ত্বকের বয়সের ছাপ কমাতে রেটিনয়েডের কার্যকারিতা নিয়ে কমবেশি সবাই জানেন। তবে সংবেদনশীল ত্বকের ক্ষেত্রে এই উপাদান সবসময় স্বস্তিদায়ক নয়। অতিরিক্ত শুষ্কতা, লালচে ভাব, জ্বালাপোড়া কিংবা অস্বস্তি দেখা দিলে জোর করে রেটিনয়েড ব্যবহার চালিয়ে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। ত্বকের সঙ্গে মানানসই অন্য কিছু কার্যকর উপাদান বেছে নিয়েও ভালো ফল পাওয়া সম্ভব।
রেটিনয়েড সহ্য না হলে পেপটাইডযুক্ত প্রসাধনী ব্যবহার করা যেতে পারে। ম্যাট্রিক্সিল ৩০০০-এর মতো পেপটাইড কোলাজেন তৈরিতে সহায়তা করে এবং ত্বকের সূক্ষ্ম রেখা কম দৃশ্যমান করতে সাহায্য করতে পারে। একসঙ্গে একাধিক সিরাম ব্যবহার করতে না চাইলে ম্যাট্রিক্সিল ৩০০০ ও আরজিরেলিন দুই ধরনের উপাদান রয়েছে এমন একটি সিরামও বেছে নেওয়া যায়।
ত্বকের নিস্তেজভাব কমিয়ে উজ্জ্বলতা ফিরিয়ে আনতে অ্যাজেলেইক অ্যাসিডও ব্যবহার করা যেতে পারে। পাশাপাশি আলফা হাইড্রক্সি অ্যাসিড ত্বকের মৃত কোষ দূর করে ত্বককে আরও মসৃণ ও উজ্জ্বল দেখাতে সাহায্য করতে পারে। ত্বক ভালোভাবে সহ্য করলে সপ্তাহে দুই থেকে চার দিন রাতে মুখ পরিষ্কার করার পর এটি ব্যবহার করা যায়। তবে সংবেদনশীল ত্বকের ক্ষেত্রে নতুন কোনও উপাদান ব্যবহারের আগে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া ভালো।
ত্বকের যত্নে অ্যান্টিঅক্সিডেন্টও গুরুত্বপূর্ণ। উপযুক্ত অ্যান্টিঅক্সিডেন্টযুক্ত প্রসাধনী ত্বককে বিভিন্ন ক্ষতিকর প্রভাব থেকে সুরক্ষায় সহায়তা করতে পারে। তবে বয়সের ছাপ কমানোর যত্নে সবকিছুর আগে গুরুত্ব দিতে হবে সানস্ক্রিনকে। নিয়মিত সূর্যরশ্মির ক্ষতি থেকে ত্বককে সুরক্ষা না দিলে অন্য প্রসাধনীর সুফলও অনেকটাই কমে যেতে পারে।
সবশেষে, ত্বকের যত্নে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো নিয়মিততা। যে উপাদান ত্বক সহ্য করতে পারে না, সেটি জোর করে ব্যবহার করার চেয়ে ত্বকের উপযোগী বিকল্প বেছে নিয়ে নিয়মিত ব্যবহার করাই বেশি কার্যকর। বিশেষ করে সংবেদনশীল ত্বকের ক্ষেত্রে নতুন কোনও উপাদান ব্যবহারের আগে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ।
সূত্র: দ্যা গার্ডিয়ান