পূজার ছুটির পর কাজে ফেরার প্রস্তুতি, ক্লান্তি কাটাবেন যেভাবে

উৎসবের কয়েকটা দিন কাটে ঘোরাঘুরি, রাত জেগে আনন্দ আর নানা পদের খাবার খেয়ে। ছুটি শেষ হতে না হতেই আবার অফিসের ব্যস্ততা, কাজের চাপ আর সকাল সকাল ঘুম থেকে ওঠার তাড়া। দীর্ঘ ছুটির পর অনেকেরই শরীর ম্যাজম্যাজ করে, ঘুমের রুটিন এলোমেলো হয়ে যায়, কাজে মন বসতেও সময় লাগে। হাতে যদি থাকে আর মাত্র এক দিন, তা হলে কিছু অভ্যাসে পরিবর্তন এনে শরীর ও মনকে কাজে ফেরার জন্য প্রস্তুত করতে পারেন।

ঘুমের সময় ঠিক করুন

উৎসবের দিনগুলিতে রাত জাগার অভ্যাস হয়ে থাকলে ছুটির শেষ দিন থেকেই ঘুমের সময় স্বাভাবিক করার চেষ্টা করুন। রাতে নির্দিষ্ট সময়ে শুয়ে পড়ুন এবং প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য প্রয়োজনীয় ৭ থেকে ৯ ঘণ্টা ঘুমের ব্যবস্থা করুন। ঘুমানোর আগে ফোন দেখা বা ল্যাপটপে কাজ করার অভ্যাস কমালে ঘুম আসতে সুবিধা হতে পারে। বিশ্রামের জন্য দিনের বেশির ভাগ সময় বিছানায় কাটানোর প্রয়োজন নেই। বরং স্বাভাবিক দৈনন্দিন কাজের মধ্যে থাকুন।

পানির ঘাটতি পূরণে নজর দিন

উৎসবের ব্যস্ততায় অনেক সময় নিয়মিত পানি খাওয়ার কথা মনে থাকে না। ছুটির শেষ দিনে পর্যাপ্ত পানি পান করুন। গরমে বাইরে ঘোরাঘুরি বা ঘাম বেশি হলে শরীরের পানির চাহিদাও বাড়তে পারে। ডাব, স্যুপ কিংবা পানিসমৃদ্ধ ফলও খাদ্যতালিকায় রাখতে পারেন। তবে শরীর থেকে ‘টক্সিন’ বের করার জন্য বিশেষ পানীয়ের প্রয়োজন নেই। শরীরের স্বাভাবিক প্রক্রিয়াই এ কাজ করে।

খাবারে আনুন নিয়ম

উৎসবের সময়ে ভারী খাবার, ভাজাভুজি ও মিষ্টি বেশি খাওয়া হয়ে থাকলে পরের দিন স্বাভাবিক ও সুষম খাবারে ফিরুন। ভাত বা রুটির সঙ্গে সবজি, ডাল, ডিম, মাছ কিংবা অন্য প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার খেতে পারেন। ফল ও টক দইও রাখা যায় খাদ্যতালিকায়। দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকা কিংবা দ্রুত সতেজ হওয়ার আশায় কঠোর ডায়েট শুরু করার প্রয়োজন নেই। পরিমিত খাবার খাওয়া এবং নিয়মিত সময়ে খাওয়াই বেশি কাজে দেবে।

হালকা ব্যায়ামে শরীর সচল রাখুন

টানা ঘোরাঘুরি বা দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকার কারণে পেশিতে ব্যথা কিংবা শরীরে আড়ষ্টতা তৈরি হতে পারে। তাই ছুটির শেষ দিনে ভারী ব্যায়ামের বদলে ধীরে হাঁটা, হালকা স্ট্রেচিং বা সহজ কিছু যোগাসন করতে পারেন। এতে শরীর সচল থাকবে এবং মনও কিছুটা ফুরফুরে হতে পারে। শরীরে ব্যথা বা অতিরিক্ত দুর্বলতা থাকলে জোর করে ব্যায়াম করবেন না।

নিজের জন্য রাখুন কিছুটা নিরিবিলি সময়

শরীরের পাশাপাশি মানসিক ক্লান্তিও কাটানো প্রয়োজন। এক দিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সময় কমিয়ে পছন্দের বই পড়তে পারেন, গান শুনতে পারেন কিংবা পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাতে পারেন। কাজের কথা ভেবে দুশ্চিন্তা না করে কয়েক মিনিট ধীরে শ্বাস নেওয়া বা শান্ত পরিবেশে বসে থাকাও স্বস্তি দিতে পারে।

অফিসের প্রস্তুতি আগের দিনই সেরে ফেলুন

কাজে ফেরার সকালে তাড়াহুড়ো এড়াতে আগের রাতেই পোশাক, ব্যাগ ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র গুছিয়ে রাখুন। অফিসের জরুরি কাজগুলির একটি ছোট তালিকা তৈরি করতে পারেন, যাতে পরদিন কোন কাজ আগে করবেন, তা নিয়ে অযথা চাপ তৈরি না হয়। প্রথম দিনেই সব কাজ শেষ করার প্রত্যাশা না রেখে গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলি অগ্রাধিকার দিন।

পূজার ছুটি শেষে এক দিনেই সব ক্লান্তি দূর হবে না। তবে পর্যাপ্ত ঘুম, নিয়মিত খাবার, পর্যাপ্ত পানি পান, হালকা শরীরচর্চা ও মানসিক বিশ্রাম কাজে ফেরার সময়টা সহজ করে তুলতে পারে। ক্লান্তি বা দুর্বলতা অস্বাভাবিকভাবে বেশি হলে কিংবা দীর্ঘস্থায়ী হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।