জানালা বন্ধ, তবু ঘরে ধুলো জমছে! কারণ লুকিয়ে রয়েছে কোথায়?

রাস্তার ধারে বাড়ি হলে ধুলোবালির সমস্যা বেশি থাকে। কিন্তু রাস্তা থেকে দূরে বাড়ি হলেও অনেক সময়ে একই সমস্যায় পড়তে হয়। জানালা-দরজা বন্ধ রাখার পরেও মেঝে, সোফা কিংবা আসবাবের উপর জমে ধুলোর আস্তরণ। কোথা থেকে আসে এই ধুলো?

অন্দরসজ্জা বিশেষজ্ঞদের মতে, ধুলোর উৎস অনেক সময় লুকিয়ে থাকে ঘরের ভেতরেই। পর্দা, গদি, বইয়ের তাক থেকে শুরু করে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রসহ নানা জায়গা থেকেই ছড়াতে পারে ধুলো।

গদি, তোশক ও গালিচা: সোফার গদি, তোশক, বালিশ ও গালিচা থেকে সূক্ষ্ম তন্তু বাতাসে মিশতে পারে। এ ছাড়া পোশাক ও শরীরের সঙ্গে লেগে থাকা ধুলোও ঘরে ঢোকে। বিছানার চাদর, বালিশের ঢাকা নিয়মিত না কাচলে ধুলো জমতে থাকে।

শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র: এসি ঘরের বাতাসকে বার বার সঞ্চালিত করে। ফলে মেঝে বা আসবাবের ওপর জমে থাকা ধুলো বাতাসের সঙ্গে ঘরের অন্য প্রান্তেও ছড়িয়ে পড়তে পারে। এসির ফিল্টার নিয়মিত পরিষ্কার না করলেও সমস্যা বাড়ে।

আসবাবের নকশা: নকশাদার আসবাব, খোলা তাক, বইয়ের খাঁজ এবং দেওয়ালে ঝোলানো শেলফে সহজেই ধুলো জমে। দেওয়ালের গা ঘেঁষে রাখা ভারী আসবাবের পেছনেও ধুলো জমে থাকে। নিয়মিত পরিষ্কার না করলে সেখান থেকে ধুলো ঘরের অন্য জায়গায় ছড়াতে পারে।

বাইরে থেকে আসা ধুলো: জানালা বন্ধ থাকলেও দরজা, জানলার নীচের ফাঁক বা বায়ু চলাচলের পথ দিয়ে ধুলো ঢুকতে পারে। জুতো, পোশাক, বাজারের ব্যাগ এমনকি পোষ্য প্রাণীর লোমের সঙ্গেও ধুলো ঘরে আসে।

কী ভাবে কমাবেন ধুলো?

ঘরের ধুলো কমাতে প্রথমেই নিয়মিত পরিষ্কারের অভ্যাস তৈরি করুন। পর্দা, বিছানার চাদর, বালিশের ঢাকা নির্দিষ্ট সময় অন্তর কেচে নিন। সহজে ধোয়া যায় এমন কাপড় ব্যবহার করলে সুবিধা হবে। আসবাব কেনার সময়ে খুব বেশি খাঁজকাটা বা কারুকাজ করা নকশা এড়িয়ে চলুন। খোলা তাকে সাজানোর সামগ্রী না রেখে কাচের দরজা দেওয়া আলমারিতে রাখলে ধুলো কম জমবে।

শুকনো ঝাড়ু দিয়ে ধুলো পরিষ্কার করলে তা বাতাসে ছড়িয়ে আবার অন্য জায়গায় বসতে পারে। তাই মাইক্রোফাইবার কাপড় সামান্য ভিজিয়ে আসবাব মুছুন। মেঝে ঝাড়ু দেওয়ার পাশাপাশি ভেজা কাপড় দিয়ে মুছে নিন। সম্ভব হলে ভ্যাকুয়াম ক্লিনার ব্যবহার করুন। এসির ফিল্টারও নিয়মিত পরিষ্কার করা জরুরি। দরজা-জানালার ফাঁক বন্ধ রাখার ব্যবস্থা করলে বাইরে থেকে ধুলো ঢোকার পরিমাণও কমবে।