চল্লিশের কোঠায় সুস্থ থাকতে ১৬টি অভ্যাস

বয়স বাড়ার সঙ্গে শরীরের যত্ন, ঘুম, মানসিক সুস্থতা ও দৈনন্দিন জীবনযাপনে ছোট ছোট পরিবর্তন জরুরি হয়ে ওঠে। নিয়মিত পানি পান, সানস্ক্রিন ব্যবহার, শরীরচর্চা, পর্যাপ্ত ঘুম এবং সময়মতো চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার মতো অভ্যাস সুস্থ থাকতে সাহায্য করতে পারে। বিশেষ করে বয়স ৪০-এর কোঠায় পৌঁছালে নিজের প্রতি যত্ন আরও বাড়িয়ে দেওয়া জরুরি। যে ১৬ অভ্যাস আপনাকে ভালো রাখতে পারে-

১. নিয়মিত পানি পান করুন: তৃষ্ণা পাওয়ার অপেক্ষা না করে দিনের বিভিন্ন সময়ে পানি পান করুন। কাজের টেবিল বা ব্যাগে পানির বোতল রাখলে অভ্যাসটি সহজ হবে। তবে শারীরিক অবস্থা ও চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী পানির পরিমাণ ঠিক করুন।

২. প্রতিদিন সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন: সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি ত্বকে অকাল বার্ধক্যের ছাপ ফেলতে পারে। তাই বাইরে যাওয়ার পাশাপাশি দৈনন্দিন কাজের সময়ও ত্বকের উপযোগী সুরক্ষামাত্রা ৩০ বা তার বেশি এমন সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন।

৩. শরীরের নমনীয়তা ধরে রাখুন: গাড়ি চালানো, ভারী ব্যাগ তোলা কিংবা মেঝেতে বসে ওঠার মতো কাজ সহজ রাখতে নিয়মিত হালকা টান দেওয়ার ব্যায়াম করুন। সপ্তাহে দুই থেকে তিন দিন শরীরের নমনীয়তা বাড়ানোর অনুশীলন করতে পারেন। ব্যথা হলে জোর করে ব্যায়াম করবেন না।

৪. দাঁতের ফাঁক পরিষ্কার করুন: প্রতিদিন দাঁত ব্রাশের পাশাপাশি দাঁতের ফাঁক পরিষ্কার করার অভ্যাস গড়ে তুলুন। এতে দাঁত ও মাড়ির স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য হয়। প্রয়োজনে দাঁতের উপযোগী পরিষ্কারক বেছে নিতে দন্তচিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

৫. সময়মতো চিকিৎসকের পরামর্শ নিন: দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা, অস্বাভাবিক ক্লান্তি কিংবা শরীরে নতুন কোনো পরিবর্তন দেখা দিলে অবহেলা করবেন না। বয়স, পারিবারিক রোগের ইতিহাস ও ব্যক্তিগত ঝুঁকি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরীক্ষা সম্পর্কে চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলুন।

৬. ঘুমের জন্য নির্দিষ্ট সময় রাখুন: কাজের চাপে ঘুমের সময় কমিয়ে ফেলবেন না। প্রতিদিন পর্যাপ্ত ঘুমের সুযোগ রাখুন এবং যতটা সম্ভব নিয়মিত সময়ে ঘুমাতে যান ও জেগে উঠুন। ঘুমের সমস্যা দীর্ঘদিন চললে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

৭. ভোরে ওঠাকে সাফল্যের মাপকাঠি ভাববেন না: সবার শরীরের স্বাভাবিক ঘুম ও জাগরণের সময় এক নয়। ভোরে ওঠার জন্য ঘুম কমিয়ে ফেলার বদলে পর্যাপ্ত বিশ্রাম এবং নিয়মিত ঘুমের সময়সূচিকে গুরুত্ব দিন।

৮. নিজের কাজ নিজে করার সক্ষমতা ধরে রাখুন: বয়স বাড়লেও সিঁড়ি ভাঙা, বাজার করা কিংবা ভ্রমণের মতো দৈনন্দিন কাজ সহজ রাখতে নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম করুন। হাঁটা, সাঁতার, সাইকেল চালানো, যোগব্যায়াম বা শক্তি বাড়ানোর ব্যায়াম থেকে পছন্দমতো বেছে নিন।

