ঘি খেতে ভালবাসেন বলিউড অভিনেত্রী কারিনা কাপুর খান। ডাল-ভাত, রুটি কিংবা খিচুড়ি—রোজের খাবারে ঘি থাকে তাঁর। কিন্তু ঘি খেলে কি সত্যিই ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকে, ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ে? জেনে নিন ঘি খাওয়ার উপকারিতা ও সতর্কতার দিকগুলি।
বলিউডের অভিনেত্রী কারিনা কাপুর খানের ঘি-প্রীতি নিয়ে সম্প্রতি আলোচনা হয়েছে ‘দ্য গ্রেট ইন্ডিয়ান কপিল শর্মা শো’-এ। সেখানে স্বামী সাইফ আলি খান জানান, তাঁদের বাড়িতে নিয়মিত ঘি খাওয়া হয়। কারিনা নিজেও জানান, পরিবারের খাবারে ঘি থাকে। সাইফের মজার মন্তব্য ছিল, ঘি শুধু খাবারেই নয়, রাতে পায়ের পাতাতেও মাখেন কারিনা। তাঁর মতে, এতে ঘুমও ভালো হয়।
তবে তারকাদের খাদ্যাভ্যাস সবার জন্য উপযুক্ত নাও হতে পারে। ঘি খাওয়ার সঙ্গে ওজন কমা বা ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ার সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে, এমন প্রমাণও নেই। তাই ঘি খেতে হলে তার পরিমাণ এবং সামগ্রিক খাদ্যাভ্যাসের দিকে নজর দেওয়া জরুরি।
ঘি খাওয়ার কী কী উপকার?
ঘিয়ে শুধু স্বাস্থ্যকর ফ্যাট আর প্রোটিন নয়, নানা ধরনের জরুরি ভিটামিনও থাকে। যেমন ভিটামিন এ, ডি, ই এবং কে। এসব ভিটামিন ত্বকের স্বাস্থ্য ভালো রাখার পাশাপাশি চোখও ভালো রাখে। শরীরে ক্যালসিয়ামের মাত্রাও বৃদ্ধি করে।
অনেকেই ভাবেন ঘি মানেই তা অস্বাস্থ্যকর। সেটি একেবারেই নয়। বরং পুষ্টিবিদেরা বলছেন, ঘিয়ে রয়েছে মিডিয়াম চেন ট্রাইগ্লিসারাইড, যা শরীর সহজেই গ্রহণ করতে পারে। তাই ঘি সহজপাচ্য। অন্যান্য ফ্যাট বা চর্বির মতো ঘি খেলে মেদ জমে না। ঘি সহজেই হজম হয়ে যায় ও শরীরে শক্তি তৈরি করে। তাই তেল বা মাখনের বদলে ঘি দিয়ে রান্না করা খাবার খেলেও উপকার হয় বেশি।
তবে ঘি প্রোটিনের উল্লেখযোগ্য উৎস নয়, আর ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ানো বা ওজন কমানোর কোনও নিশ্চিত উপায়ও নয়।
কতটা ঘি খাওয়া উচিত?
এক চামচ ঘিয়ের মধ্যে ১৫ গ্রাম ফ্যাট থাকে। এই ফ্যাটের মধ্যে ৯ গ্রামই স্যাচুরেটেড। তাই অঙ্কের হিসাব অনুযায়ী, দিনে দু’চামচ ঘি খাওয়া যেতেই পারে। তবে তার বেশি নয়। এক চামচ ঘি থেকে যে ৪৫ মিলিগ্রাম কোলেস্টেরল পাওয়া যায়, তা-ও শরীরের দৈনিক চাহিদার মাত্র ১৫ শতাংশ। ফলে ঘি মানেই যে তা শরীরের জন্য ক্ষতিকারক, এমনটা নয়। ঘি-তে আছে কনজুগেটেড লিনোলেইক অ্যাসিড। ডায়াবিটিস ঠেকানোর পাশাপাশি ওজন কম রাখতেও সাহায্য করে এই অ্যাসিড। রান্নার সময়ে ঘিয়ে থাকা ভিটামিনগুলি, যেমন ভিটামিন এ, ডি, ই, কে খাবারে মিশে যায়। ফলে খাবারের পুষ্টিগুণও বাড়ে।
তবে ঘি খাওয়ার নির্দিষ্ট পরিমাণ সবার জন্য এক নয়। বয়স, শারীরিক সক্রিয়তা, দৈনিক ক্যালোরির চাহিদা এবং রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রার মতো বিষয় বিবেচনা করা দরকার। ঘিতে স্যাচুরেটেড ফ্যাট বেশি থাকায় অতিরিক্ত খাওয়া হৃদ্স্বাস্থ্যের জন্য অনুকূল নয়। তাই খাবারে অল্প পরিমাণ ঘি রাখুন এবং অন্যান্য উৎস থেকেও অতিরিক্ত চর্বি গ্রহণ হচ্ছে কি না, খেয়াল করুন।
ফিট থাকতে শুধু ঘি যথেষ্ট নয়
ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে সুষম খাবার, পর্যাপ্ত প্রোটিন ও শাকসবজি, নিয়মিত শরীরচর্চা এবং পর্যাপ্ত ঘুম গুরুত্বপূর্ণ। ঘি খাওয়ার জন্য অন্য স্বাস্থ্যকর খাবার বাদ দেওয়া বা বেশি ঘি খেয়ে ওজন কমানোর চেষ্টা করা ঠিক নয়। রক্তে কোলেস্টেরল বেশি থাকলে বা হৃদ্রোগের ঝুঁকি থাকলে খাদ্যতালিকায় ঘির পরিমাণ নিয়ে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া ভালো।