তৈলাক্ত ত্বকে ব্রণ ও চোখের নিচে ফোলা, ঘরোয়া যত্নে সমাধান

মুখে অতিরিক্ত তেল, তার সঙ্গে ব্রণ কিংবা ছোট ছোট ফুসকুড়ি। তৈলাক্ত ত্বকের অনেকের কাছেই এসব পরিচিত সমস্যা। এর সঙ্গে চোখের নিচে ফোলা ভাব দেখা দিলে মুখের স্বাভাবিক সতেজতাও কিছুটা ম্লান হয়ে যায়। বিশেষ করে উৎসব বা কোনও বিশেষ অনুষ্ঠানের আগে ত্বক নিয়ে দুশ্চিন্তা আরও বাড়ে।

তবে ত্বকের ধরন না বুঝে একের পর এক প্রসাধনী ব্যবহার করলে সমস্যা কমার বদলে বাড়তে পারে। তাই তৈলাক্ত ত্বকের ক্ষেত্রে প্রয়োজন সহজ ও নিয়মিত পরিচর্যা। অতিরিক্ত তেল নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি চোখের নিচের ত্বকের যত্ন নিলেও মুখে সতেজ ভাব ফিরিয়ে আনা সম্ভব।

প্রথমেই দরকার সঠিকভাবে মুখ পরিষ্কার করা

তৈলাক্ত ত্বকে অতিরিক্ত তেল ও ময়লা জমে থাকলে ব্রণের প্রবণতা বাড়তে পারে। তাই ত্বকের উপযোগী মৃদু ও তেলমুক্ত পরিষ্কারক দিয়ে নিয়মিত মুখ পরিষ্কার করা ভালো।

ব্রণপ্রবণ ত্বকের ক্ষেত্রে স্যালিসাইলিক অ্যাসিড বা বেঞ্জয়েল পারঅক্সাইডযুক্ত ফেসওয়াশ কিছু মানুষের জন্য উপকারী হতে পারে। তবে ত্বকে জ্বালা বা শুষ্কতা দেখা দিলে ব্যবহার বন্ধ করে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

চোখের নিচের ফোলা ভাব কমাতে ঠান্ডা টি-ব্যাগ

ঘুমের ঘাটতি, ক্লান্তি বা অন্যান্য কারণে চোখের নিচে সাময়িক ফোলা ভাব দেখা দিতে পারে। এ ক্ষেত্রে ঠান্ডা টি-ব্যাগ চোখের ওপর কিছুক্ষণ রাখলে আরাম মিলতে পারে।

ব্যবহারের জন্য দুটি চা-ব্যাগ গরম পানিতে ভিজিয়ে নিয়ে ঠান্ডা করে নিতে পারেন। এরপর চোখ বন্ধ করে ১০ থেকে ১৫ মিনিট আলতোভাবে চোখের ওপর রাখুন। চোখে কোনো ধরনের অস্বস্তি হলে সঙ্গে সঙ্গে সরিয়ে ফেলতে হবে।

টকদই ও পুদিনার মিশ্রণ

তৈলাক্ত ত্বকে অতিরিক্ত তেলাভাবের কারণে মুখ ভারী ও মলিন দেখাতে পারে। ঘরোয়া পরিচর্যায় টকদই ও পুদিনা দিয়ে তৈরি একটি সহজ প্যাক ব্যবহার করা যেতে পারে।

এক থেকে দুই টেবিল চামচ টকদইয়ের সঙ্গে পরিষ্কার পুদিনাপাতা বেটে মিশিয়ে মুখে লাগিয়ে ১৫ মিনিটের মতো রেখে ধুয়ে ফেলতে পারেন। সংবেদনশীল ত্বক হলে পুরো মুখে লাগানোর আগে ছোট একটি অংশে পরীক্ষা করে নেওয়া ভালো।

সতেজতার জন্য শসা ও অ্যালোভেরা

ত্বককে ঠান্ডা ও সতেজ অনুভূতি দিতে শসা ও অ্যালোভেরার মিশ্রণ ব্যবহার করা যায়। দুই টেবিল চামচ শসার রসের সঙ্গে এক টেবিল চামচ অ্যালোভেরা জেল মিশিয়ে মুখে লাগিয়ে কিছুক্ষণ পর ধুয়ে ফেলুন।

অ্যালোভেরা ব্যবহারের আগে ত্বকে অ্যালার্জি হয় কি না, তা পরীক্ষা করে নেওয়া জরুরি। প্রাকৃতিক উপাদান হলেও সবার ত্বকে একইভাবে মানিয়ে নাও নিতে পারে।

শসা ও বেসনে সহজ পরিচর্যা

তৈলাক্ত ত্বকের অতিরিক্ত তেল শোষণে বেসন ব্যবহার করেন অনেকে। এক টেবিল চামচ বেসনের সঙ্গে পরিমাণমতো শসার রস মিশিয়ে পাতলা প্যাক তৈরি করা যায়। মুখে লাগিয়ে শুকিয়ে গেলে খুব আলতোভাবে ধুয়ে ফেলুন।

তবে ত্বকে অতিরিক্ত ঘষাঘষি করা ঠিক নয়। এতে জ্বালা বা ত্বকের সংবেদনশীলতা বাড়তে পারে।

শুধু প্যাক নয়, অভ্যাসেও নজর দিন

ত্বক ভালো রাখতে শুধু ঘরোয়া প্যাকের ওপর নির্ভর না করে নিয়মিত মুখ পরিষ্কার করা, পর্যাপ্ত ঘুম, পানি পান এবং ত্বকের উপযোগী প্রসাধনী ব্যবহারও গুরুত্বপূর্ণ। বাইরে বের হলে ত্বকের ধরন অনুযায়ী সানস্ক্রিন ব্যবহার করাও জরুরি।

আর ব্রণ যদি দীর্ঘদিন ধরে থাকে, খুব বেশি হয়, ব্যথাযুক্ত হয় কিংবা চোখের নিচের ফোলা ভাব নিয়মিত দেখা দেয়, তাহলে ঘরোয়া উপায়ের বদলে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ।