সাজে ঐতিহ্য আর আধুনিকতাকে একসঙ্গে উপস্থাপন করতে বরাবরই নজর কাড়েন তামান্না ভাটিয়া। এবারও তার ব্যতিক্রম হলো না। ‘দ্য ভিভান’ সিনেমার প্রচারে সহ-অভিনেতা সিদ্ধার্থ মালহোত্রার সঙ্গে ব্যস্ত এই অভিনেত্রীকে দেখা গেলো এমন এক সাজে, যেখানে পোশাকের প্রতিটি অনুষঙ্গেই উঠে এসেছে বিহারের সংস্কৃতি ও লোকশিল্পের ছোঁয়া।
রাধাষ্টমী উপলক্ষে বেছে নেওয়া এই বিশেষ সাজে ছিল হলুদ-নীল শাড়ি, হাতে আঁকা মধুবনী নকশার ওড়না এবং ঝলমলে হীরার দুল। তামান্নার এই সাজে তৈরি হয়েছে ঐতিহ্যবাহী অথচ আধুনিক এক আবহ।
হলুদ-নীলে ছটপূজার গল্প
তামান্নার পরনে ছিল পোশাকের নকশাকারী প্রতিষ্ঠান টোরানির হলুদ ও নীল শাড়ি। শাড়ির পাড়জুড়ে ছিল সূক্ষ্ম কাটওয়ার্ক এবং হাতে করা ফুলের কারুকাজ। গাঢ় নীল ব্লাউজে সাদা সুতার সূক্ষ্ম নকশা শাড়ির রঙের সঙ্গে তৈরি করেছে দারুণ বৈপরীত্য।
তবে এই সাজের সবচেয়ে নজরকাড়া অনুষঙ্গ ছিল মধুবনী নকশার ওড়না। বিহারের সংস্কৃতি ও ‘দ্য ভিভান’ সিনেমার গল্পের সঙ্গে মিল রেখেই ওড়নাটিতে ব্যবহার করা হয়েছে মিথিলা অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী শিল্পরীতি।
শাড়ির হলুদ ও গাঢ় নীল রঙের সমন্বয়ের পেছনেও রয়েছে একটি ভাবনা। তামান্না জানিয়েছেন, ছটপূজায় শুধু উদীয়মান সূর্য নয়, অস্তগামী সূর্যকেও প্রণাম করা হয়। সেই ভাবনা থেকেই সূর্যের আলো বিদায় নেওয়া এবং আবার ফিরে আসার প্রতীক হিসেবে হলুদ থেকে গাঢ় নীলে রঙের পরিবর্তন রাখা হয়েছে শাড়িতে।
চার শিল্পীর হাতে এক গল্প
তামান্নার মধুবনী ওড়নাটি যেন একটি চলমান ছবির গল্প। চারজন শিল্পী মিলে পুরো ওড়নাটি হাতে এঁকেছেন। নকশাজুড়ে রয়েছে মিথিলা অঞ্চলের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষঙ্গ।
ওড়নার একেবারে মাঝখানে স্থান পেয়েছে রাধা ও কৃষ্ণের চিত্র। এর চারপাশে ছড়িয়ে রয়েছে নানা প্রতীক ও অলংকরণ। প্রতিটি নকশার পেছনেই রয়েছে আলাদা অর্থ ও সাংস্কৃতিক তাৎপর্য।
মধুবনী শিল্পের ঐতিহ্য
মধুবনী চিত্রকলা, যা মিথিলা শিল্প নামেও পরিচিত, ভারতের অন্যতম পরিচিত লোকশিল্প। এই শিল্পরীতির শিকড় মিথিলা অঞ্চলের সংস্কৃতি ও লোকজ জীবনের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত।
প্রচলিত কাহিনি অনুযায়ী, মিথিলার রাজা জনক দেবী সীতা ও ভগবান রামের বিয়ের আয়োজন উপলক্ষে স্থানীয় শিল্পীদের দিয়ে চিত্র আঁকিয়েছিলেন। সেই ঐতিহ্য থেকেই মধুবনী শিল্পের সূচনা হয়েছে বলে মনে করা হয়।
উজ্জ্বল রঙের ব্যবহার, গাঢ় বৈপরীত্য, সূক্ষ্ম রেখা এবং জটিল নকশা এই শিল্পের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। মিথিলা অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে নারীদের হাতেই এই শিল্পের চর্চা বেশি হয়েছে। বর্তমানে অবশ্য পুরুষ শিল্পীরাও মধুবনী চিত্রকলার সঙ্গে যুক্ত হচ্ছেন।
দেয়াল থেকে শুরু করে কাগজ, কাপড় ও ক্যানভাসসহ বিভিন্ন মাধ্যমে মধুবনী চিত্র আঁকা হয়। লোকজ জীবন, প্রকৃতি, ধর্মীয় কাহিনি ও নানা প্রতীক এই শিল্পের নকশায় উঠে আসে।
হীরার দুলে আধুনিকতার ছোঁয়া
ঐতিহ্যবাহী শাড়ি ও মধুবনী ওড়নার সঙ্গে তামান্না বেছে নিয়েছিলেন ঝলমলে হীরার ঝাড়বাতি নকশার দুল। অভিনেত্রীর নিজের গয়নার প্রতিষ্ঠানের এই দুলে ছিল একাধিক স্তরে সাজানো হীরা এবং সূক্ষ্ম ঝুল।
হাঁটার সঙ্গে দুলের ঝুলন্ত অংশের নড়াচড়া সাজে এনেছে বাড়তি ঝিলিক। ঐতিহ্যবাহী পোশাকের সঙ্গে আধুনিক নকশার এই গয়নার সমন্বয় পুরো সাজটিকে দিয়েছে পরিশীলিত আবহ।
গঙ্গার তীরে ঐতিহ্যবাহী সাজ
শাড়ি, মধুবনী ওড়না ও হীরার দুলে সেজে তামান্নাকে গঙ্গার তীরে আরতি করতেও দেখা গেছে। নদীর পাড়ে তাঁর এই সাজের ছবি ও দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভক্তদের নজর কেড়েছে।
তামান্নার এবারের সাজ একটি অঞ্চলের লোকশিল্প, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে পোশাকের মাধ্যমে তুলে ধরারও প্রয়াস। ‘দ্য ভিভান’-এর বিহার-যোগকে সামনে রেখে সাজের প্রতিটি উপাদানেই সেই সাংস্কৃতিক আবহ ধরে রাখার চেষ্টা করেছেন অভিনেত্রী।
তামান্না ভাটিয়া ও সিদ্ধার্থ মালহোত্রা অভিনীত ‘দ্য ভিভান’ আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে।