ফেসপ্যাক লাগানোর সঠিক সময় জানেন কী

ত্বক ভালো রাখতে নিয়মিত ক্লিনজিং, ময়েশ্চারাইজিংয়ের পাশাপাশি ফেসপ্যাকও ব্যবহার করেন অনেকে। ঘরে তৈরি হোক কিংবা বাজারের প্যাক মুখে লাগালেই যে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যাবে, তা কিন্তু নয়। কোন সময়ে ব্যবহার করছেন এবং কীভাবে লাগাচ্ছেন, তার ওপরও অনেকটা নির্ভর করে ত্বকের অনুভূতি ও ফেসপ্যাকের কার্যকারিতা।

রূপচর্চার ক্ষেত্রে রাতকে অনেকেই ফেসপ্যাক ব্যবহারের সুবিধাজনক সময় হিসেবে বিবেচনা করেন। দিনের ব্যস্ততা শেষে এ সময় ত্বক পরিষ্কার করে যত্ন নেওয়ার সুযোগ থাকে। বিশেষ করে ঘুমাতে যাওয়ার কিছুক্ষণ আগে প্যাক ব্যবহার করলে এরপর ত্বককে বিশ্রাম দেওয়ার সময় পাওয়া যায়।

তবে ফেসপ্যাক মুখে লাগানোর আগে ত্বক ভালোভাবে পরিষ্কার করা জরুরি। সারাদিনের ধুলোবালি, ঘাম কিংবা অতিরিক্ত তেল ত্বকের ওপর জমে থাকলে তার ওপর সরাসরি প্যাক লাগানো ঠিক নয়। প্রথমে মৃদু ফেসওয়াশ দিয়ে মুখ পরিষ্কার করে পানি দিয়ে ধুয়ে নিন। এরপর ত্বক আলতো করে শুকিয়ে প্যাক লাগাতে পারেন।

ফেসপ্যাক লাগানোর সময়ও খুব বেশি ঘষাঘষি করার দরকার নেই। আঙুলের ডগা দিয়ে হালকা হাতে মুখে ছড়িয়ে দিন। চোখ ও ঠোঁটের আশপাশের সংবেদনশীল অংশ এড়িয়ে চলাই ভালো। প্যাক কতক্ষণ মুখে রাখতে হবে, সেটি পণ্যের নির্দেশনা অনুযায়ী ঠিক করা উচিত। সাধারণত দীর্ঘ সময় মুখে রেখে দিলে বেশি উপকার হবে এমন ধারণার কোনও ভিত্তি নেই।

ফেসপ্যাক ধুয়ে ফেলার পর ত্বকের যত্ন সেখানেই শেষ নয়। মুখ পরিষ্কার করার পর ত্বক কিছুটা শুষ্ক অনুভূত হতে পারে। তাই ত্বকের ধরন অনুযায়ী একটি ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা যেতে পারে। দিনের বেলায় ফেসপ্যাক ব্যবহার করলে এরপর সানস্ক্রিন লাগানোও জরুরি।

অনেকে ফেসপ্যাক দেওয়ার আগে স্ক্রাব করেন। কিন্তু প্রতিবার স্ক্রাব করার প্রয়োজন নেই। বিশেষ করে সংবেদনশীল, শুষ্ক বা ব্রণপ্রবণ ত্বকে অতিরিক্ত এক্সফোলিয়েশন করলে জ্বালা, লালচে ভাব কিংবা শুষ্কতা বাড়তে পারে।

আর একটি বিষয় মাথায় রাখা দরকার রাতে ফেসপ্যাক ব্যবহার করলেই ত্বক রাতারাতি উজ্জ্বল হয়ে যাবে, এমন নয়। ত্বকের ধরন বুঝে উপযুক্ত পণ্য বেছে নেওয়া, নিয়মিত ময়েশ্চারাইজিং, পর্যাপ্ত ঘুম, পানি পান এবং রোদ থেকে সুরক্ষা সব মিলিয়েই ভালো ত্বকের যত্ন সম্ভব।

নতুন কোনও ফেসপ্যাক ব্যবহারের আগে হাতে বা কানের পেছনের ছোট অংশে পরীক্ষা করে নেওয়া নিরাপদ। চুলকানি, জ্বালা বা লালচে ভাব দেখা দিলে সেটি মুখে ব্যবহার না করাই ভালো।