রাত জাগা ও রিল দেখার অভ্যাসে বাড়ছে অসুস্থতার ঝুঁকি

পূজার দিনগুলোতে প্যান্ডেলে প্যান্ডেলে ঘোরা, রাত জেগে উৎসব উপভোগ করা, বাইরের খাবার খাওয়াসহ নানা কারণে বদলে যায় প্রতিদিনের রুটিন। তার ওপর বাড়ি ফিরেও যদি মোবাইল হাতে দীর্ঘক্ষণ রিল দেখেন, তা হলে শরীর ও মনে বাড়তি চাপ পড়তে পারে। দেখা দিতে পারে নানা শারীরিক জটিলতা। তাহলে কী ভাবে সামলাবেন পরিস্থিতি?

পূজার মৌসুমে আনন্দের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ে ক্লান্তিও। অনেকেই মনে করেন, রাতে দেরি করে ঘুমোলেও পরের দিন বেশি ক্ষণ ঘুমিয়ে নিলেই ঘাটতি পূরণ হয়ে যাবে। কিন্তু অনিয়মিত ঘুম, খাবারের সময় বদলে যাওয়া এবং দীর্ঘক্ষণ স্ক্রিনে চোখ রাখার প্রভাব শরীরের ওপর পড়তে পারে। তাই উৎসবের ব্যস্ততার মধ্যেও নিজের যত্ন নেওয়া জরুরি।

রাত জাগা ও অতিরিক্ত স্ক্রিন ব্যবহারে যে ৩টি সমস্যা দেখা দিতে পারে

রাত জাগা ও অতিরিক্ত স্ক্রিন ব্যবহারের কারণে শরীরে ৩টি সমস্যা দেখা দিতে পারে। যেমন-

১. স্লিপ প্যারালাইসিসের আশঙ্কা: ঘুমের সময় বারবার বদল হলে এবং পর্যাপ্ত বিশ্রাম না পেলে ঘুমের স্বাভাবিক ছন্দ ব্যাহত হতে পারে। এর সঙ্গে স্লিপ প্যারালাইসিসের সম্পর্ক রয়েছে। এই অবস্থায় ঘুমিয়ে পড়ার সময় বা ঘুম ভাঙার মুহূর্তে ব্যক্তি সচেতন থাকলেও কয়েক সেকেন্ড বা মিনিটের জন্য হাত-পা নাড়াতে কিংবা কথা বলতে পারেন না। কখনও অস্বাভাবিক কিছু দেখার বা উপস্থিতি অনুভবও করেন। নিয়মিত ঘুমের অভাব এই সমস্যার ঝুঁকি বাড়ায়।

২. অনিয়ন্ত্রিত খাওয়াদাওয়া ও ঘুমের সমস্যা: পূজার সময়ে রাত করে খাওয়া, অতিরিক্ত তেল-মশলাযুক্ত খাবার খাওয়া এবং দীর্ঘক্ষণ জেগে থাকা অভ্যাসে পরিণত হতে পারে। ঘুমের ঘাটতি শরীরের ক্ষুধা ও তৃপ্তি নিয়ন্ত্রণকারী প্রক্রিয়ায় প্রভাব ফেলে। ফলে অপ্রয়োজনীয় সময়ে খিদে পাওয়া, অতিরিক্ত খেয়ে ফেলা কিংবা খাবারের রুটিন এলোমেলো হয়ে যাওয়ার প্রবণতা দেখা দিতে পারে। একই সঙ্গে ঘুম আসতে দেরি হওয়া বা ঘুমের মান খারাপ হওয়ার সমস্যাও তৈরি হতে পারে।

৩. ক্লান্তি, মাথাব্যথা ও চোখের অস্বস্তি: রাতের অন্ধকারে দীর্ঘক্ষণ মোবাইলের পর্দায় চোখ রাখলে চোখ শুকিয়ে যাওয়া, ঝাপসা দেখা এবং মাথাব্যথার মতো সমস্যা হতে পারে। স্ক্রিনে মনোযোগ দেওয়ার সময় চোখের পলক ফেলার হারও কমে যায়। তার সঙ্গে ঘুমের ঘাটতি যোগ হলে পরের দিন শরীর ভার লাগা, কাজে মন বসাতে অসুবিধা এবং মেজাজ খিটখিটে হওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দেয়।

পূজার আনন্দ বজায় রাখতে মেনে চলুন এই অভ্যাস

ঘুমের জন্য নির্দিষ্ট সময় রাখুন। প্রতিদিন যতটা সম্ভব একই সময়ে ঘুমোতে যান এবং পর্যাপ্ত ঘুমের সুযোগ তৈরি করুন। প্রাপ্তবয়স্কদের সাধারণত রাতে ৭-৯ ঘণ্টা ঘুম প্রয়োজন।

ঘুমের আগে মোবাইল সরিয়ে রাখুন। বিছানায় শুয়ে একের পর এক রিল দেখার অভ্যাস এড়িয়ে চলুন। ঘুমের আগে অন্তত ৩০-৬০ মিনিট স্ক্রিন থেকে বিরতি নেওয়ার চেষ্টা করুন।

খাবারে ভারসাম্য বজায় রাখুন। উৎসবের দিনে পছন্দের খাবার খেতে পারেন, তবে অতিরিক্ত খাওয়া এবং ঘুমের ঠিক আগে ভারী খাবার খাওয়ার অভ্যাস এড়িয়ে চলুন। পর্যাপ্ত পানি পান করুন।

শরীরকে বিশ্রাম দিন। দীর্ঘক্ষণ হাঁটাহাঁটি বা ভিড়ের মধ্যে ঘোরাঘুরির পরে কিছুটা সময় বসে বিশ্রাম নিন। ক্লান্ত লাগলে জোর করে রাত জাগবেন না।

চোখ ও শরীরের সংকেত বুঝুন। স্ক্রিন ব্যবহারের মাঝে নিয়মিত বিরতি নিন, চোখের পলক ফেলুন এবং দূরের কোনও বস্তুর দিকে তাকান। বারবার মাথাব্যথা, অতিরিক্ত ক্লান্তি বা ঘুমের সমস্যা হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

উৎসবের আনন্দ উপভোগ করতে গিয়ে শরীরের প্রয়োজনকে উপেক্ষা করবেন না। ঘুম, খাবার ও বিশ্রামের দিকে সামান্য নজর রাখলেই পূজার দিনগুলোতেও সুস্থ থাকা সম্ভব।