বর্ষা কিংবা বর্ষা-পরবর্তী সময়ে ডেঙ্গুর প্রকোপ নিয়ে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন। এডিস মশার কামড় থেকেই ডেঙ্গু ছড়ায়। তাই শুধু মশারি বা মশা তাড়ানোর ব্যবস্থা করলেই হবে না, মশার বংশবিস্তার ঠেকাতে বাড়ি ও আশপাশের জমে থাকা পানির উৎসগুলোও নিয়মিত পরিষ্কার রাখতে হবে।
ডেঙ্গু প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো এডিস মশার জন্মানোর সুযোগ কমিয়ে দেওয়া। এই মশা সাধারণত স্বচ্ছ ও জমে থাকা পানিতে বংশবিস্তার করে। বাড়ির ভেতর ও বাইরে পড়ে থাকা বিভিন্ন পাত্রে অল্প পরিমাণ পানি জমলেও সেখানে মশার লার্ভা জন্মাতে পারে।
জমে থাকা পানি নিয়মিত পরিষ্কার করুন
বাড়ির ছাদ, বারান্দা, উঠান কিংবা আশপাশে কোথাও পানি জমে আছে কি না নিয়মিত দেখে নেওয়া জরুরি। ফুলের টবের নিচের পাত্র, বালতি, ড্রাম, পরিত্যক্ত বোতল, টিনের কৌটা, নারকেলের খোসা কিংবা যেকোনো পাত্রে পানি জমে থাকলে তা দ্রুত সরিয়ে ফেলতে হবে।
পানির পাত্র খালি করার পাশাপাশি সেগুলো ভালোভাবে পরিষ্কার করাও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ শুধু পানি ফেলে দিলেই সব সময় মশার বংশবিস্তার পুরোপুরি বন্ধ নাও হতে পারে।
পানির পাত্র ঢেকে রাখুন
যেসব পাত্রে পানি সংরক্ষণ করা প্রয়োজন, সেগুলো ঢাকনা দিয়ে ভালোভাবে বন্ধ করে রাখা উচিত। এতে এডিস মশা পানির মধ্যে ডিম পাড়ার সুযোগ কম পায়।
বাড়ির পানির ট্যাংক, ড্রাম বা বড় পাত্রের ক্ষেত্রেও একই সতর্কতা প্রয়োজন। নিয়মিত ব্যবহার করা পাত্রও মাঝেমধ্যে পরিষ্কার করে নেওয়া ভালো।
দিনের বেলাতেও মশা থেকে সাবধান
ডেঙ্গুর বাহক এডিস মশা দিনের বেলাতেও কামড়াতে পারে। তাই শুধু রাতে মশারি ব্যবহারের ওপর নির্ভর না করে দিনের সময়ও মশার কামড় এড়িয়ে চলার চেষ্টা করতে হবে।
ঘরে জানালা-দরজায় মশা প্রবেশের সুযোগ কমানো, প্রয়োজন অনুযায়ী মশা প্রতিরোধক ব্যবহার করা এবং শরীরের বেশির ভাগ অংশ ঢেকে রাখে এমন পোশাক পরা উপকারী হতে পারে।
শিশুদের বিষয়ে বাড়তি নজর
শিশুরা বাইরে খেলাধুলা করার সময় এডিস মশার কামড়ের ঝুঁকিতে থাকতে পারে। তাই দিনের বেলায় শিশুদের পোশাক ও খেলার জায়গার ব্যাপারে সতর্ক থাকা দরকার। বাড়ির আশপাশে পানি জমে থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করতে হবে।
শুধু নিজের বাড়ি পরিষ্কার রাখলেই হবে না
পাশের বাড়ি, নির্মাণাধীন ভবন, খালি জায়গা কিংবা ছাদে জমে থাকা পানিও এডিস মশার প্রজননের জায়গা হতে পারে। তাই ডেঙ্গু প্রতিরোধে পুরো এলাকার মানুষকে একসঙ্গে সচেতন হতে হবে।
বাড়ির আশপাশে পরিত্যক্ত পাত্র, আবর্জনা বা এমন কোনও জিনিস পড়ে থাকলে, যেখানে পানি জমতে পারে, সেগুলো সরিয়ে ফেলা জরুরি। স্থানীয়ভাবে নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার উদ্যোগ নিলে মশার বিস্তার কমানো সহজ হয়।
জ্বর হলে অবহেলা নয়
ডেঙ্গু প্রতিরোধের পাশাপাশি অসুস্থতার লক্ষণ দেখা দিলেও সতর্ক থাকতে হবে। হঠাৎ জ্বর, মাথাব্যথা, চোখের পেছনে ব্যথা, শরীর ও পেশিতে ব্যথা, বমিভাব বা তীব্র দুর্বলতার মতো উপসর্গ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
ডেঙ্গুর সন্দেহ হলে নিজের মতো করে ওষুধ না খেয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে জ্বরের সঙ্গে পেটব্যথা, বারবার বমি, রক্তপাত, অতিরিক্ত দুর্বলতা, অস্থিরতা বা শ্বাসকষ্টের মতো গুরুতর লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নিতে হবে।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে সবচেয়ে বড় ভূমিকা ব্যক্তিগত সচেতনতার। সপ্তাহে নিয়ম করে বাড়ি ও আশপাশের জায়গা পরিদর্শন করে কোথাও পানি জমে আছে কি না দেখা, জমে থাকা পানি সরানো এবং প্রয়োজনীয় জায়গা পরিষ্কার রাখার অভ্যাসই এডিস মশার বিস্তার কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।