ক্যানসার চিকিৎসকের বাড়িতে মিলবে না ৮ পরিচিত জিনিস, জানুন কেন

সুস্থ থাকার জন্য কী খাবেন, কী ব্যবহার করবেন কিংবা কোন অভ্যাসগুলি এড়িয়ে চলবেন তা নিয়ে চিকিৎসকদের পরামর্শের শেষ নেই। তবে কোনও চিকিৎসক নিজের দৈনন্দিন জীবনযাপনে কী কী জিনিস এড়িয়ে চলেন, তা জানতেও আগ্রহ থাকে অনেকের। ক্যানসার ও জটিল রোগের চিকিৎসক সৌরভ শেঠি সম্প্রতি নিজের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে এমনই আটটি জিনিসের কথা জানিয়েছেন, যেগুলি তিনি নিজের বাড়িতে রাখতে বা ব্যবহার করতে চান না। খাবার থেকে শুরু করে রান্নাঘরের সরঞ্জাম তাঁর তালিকায় রয়েছে বেশ কিছু পরিচিত সামগ্রী।

১. বার বার গরম করা রান্নার তেল

তালিকার একেবারে প্রথমে রয়েছে এক বার রান্নায় ব্যবহারের পর ফের গরম করা তেল। ডা. শেঠির মতে, তেলকে বার বার উচ্চ তাপমাত্রায় গরম করলে তার রাসায়নিক গঠনে পরিবর্তন হতে পারে। এর ফলে রিঅ্যাক্টিভ অ্যালডিহাইডের মতো যৌগ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে, যা শরীরে প্রদাহ এবং কোষের ক্ষতির সঙ্গে যুক্ত হতে পারে। তাই এক বার ব্যবহৃত তেল পুনরায় রান্নায় ব্যবহার না করাই তাঁর পছন্দ।

২. অতিরিক্ত চিনি দেওয়া ব্রেকফাস্ট সিরিয়াল

সকালের ব্যস্ততায় অনেকেই দ্রুত তৈরি করা সিরিয়ালকে নাশতা হিসাবে বেছে নেন। কিন্তু ডা. শেঠি এই অতিরিক্ত চিনি মেশানো ব্রেকফাস্ট সিরিয়াল রাখেন না। তাঁর মতে, শিশুদের কিছু সিরিয়ালে এতো বেশি পরিমাণ চিনি থাকে, যা একটি ডোনাটের চেয়েও বেশি। তাই প্যাকেটজাত খাবার কেনার আগে লেবেলে থাকা চিনি ও পুষ্টিগুণের তথ্য দেখে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

৩. প্লাস্টিকের কাটিং বোর্ড

রান্নাঘরের একটি পরিচিত সামগ্রী হল প্লাস্টিকের কাটিং বোর্ড। চিকিৎসকের মতে, দিনের পর দিন ছুরি দিয়ে কাটাকাটি করার ফলে বোর্ডের উপরিভাগ ক্ষয়ে গিয়ে অতি ক্ষুদ্র প্লাস্টিকের কণা খাবারের সঙ্গে মিশে যেতে পারে। এ কারণেই নিজের রান্নাঘরে তিনি প্লাস্টিকের কাটিং বোর্ড এড়িয়ে চলেন বলে জানিয়েছেন।

৪. প্লাগ-ইন এয়ার ফ্রেশনার

ঘরের দুর্গন্ধ দূর করতে অনেকেই প্লাগ-ইন এয়ার ফ্রেশনার ব্যবহার করেন। কিন্তু ডা. শেঠির তালিকায় এই পণ্যও রয়েছে। তাঁর দাবি, এ ধরনের ফ্রেশনার ঘরের বাতাসকে পরিষ্কার করার বদলে সুগন্ধি রাসায়নিক ছড়িয়ে দেয়। ওই রাসায়নিকগুলির কিছু ঘরের ওজোনের সঙ্গে বিক্রিয়া করে ফর্মালডিহাইডের মতো দূষণ তৈরি করতে পারে।

