পাকা কলার উপকার পেতে কোন সময় খাবেন? জানুন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ

সহজলভ্য, সুস্বাদু এবং পুষ্টিগুণে ভরপুর কলা প্রতিদিনের খাবারের তালিকায় রাখা যায় অনায়াসেই। এতে রয়েছে পটাশিয়াম, ভিটামিন বি৬, আঁশসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান। নিয়মিত পরিমিত পরিমাণে কলা খাওয়া হজমশক্তি ও হৃদ্‌যন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যক্রমে সহায়ক হতে পারে। তবে অনেকেরই প্রশ্ন, দিনের কোন সময়ে কলা খাওয়া সবচেয়ে ভালো? সকালে খালি পেটে, শরীরচর্চার আগে, বিকালে নাকি রাতে?

আসলে কলা খাওয়ার জন্য সবার ক্ষেত্রে একই সময় নির্ধারণ করা যায় না। ব্যক্তির খাদ্যাভ্যাস, শারীরিক অবস্থা এবং দিনের অন্যান্য খাবারের ওপরও বিষয়টি নির্ভর করে।

সকালে কলা খেতে পারেন

দিনের শুরুতে কলা খেলে দ্রুত কিছুটা শক্তি পাওয়া যায়। বিশেষ করে সকালের নাশতায় এটি রাখা যেতে পারে। তবে শুধু কলা খেয়ে নাশতা সারার বদলে দই, বাদাম, ডিম বা ওটসের মতো খাবারের সঙ্গে খেলে খাবারটি আরও ভারসাম্যপূর্ণ হয়।

খালি পেটে কলা খাওয়া নিয়ে অনেকের মধ্যে নানা ধারণা থাকলেও সবার জন্য এটি নিষিদ্ধ বলা যায় না। তবে যাদের রক্তে শর্করার ওঠানামা বা হজমের সমস্যা রয়েছে, তাদের ব্যক্তিগত খাদ্যাভ্যাস অনুযায়ী পরামর্শ নেওয়া ভালো।

শরীরচর্চার সময়ও উপকারী হতে পারে

ব্যায়াম বা শরীরচর্চার আগে কলা খাওয়া অনেকের জন্য সুবিধাজনক। এতে থাকা শর্করা শরীরকে দ্রুত শক্তি জোগাতে পারে। আবার শরীরচর্চার পরও কলা খাওয়া যায়, বিশেষ করে অন্য পুষ্টিকর খাবারের সঙ্গে। এতে শরীরের প্রয়োজনীয় কার্বোহাইড্রেট ও পটাশিয়াম পাওয়া যায়।

যারা দীর্ঘ সময় শরীরচর্চা করেন বা বেশি শারীরিক পরিশ্রম করেন, তাদের জন্য সহজে বহনযোগ্য খাবার হিসেবেও কলা বেশ সুবিধাজনক।

বিকালের ক্ষুধায় ভাজাপোড়ার বদলে কলা

বিকালে হালকা ক্ষুধা লাগলে অতিরিক্ত তেল-ঝাল খাবারের পরিবর্তে একটি কলা বেছে নেওয়া যেতে পারে। সঙ্গে কয়েকটি বাদাম বা দই রাখলে ক্ষুধা মেটানোর পাশাপাশি খাবারে প্রোটিন ও স্বাস্থ্যকর চর্বিও যোগ হয়।

রাতে কলা খাওয়া যাবে?

রাতে কলা খাওয়া একেবারে নিষেধ এমন বৈজ্ঞানিক নিয়ম নেই। তবে কারও যদি কলা খাওয়ার পর পেট ফাঁপা, গ্যাস বা হজমের সমস্যা হয়, তাহলে রাতে না খাওয়াই ভালো। ঘুমের আগে কী খেলে শরীরে অস্বস্তি হয়, সেটিও ব্যক্তিভেদে আলাদা হতে পারে।

হৃদ্‌যন্ত্রের জন্য কেন উপকারী?

কলায় থাকা পটাশিয়াম শরীরের তরল ও ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্য বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পর্যাপ্ত পটাশিয়াম গ্রহণ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে। পাশাপাশি কলার আঁশও স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবে উপকারী।

তবে শুধু কলা খেলেই হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি কমে যাবে না। হৃদ্‌যন্ত্র সুস্থ রাখতে নিয়মিত শরীরচর্চা, সুষম খাবার, পর্যাপ্ত ঘুম এবং ধূমপান এড়িয়ে চলার মতো সামগ্রিক জীবনযাপন গুরুত্বপূর্ণ।

ডায়াবেটিস থাকলে পরিমাণে নজর দিন

ডায়াবেটিস থাকলেও কলা খাওয়া যেতে পারে, তবে পরিমাণ ও কলার পাকার মাত্রার দিকে নজর রাখা প্রয়োজন। খুব বেশি পাকা কলায় প্রাকৃতিক শর্করা তুলনামূলকভাবে বেশি সহজলভ্য হতে পারে। তাই নিজের রক্তে শর্করার মাত্রা ও খাদ্যতালিকা অনুযায়ী কতটা কলা খাওয়া যাবে, তা চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শে ঠিক করা ভালো।

কিডনির রোগীদের সতর্কতা জরুরি

কিডনির গুরুতর সমস্যা থাকলে শরীর থেকে অতিরিক্ত পটাশিয়াম বের করে দেওয়া কঠিন হতে পারে। সে ক্ষেত্রে বেশি পটাশিয়ামযুক্ত খাবার খাওয়া ঝুঁকিপূর্ণ। তাই কিডনির রোগীদের নিজের মতো করে নিয়মিত বেশি কলা না খেয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী খাদ্যতালিকা ঠিক করা উচিত।

তাই বলা যেতে পারে, কলা খাওয়ার জন্য নির্দিষ্ট কোনও ‘সেরা সময়’ নেই। সকালের নাশতা, শরীরচর্চার আগে-পরে কিংবা বিকালের হালকা খাবারসহ পরিস্থিতি অনুযায়ী বিভিন্ন সময়েই কলা খাওয়া যায়। তবে পরিমাণ, ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য এবং অন্য খাবারের সঙ্গে এর সমন্বয়ই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।