যোগব্যায়াম, মোবিলিটি ও স্ট্রেংথ ট্রেনিংয়ে ফিট থাকছেন মনীষা কৈরালা

বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীরের যত্ন নেওয়ার ধরনও বদলাতে হয়। নিজের ফিটনেস যাত্রায় সেই বিষয়টিই যেন দেখিয়ে দিচ্ছেন অভিনেত্রী মনীষা কৈরালা। যোগব্যায়াম, মোবিলিটি এক্সারসাইজ ও স্ট্রেংথ ট্রেনিং এই তিনের সমন্বয়ে নিয়মিত শরীরচর্চা করছেন তিনি। সম্প্রতি ইনস্টাগ্রামে নিজের ওয়ার্কআউটের একটি ভিডিও শেয়ার করে সেই রুটিনেরই ঝলক দেখিয়েছেন অভিনেত্রী।

ওয়ার্কআউটের শুরুতেই শরীরের নমনীয়তা ও নড়াচড়ার ক্ষমতা বাড়ানোর দিকে মন দেন মনীষা। স্ট্রেংথ ট্রেনিংয়ের আগে তিনি কয়েকটি যোগব্যায়ামের স্ট্রেচ করেন। এর মধ্যে ছিল ‘ক্যাট-কাউ’ পোজ, যা মেরুদণ্ডের নড়াচড়া ও নমনীয়তা বাড়াতে সহায়ক। এরপর তিনি করেন ‘থ্রেড-দ্য-নিডল’ স্ট্রেচ। এই স্ট্রেচ কাঁধ ও ওপরের পিঠের নড়াচড়া বাড়ানোর পাশাপাশি পিঠ, কাঁধ ও ঘাড়ের পেশির টান কমাতে সাহায্য করে।

স্ট্রেচিংয়ের পর মনীষা করেন লাঞ্জিং পোজ। শরীরের নিচের অংশের মোবিলিটি বা নড়াচড়ার সক্ষমতা বাড়াতে এই ধরনের ব্যায়াম কার্যকর। এরপর তিনি ছোট ডাম্বেল হাতে নিয়ে স্ট্রেংথ ট্রেনিং শুরু করেন। ডাম্বেল দিয়ে লাঞ্জ করার মাধ্যমে তিনি কোয়াড্রিসেপস, হ্যামস্ট্রিং ও গ্লুটসের মতো গুরুত্বপূর্ণ পেশিগুলোকে সক্রিয় করেন। পাশাপাশি এই ব্যায়াম শরীরের মূল অংশের স্থিতিশীলতা ধরে রাখতেও সহায়তা করে।

এরপর বাইরের উরুর পেশিকে লক্ষ্য করে ডাম্বেল হাতে ল্যাটারাল লেগ মুভমেন্ট করেন অভিনেত্রী। সবশেষে ম্যাটে শুয়ে লেগ রেইজ ও লেগ সার্কেলের মতো ব্যায়াম করতে দেখা যায় তাঁকে। অর্থাৎ তাঁর ওয়ার্কআউটে শুধু শক্তি বাড়ানোর ব্যায়ামই নয়, শরীরের নমনীয়তা ও মোবিলিটির দিকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

ভিডিওটি শেয়ার করে মনীষা লিখেছেন, “কৈশোর থেকেই কাজ করে আসার সবচেয়ে ভালো দিক হলো, অবসরজীবনের এই সময়ে আমি কীভাবে জীবনযাপন করতে চাই, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার স্বাধীনতা আমার আছে।”

ফিটনেস নিয়ে মনীষার উপলব্ধি

হীরামান্ডি তারকার ইনস্টাগ্রাম ফিডে তাঁর ফিটনেস যাত্রার নানা মুহূর্তের ছবি ও জিম ভ্লগ রয়েছে। এর আগে নিজের ওজন কমানো ও ফিটনেস ধরে রাখার অভিজ্ঞতা নিয়েও খোলামেলা কথা বলেছিলেন মনীষা।

তাঁর ভাষায়, “বহু বছর আগে আমার শরীর যেমন ছিল, আজ আর তেমন নেই। তাই শরীরকে শাস্তি দেওয়ার প্রয়োজন নেই। বরং প্রয়োজন তাকে বোঝার। আমাকে শুধু আরও বেশি পরিশ্রম করলেই হবে না, নিজের পদ্ধতিটাই বদলাতে হয়েছে।”

মনীষা জানান, তিনি চার মাস ধরে সুস্থতা ও ফিটনেসের ক্ষেত্রে একটি সামগ্রিক বা হোলিস্টিক পদ্ধতি অনুসরণ করেছেন। এরপর থেকেই তিনি এর ইতিবাচক পরিবর্তন দেখতে শুরু করেন।

অভিনেত্রীর কথায়, “আমি এখনও আমার কাঙ্ক্ষিত জায়গা থেকে কিছুটা দূরে আছি। তবে এখন নিজেকে আরও শক্তিশালী, সুস্থ এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণভাবে আশাবাদী মনে হচ্ছে।”

২০১২ সালে মনীষা কৈরালার শরীরে অ্যাডভান্সড স্টেজের ওভারিয়ান ক্যানসার ধরা পড়ে। অস্ত্রোপচার ও কেমোথেরাপির মাধ্যমে চিকিৎসা নেওয়ার পর ২০১৩ সালে তাঁকে ক্যানসারমুক্ত ঘোষণা করা হয়। এরপর থেকেই নিজের সামগ্রিক স্বাস্থ্যের প্রতি আরও যত্নশীল হয়েছেন এই অভিনেত্রী।

মনীষার বর্তমান ফিটনেস রুটিন থেকে একটি বিষয় স্পষ্ট, ফিট থাকার জন্য শুধু কঠোর পরিশ্রম নয়, নিজের শরীরকে বোঝা এবং তার প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যায়ামের ধরন বেছে নেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ।