ত্বক পরিষ্কারে কতটা প্রয়োজন ডাবল ক্লিনজিং

ত্বক পরিষ্কার রাখতে ডাবল ক্লিনজিং এখন বেশ জনপ্রিয়। মেকআপ, সানস্ক্রিন কিংবা দিনের জমে থাকা ময়লা দূর করতে অনেকেই প্রথমে ক্লিনজিং অয়েল বা বাম এবং পরে ফেসওয়াশ ব্যবহার করেন। তবে ত্বক পরিষ্কারের এই অতিরিক্ত ধাপ আদৌ সবার জন্য প্রয়োজন কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন কয়েকজন পাঠক।

ডাবল ক্লিনজিং নিয়ে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনের প্রতিক্রিয়ায় এক পাঠক জানান, তিনি সপ্তাহে মাত্র একবার গোসল করেন। অন্য দিনগুলোতে সাবান, কাপড়ের ফ্ল্যানেল ও এক বাটি পানি দিয়ে শরীর পরিষ্কার করেন। সেই পানি পরে টয়লেট ফ্লাশের কাজেও ব্যবহার করেন। পৃথিবীর প্রাকৃতিক সম্পদের অপচয় নিয়ে উদ্বিগ্ন বলেই তিনি এমন পদ্ধতি বেছে নিয়েছেন। তার দাবি, এত কম পানি ব্যবহার করেও তার ত্বক সুস্থ রয়েছে এবং শরীরেও স্বাভাবিক মানুষের গন্ধ ছাড়া অন্য কোনও দুর্গন্ধ নেই।

পরিচ্ছন্নতার জন্য অতিরিক্ত প্রসাধনী ও দীর্ঘ সময় ধরে গোসলের প্রয়োজনীয়তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন আরেক পাঠক। তার ভাষ্য, প্রায় ১০ বছর ধরে তিনি কোনও বডি ওয়াশ বা শ্যাম্পু ব্যবহার করেন না। তার গোসলও দুই থেকে তিন মিনিটের বেশি স্থায়ী হয় না। এর চেয়ে বেশি সময় ধরে গোসল করাকে তিনি গরম পানির অপচয় বলে মনে করেন। পাশাপাশি বিভিন্ন ক্লিনজিং পণ্যের রাসায়নিক মিশ্রিত পানি পরিবেশের ওপর কী প্রভাব ফেলছে, সেই বিষয়টিও বিবেচনা করা উচিত বলে মনে করেন তিনি।

৮৯ বছর বয়সী ওই পাঠক আরও জানান, নিজের স্বাভাবিক গন্ধ ছাড়া তার শরীর থেকে অন্য কোনও গন্ধ আসে না এবং তার ত্বকও বেশ সুস্থ। এর অন্যতম কারণ হিসাবে তিনি ত্বকের প্রাকৃতিক তেল অতিরিক্ত পরিষ্কার করে তুলে না ফেলার কথা উল্লেখ করেন। তবে প্রতিদিন দাড়ি কামানোর সময় তাকে শেভিং ক্রিম ব্যবহার করতে হয়। এটিকেই তিনি নিজের পরিচ্ছন্নতার রুটিনের একটি ব্যতিক্রম হিসাবে দেখেছেন।

ত্বকের যত্নে তাই শুধু বেশি পণ্য ব্যবহার করলেই বেশি উপকার পাওয়া যাবে এমনটা নয়। ত্বকের প্রয়োজন বুঝে পরিচ্ছন্নতার রুটিন তৈরি করাই গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে অতিরিক্ত ক্লিনজিংয়ের ফলে ত্বক শুষ্ক বা সংবেদনশীল হয়ে পড়লে ব্যবহার করা পণ্যের সংখ্যা কমিয়ে আনা যেতে পারে। একই সঙ্গে পানি ও প্রসাধনীর অপ্রয়োজনীয় অপচয় এড়িয়ে চলাও হতে পারে আরও সচেতন সৌন্দর্যচর্চার অংশ।

সূত্র: দ্যা গার্ডিয়ান