যতটা আকর্ষণীয়, সেটিকে বাস্তবে রূপ দেওয়া ছিল ততটাই চ্যালেঞ্জিং। মিস উগান্ডা নকশাটি অনুমোদন করার পর শুরু হয় পোশাক তৈরির দীর্ঘ প্রক্রিয়া।
বিশেষ করে রঙ বাছাই ছিল ডিজাইনারের জন্য কঠিন একটি কাজ। বাজারে থাকা অসংখ্য শেডের মধ্য থেকে গাউনের ভাবনার সঙ্গে মানানসই রং নির্বাচন করতে হয়েছে। এরপর শুরু হয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা। কোন রঙ, স্তর ও গড়ন একসঙ্গে সবচেয়ে ভালোভাবে গল্পটি তুলে ধরবে, তা নিয়ে চলেছে নানা ধরনের কাজ।
কিশার মতে, সৃজনশীলতার এই পর্যায়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও ভুল থেকে শেখার বিষয়টিই গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
‘লেয়ার্স অব লাইফ’ গাউনের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো এর গল্প বলার ক্ষমতা। প্রচলিত সৌন্দর্যের ধারণার বাইরে গিয়ে পোশাকটি মাতৃত্ব, শরীর এবং সন্তান জন্মদানের অভিজ্ঞতাকে ফ্যাশনের অংশ করেছে।
তাই এই গাউনের প্রতিটি স্তর হয়ে উঠেছে জীবনের একটি ধাপের প্রতীক। মিস ওয়ার্ল্ডের মঞ্চে এই পোশাকের মাধ্যমে কিশা আবদাল্লাহ দেখিয়েছেন, ফ্যাশন চাইলে সৌন্দর্যের পাশাপাশি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা, আবেগ ও জীবনের গুরুত্বপূর্ণ গল্পও তুলে ধরতে পারে।