৫. আঁচড় পড়া নন-স্টিক বাসন

নন-স্টিকের বাসন ব্যবহার করা সহজ হলেও আস্তরণ ক্ষতিগ্রস্ত হলে তা নিয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসক। তাঁর মতে, নন-স্টিকের আবরণ উঠে যেতে শুরু করলে মাইক্রো ও ন্যানোপ্লাস্টিকের কণা বেরিয়ে আসতে পারে। তাই রান্নার বাসনে আস্তরণ ক্ষয়ে গেলে বা খসে পড়লে তিনি সেটি বদলে ফেলেন।

৬. তামাক ও ভ্যাপিং পণ্য

তামাকজাত পণ্য ও ভ্যাপিংয়ের সামগ্রীও রয়েছে তাঁর তালিকায়। ডা. শেঠি জানিয়েছেন, তামাকের সঙ্গে বিশ্বজুড়ে প্রতি বছর ৮০ লক্ষেরও বেশি মৃত্যুর সম্পর্ক রয়েছে। ক্যানসারের ক্ষেত্রে তামাককে অন্যতম প্রধান প্রতিরোধযোগ্য ঝুঁকি হিসেবে উল্লেখ করেছেন তিনি। তাই নিজের জীবনযাপনে এই ধরনের পণ্য সম্পূর্ণ এড়িয়ে চলেন বলে জানিয়েছেন।

৭. প্রক্রিয়াজাত মাংস

বেকন, সসেজ, হট ডগ ও বিভিন্ন ধরনের ডেলি মিটের মতো প্রক্রিয়াজাত মাংসও তাঁর পছন্দের তালিকায় নেই। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা প্রক্রিয়াজাত মাংসকে গ্রুপ ১ কার্সিনোজেন হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করেছে। অর্থাৎ, এটি মানুষের ক্যানসারের কারণ হতে পারে এমন পর্যাপ্ত প্রমাণ রয়েছে। তাই নিয়মিত খাদ্যাভ্যাসে এ ধরনের খাবারের পরিমাণ কম রাখার বিষয়ে সতর্ক থাকা জরুরি।

৮. চিনিযুক্ত কোমল পানীয়

চিনিযুক্ত সফট ড্রিঙ্কসও চিকিৎসকের বাড়িতে জায়গা পায় না। ডা. শেঠি একটি বড় গবেষণার উল্লেখ করে জানিয়েছেন, প্রতিদিন অতিরিক্ত এক বার চিনিযুক্ত পানীয় গ্রহণের সঙ্গে কম বয়সে কোলোরেক্টাল ক্যানসারের ঝুঁকি ১৬ শতাংশ বেশি থাকার সম্পর্ক পাওয়া গিয়েছে। দিনে দু’টি বা তার বেশি চিনিযুক্ত পানীয় পান করলে ঝুঁকি আরও বেড়ে যেতে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেছেন।

তবে চিকিৎসকের ব্যক্তিগত পছন্দের তালিকাকে সবার জন্য একই রকম স্বাস্থ্যবিধি হিসেবে দেখা ঠিক নয়। ব্যক্তিভেদে খাদ্যাভ্যাস, শারীরিক অবস্থা ও স্বাস্থ্যঝুঁকি আলাদা হতে পারে। তাই কোনও খাবার বা পণ্য সম্পূর্ণ বাদ দেওয়ার আগে প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসক বা যোগ্য স্বাস্থ্যবিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া ভালো।

ডা. সৌরভ শেঠি ‘গাট ডক্টর’ নামে পরিচিত। তিনি একজন গ্যাস্ট্রোএন্টেরোলজিস্ট এবং এআইআইএমএস, হার্ভার্ড ও স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন।

দাবিত্যাগ: এই প্রতিবেদনটি সাধারণ তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি। এখানে দেওয়া কোনও তথ্য চিকিৎসকের ব্যক্তিগত পরামর্শের বিকল্প নয়। নিজের স্বাস্থ্য বা খাদ্যাভ্যাস নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

সূত্র: এনডিটিভি