বিড়াল ঘরের আদরের সদস্য হলেও কখনও কখনও তার মূত্রের গন্ধ নিয়ে বেশ বিপাকে পড়তে হয়। বিশেষ করে লিটার বক্সের বাইরে সোফা, কার্পেট বা মেঝেতে প্রস্রাব করলে প্রথমে জায়গাটি চোখে না পড়লেও পরে তীব্র গন্ধ ছড়িয়ে পড়তে পারে। নিয়মিত ঘর পরিষ্কার করার পরও যদি সেই গন্ধ থেকে যায়, তাহলে শুধু সুগন্ধি বা সাধারণ জীবাণুনাশক ব্যবহার না করে গন্ধের উৎসটিকে ভালোভাবে পরিষ্কার করা জরুরি।
গন্ধ দূর করতে এনজাইমযুক্ত ক্লিনার
বিড়ালের প্রস্রাবের দাগ ও গন্ধ পরিষ্কার করতে এনজাইমযুক্ত পোষ্য-নিরাপদ ক্লিনার ব্যবহার করা যেতে পারে। এ ধরনের ক্লিনার প্রস্রাবের জৈব উপাদান ভাঙতে সাহায্য করে, ফলে শুধু ওপরের গন্ধ ঢেকে না রেখে দুর্গন্ধের উৎস কমানোর সুযোগ থাকে। কার্পেট, মেঝে বা সোফায় ব্যবহারের আগে অবশ্যই পণ্যের নির্দেশনা পড়ে নেওয়া উচিত এবং কাপড় বা আসবাবের ছোট অংশে আগে পরীক্ষা করে দেখা ভালো।
ভিনেগার ব্যবহারে সতর্কতা
ঘরোয়া পরিষ্কারের কাজে অনেকে সাদা ভিনেগার ব্যবহার করেন। তবে বিড়ালের প্রস্রাবের গন্ধ দূর করতে ভিনেগার সবসময় কার্যকর নাও হতে পারে এবং কিছু পৃষ্ঠের ক্ষতি করতে পারে। তাই ব্যবহার করলে পানি মিশিয়ে অল্প পরিমাণে এবং উপযুক্ত পৃষ্ঠে ব্যবহার করা উচিত। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ব্লিচ বা অ্যামোনিয়াযুক্ত ক্লিনারের সঙ্গে ভিনেগার কখনও মেশানো যাবে না।
বেকিং সোডা কাজে লাগতে পারে
কার্পেট বা অন্য শুকনো, উপযুক্ত পৃষ্ঠে বেকিং সোডা দুর্গন্ধ শোষণে কিছুটা সহায়তা করতে পারে। পরিষ্কার ও শুকনো জায়গায় অল্প বেকিং সোডা ছড়িয়ে কিছুক্ষণ রেখে পরে ভালোভাবে ভ্যাকুয়াম করে নেওয়া যায়। তবে বিড়াল যাতে সরাসরি বেকিং সোডা খেতে বা অতিরিক্ত পরিমাণে শ্বাসের সঙ্গে গ্রহণ করতে না পারে, সেদিকে খেয়াল রাখা জরুরি।
লিটার বক্স পরিষ্কার রাখুন
গন্ধের সমস্যা কমানোর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপায় হলো লিটার বক্স নিয়মিত পরিষ্কার রাখা। প্রতিদিন মল ও জমাট বাঁধা মূত্র সরিয়ে ফেললে দুর্গন্ধ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। একাধিক বিড়াল থাকলে লিটার বক্সের সংখ্যাও পর্যাপ্ত রাখা দরকার। বর্ষাকালে ঘরে আর্দ্রতা বেশি থাকায় গন্ধ আরও তীব্র মনে হতে পারে, তাই এ সময়ে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার দিকে বাড়তি নজর দেওয়া ভালো।
বারবার বাইরে প্রস্রাব করলে বিষয়টি গুরুত্ব দিন
বিড়াল যদি হঠাৎ করে লিটার বক্স বাদ দিয়ে বারবার অন্য জায়গায় প্রস্রাব করতে শুরু করে, শুধু দুষ্টুমি হিসেবে বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়া ঠিক নয়। মূত্রনালির সমস্যা, মানসিক চাপ বা অন্য কোনও শারীরিক কারণে এমন আচরণ হতে পারে। আচরণটি বারবার হলে পশুচিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
সবশেষে, শুধু সুগন্ধি ছিটিয়ে গন্ধ ঢাকার চেষ্টা না করে যেখানে প্রস্রাব হয়েছে সেই জায়গাটি দ্রুত শনাক্ত করে ভালোভাবে পরিষ্কার করাই বেশি কার্যকর। নিয়মিত লিটার বক্স পরিষ্কার রাখা এবং বিড়ালের আচরণে অস্বাভাবিক পরিবর্তন হলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়াও ঘরের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার পাশাপাশি পোষ্যের সুস্থতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।