সৌন্দর্যের কোনও নির্দিষ্ট মাপ আছে? কারও কাছে উত্তর হতে পারে ‘ছিপছিপে’, কারও কাছে ‘সুঠাম’, আবার কেউ হয়তো বলবেন, নিজের শরীরে স্বচ্ছন্দ থাকাটাই আসল। সমাজের তৈরি সৌন্দর্যের সেই বাঁধাধরা ধারণাকে একটু পাশে সরিয়ে নিজের এবং অন্যের শরীরকে ভালোবাসার বার্তা নিয়েই পালিত হয় প্লাস সাইজ অ্যাপ্রিসিয়েশন ডে।
দিনটি মূলত সব আকৃতি ও গড়নের মানুষের সৌন্দর্য উদ্যাপনের উপলক্ষ। শুধু রোগা শরীরকেই সুন্দর হিসাবে দেখার সামাজিক প্রবণতার বদলে শরীরের বৈচিত্র্যকে স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করা এবং নিজের শরীর নিয়ে ইতিবাচক মনোভাব গড়ে তোলাই এর মূল ভাবনা।
শরীর নিয়ে ‘এটা একটু কম হলে ভালো হতো’, ‘ওজনটা আরেকটু কমানো দরকার’ এমন মন্তব্য শুনতে শুনতে অনেকেই নিজের শরীর নিয়ে অস্বস্তিতে ভোগেন। এই দিনটি যেন সেই নেতিবাচক কথাবার্তার বদলে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের শরীরকে একটু ধন্যবাদ জানানোর কথা বলে। কারণ শরীরের আকার যেমনই হোক, প্রতিদিনের জীবনে আমাদের সঙ্গে সবচেয়ে বেশি পথ চলতে হয় এই শরীর নিয়েই।
এই দিনের শুরু কীভাবে?
প্লাস সাইজ অ্যাপ্রিসিয়েশন ডে পালনের সূচনা হয় ২০১৬ সালে। নারীদের ক্ষমতায়ন, তাদের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে সচেতনতা তৈরি এবং পারস্পরিক সহযোগিতায় কাজ করা সংগঠন উইমেন রক ইনকের উদ্যোগে দিনটির শুরু।
নারীর সৌন্দর্য, শরীর নিয়ে সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং স্তন ক্যানসারের মতো বিষয়েও সচেতনতা তৈরিতে কাজ করে সংগঠনটি। সেই ভাবনা থেকেই এই দিনটি মনে করিয়ে দেয় পৃথিবীর সব মানুষ একই ছাঁচে তৈরি নন, তাই সৌন্দর্যের সংজ্ঞাটিও এক রকম হওয়ার প্রয়োজন নেই।
পছন্দের পোশাকে নিজেকে উদ্যাপন
এই দিনটি উদ্যাপনের জন্য নিজের পছন্দের পোশাকটি পরেই শুরু করা যেতে পারে। শরীরের মাপ নিয়ে অতিরিক্ত ভাবনা না করে যে পোশাকে নিজেকে স্বচ্ছন্দ ও আত্মবিশ্বাসী মনে হয়, সেটিই বেছে নিন।
প্লাস সাইজ ফ্যাশন শো থাকলে সেখানে অংশ নেওয়া বা দর্শক হিসাবে উপস্থিত হওয়াও হতে পারে দিনটি উদ্যাপনের একটি উপায়। এমন আয়োজনের মাধ্যমে বড় মাপের পোশাক নিয়েও ফ্যাশনের নানা সম্ভাবনা সামনে আসে। সরাসরি যাওয়ার সুযোগ না থাকলে অনলাইনে বিভিন্ন ফ্যাশন আয়োজন দেখেও নতুন পোশাক ও সাজের ভাবনা পাওয়া যেতে পারে।
আয়নার সঙ্গে বন্ধুত্বটা কেমন?
আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের শরীরের খুঁত খোঁজার অভ্যাস অনেকেরই আছে। এই দিনটিতে সেই অভ্যাস একটু বদলে ফেলতে পারেন। শরীরের যে বিষয়গুলো নিয়ে এত দিন অস্বস্তি ছিল, সেগুলোর বদলে নিজের শরীরের প্রতি কৃতজ্ঞতার কথা ভাবুন।
অন্যের শরীর নিয়েও মন্তব্য করার আগে একটু থামা জরুরি। কারও ওজন বা শারীরিক গড়ন দেখে তার জীবনযাপন, স্বাস্থ্য কিংবা ব্যক্তিত্ব সম্পর্কে সিদ্ধান্তে পৌঁছে যাওয়া ঠিক নয়। প্রত্যেক শরীরের নিজস্ব বৈশিষ্ট্য রয়েছে।
আয়োজন হোক নিজের মতো
নিজের এলাকায় এমন কোনও আয়োজন না থাকলে কয়েকজন বন্ধুকে নিয়ে ছোট্ট একটি অনুষ্ঠানও করা যায়। হতে পারে চা-চক্র, দুপুরের খাবারের আয়োজন কিংবা পোশাক বিনিময়ের অনুষ্ঠান। চাইলে পোশাক ও সাজ নিয়ে কর্মশালারও আয়োজন করা যায়।
এ ধরনের আয়োজনের উদ্দেশ্য হতে পারে একসঙ্গে সময় কাটানো, নিজের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেওয়া এবং শরীর নিয়ে প্রচলিত নেতিবাচক ধারণার বাইরে গিয়ে ইতিবাচক আলোচনা তৈরি করা।
অনুপ্রেরণা দিচ্ছেন তারাও
প্লাস সাইজ নারীদের নিয়ে কথা বলতে গেলে বিনোদন ও ফ্যাশনজগতের কয়েকজন পরিচিত মুখের কথাও আসে। মেলিসা ম্যাকার্থি, কুইন লতিফাহ, ক্যারালিন মিরান্ড কক এবং রেবেল উইলসন নিজেদের কাজের মাধ্যমে নিজ নিজ ক্ষেত্রে পরিচিতি তৈরি করেছেন।
তাদের জীবন ও কাজ থেকে অন্তত একটি বিষয় মনে রাখা যায় মানুষের প্রতিভা, সৃজনশীলতা কিংবা সাফল্যের মাপ শরীরের মাপ দিয়ে নির্ধারণ করা যায় না।
প্লাস সাইজ অ্যাপ্রিসিয়েশন ডে হলো নিজের শরীরকে নিয়ে একটু ইতিবাচকভাবে ভাবার উপলক্ষ। সৌন্দর্য যদি এত রকমের হতে পারে, তাহলে তাকে একটি নির্দিষ্ট মাপের ফিতায় বেঁধে রাখারই বা দরকার কী?