৯. প্রয়োজনীয় জিনিস কেনার সময় মান বিবেচনা করুন: জুতা, গাড়ির টায়ার ও বিছানার মতো দৈনন্দিন ব্যবহারের জিনিস কেনার সময় শুধু দাম নয়, নিরাপত্তা, আরাম ও স্থায়িত্বও দেখুন। সব সময় দামি জিনিস কেনার প্রয়োজন নেই। প্রয়োজনের উপযোগী ও টেকসই জিনিস বেছে নেওয়াই ভালো।

১০. নতুন কিছু শিখুন: নতুন ভাষা, রান্না, ছবি তোলা কিংবা কোনও দক্ষতা শেখার চেষ্টা করুন। নতুন কাজ শেখা মনকে সক্রিয় রাখতে এবং একঘেয়েমি কাটাতে সাহায্য করতে পারে। শুরুতেই দক্ষ হয়ে ওঠার চাপ না নিয়ে শেখার আনন্দ উপভোগ করুন।

১১. সবকিছু মনে রাখার চাপ কমান: করণীয় কাজ, বিল পরিশোধের সময় ও জরুরি সাক্ষাতের কথা খাতায় বা দিনপঞ্জিতে লিখে রাখুন। এতে ভুলে যাওয়ার আশঙ্কা কমবে এবং গুরুত্বপূর্ণ কাজে মনোযোগ দেওয়া সহজ হবে।

১২. প্রতিদিন একটি বাক্য লিখুন: দিনের শেষে বিশেষ কোনও ঘটনা, ভালো লাগা কিংবা ছোট্ট সাফল্য নিয়ে একটি বাক্য লিখে রাখুন। দীর্ঘ ডায়েরি লেখার প্রয়োজন নেই। নিয়মিত এই অভ্যাস দিনের স্মৃতি ধরে রাখতে এবং নিজের অভিজ্ঞতা নিয়ে ভাবতে সাহায্য করতে পারে।

১৩. নিজের অনুভূতি বুঝতে চেষ্টা করুন: মন খারাপ বা উদ্বেগের সময় সব সময় নিজেকে ব্যস্ত রাখার বদলে অনুভূতিটি বোঝার চেষ্টা করুন। নিজেকে প্রশ্ন করুন, কেন এমন লাগছে। মানসিক কষ্ট দীর্ঘস্থায়ী বা অসহনীয় হলে পেশাদার সহায়তা নিন।

১৪. ক্লান্ত হওয়ার আগেই বিরতি নিন: একটানা কাজ করলে মনোযোগ কমে যেতে পারে। তাই কাজের ফাঁকে উঠে দাঁড়ান, একটু হাঁটুন বা বিশ্রাম নিন। ছোট বিরতি ক্লান্তি কমাতে এবং কাজে মনোযোগ ধরে রাখতে সহায়তা করে।

১৫. প্রতিদিন কিছুক্ষণ নীরবে থাকুন: ফোন, টেলিভিশন বা অন্য কোনও শব্দ ছাড়াই কয়েক মিনিট কাটান। হাঁটার সময় গান না শোনা কিংবা খাবারের সময় টেলিভিশন বন্ধ রাখার মতো ছোট পরিবর্তনও মানসিক বিশ্রামের সুযোগ তৈরি করতে পারে।

১৬. ছোট পদক্ষেপ দিয়ে শুরু করুন: একসঙ্গে বড় পরিবর্তনের চেষ্টা না করে সহজ একটি কাজ দিয়ে শুরু করুন। শরীরচর্চার জন্য জুতা পরে নিন, বই পড়তে এক পৃষ্ঠা পড়ুন কিংবা ঘর গোছাতে একটি জায়গা পরিষ্কার করুন। ছোট কাজ নিয়মিত করতে পারলে ধীরে ধীরে তা অভ্যাসে পরিণত হতে পারে।