প্রকৃতির খেয়াল, নাকি মানুষের কারসাজি? পোল্যান্ডের বাঁকানো বনের রহস্য কী

বিজ্ঞান কল্পকাহিনির দৃশ্য যেন বাস্তবে ধরা দিয়েছে পোল্যান্ডের ‘ক্রজিভি লাস’ বা ‘ক্রুকড ফরেস্ট’-এ। এই বনে প্রায় ৪০০টি গাছের কাণ্ড মাটি থেকে সামান্য উঁচুতে উঠে প্রায় ৯০ ডিগ্রি কোণে বেঁকে গিয়েছে। ইংরেজি ‘J’ অক্ষরের মতো দেখতে গাছগুলির বাঁক প্রায় একই দিকে, উত্তরমুখী। প্রকৃতির এমন অদ্ভুত সৃষ্টি ঘিরে আজও রহস্যের শেষ নেই।

গাছগুলির এমন আকৃতির কারণ নিয়ে রয়েছে নানা মত। একটি ধারণা অনুযায়ী, গাছগুলি ছোট থাকাকালীন ভারী তুষারের চাপে কাণ্ড বেঁকে গিয়েছিল। আবার কারও মতে, এই অঞ্চলের মাধ্যাকর্ষণ শক্তির অস্বাভাবিক প্রভাবেই এমন আকৃতি তৈরি হয়েছে। তবে এই ব্যাখ্যাগুলির কোনওটিই নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত নয়।

আরও একটি তত্ত্ব অনুযায়ী, ১৯২৫ থেকে ১৯২৮ সালের মধ্যে গাছগুলি লাগানোর পর বনকর্মীরা পরিকল্পিত ভাবে সেগুলির কাণ্ড বাঁকিয়ে দিয়েছিলেন। উদ্দেশ্য ছিল, বাঁকানো কাঠ দিয়ে আসবাব তৈরি করা। গাছের বয়স প্রায় ১০ বছর হলে এই কাজ করা হয়েছিল বলে মনে করা হয়। কিন্তু ১৯৩৯ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হওয়ার পর সেই পরিকল্পনা থমকে যায়। ফলে গাছগুলির অস্বাভাবিক আকৃতি আজও রয়ে গিয়েছে।

সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয়, গাছগুলির কাণ্ডে প্রায় একই রকম হুকের মতো বাঁক থাকলেও সেগুলি বেশ লম্বা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পরও গাছগুলি বেঁচে থেকে বেড়ে উঠেছে। প্রতিটি গাছের আকৃতির এই মিল দেখে মনে করা হয়, কোনও একটি নির্দিষ্ট কারণে সেগুলি একই ভাবে বাঁকানো হয়েছিল।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় এলাকার মানুষের চলে যাওয়া এবং পরবর্তী কালে সেই সময়ের তথ্য হারিয়ে যাওয়ার কারণে গাছগুলির আকৃতির প্রকৃত রহস্য আজও অধরা। তাই পোল্যান্ডের এই বন প্রকৃতির বিস্ময়, না কি মানুষের পরিকল্পিত সৃষ্টি?- তা নিয়ে কৌতূহল এখনও অটুট।