মগজজুড়ে খাবারের চিন্তা? খিদে না পেলেও বারবার খেতে ইচ্ছে করে কেন

দুপুরের খাবার খেয়েই ভাবছেন, রাতে কী রান্না হবে? বিকাল হতে না হতেই মনে হচ্ছে, একটু মিষ্টি বা মুচমুচে কিছু খেলে মন্দ হয় না! আবার পেট ভরা থাকলেও চোখের সামনে পছন্দের খাবার দেখলে নিজেকে সামলানো কঠিন হয়ে পড়ছে। এমন অভিজ্ঞতা অনেকেরই রয়েছে। কিন্তু খিদে না পেলেও যদি সারাক্ষণ খাবারের চিন্তা মাথায় ঘুরতে থাকে, তা হলে বিষয়টি একটু খতিয়ে দেখা দরকার। এই প্রবণতাকেই বলা হয় ‘ফুড নয়েজ’।

খাবার নিয়ে ভাবনাচিন্তা করা অস্বাভাবিক নয়। পছন্দের পদ খাওয়ার ইচ্ছা, নতুন কোনও রেস্তরাঁয় যাওয়ার পরিকল্পনা কিংবা বাড়িতে বিশেষ রান্নার আয়োজন সবই জীবনের আনন্দের অংশ। কিন্তু ফুড নয়েজ বলতে বোঝায় এমন এক পরিস্থিতি, যেখানে খিদে না থাকলেও খাবারের চিন্তা বারবার মনের মধ্যে ফিরে আসে। কী খাবেন, কখন খাবেন, কী ভাবে খাবারের ইচ্ছা সামলাবেন এসব ভাবনাই যেন মস্তিষ্কের অনেকটা জায়গা দখল করে নেয়।

এর প্রভাব পড়তে পারে দৈনন্দিন জীবনেও। কাজের সময় মনঃসংযোগে সমস্যা হতে পারে, বারবার খাবারের দিকে মন চলে যেতে পারে। কখনও আবার প্রয়োজনের তুলনায় বেশি খেয়ে ফেলার পর অপরাধবোধ তৈরি হয়। খাবার নিয়ে এই অতিরিক্ত ভাবনা যদি উদ্বেগ বা অস্বস্তির কারণ হয়ে ওঠে, তা হলে বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

ওজন কমানোর ওষুধে কেন আলোচনায় ফুড নয়েজ?

ওজন কমানোর জন্য ব্যবহৃত সেমাগ্লুটাইড ও তিরজেপাটাইডের মতো ওষুধের জনপ্রিয়তা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ফুড নয়েজ নিয়েও আলোচনা বেড়েছে। এই ধরনের ওষুধ ব্যবহারের পর অনেকেই জানিয়েছেন, তাদের মাথায় খাবারের চিন্তা আগের তুলনায় কম ঘোরে। ফলে বারবার খাওয়ার ইচ্ছা সামলানোও সহজ হয়।

এই ওষুধগুলি শরীরের কিছু হরমোনের কার্যকলাপের অনুকরণ করে ক্ষুধা ও তৃপ্তির অনুভূতিকে প্রভাবিত করে। জিএলপি-১-ভিত্তিক ওষুধ পাকস্থলী থেকে খাবার অন্ত্রে যাওয়ার গতি কমাতেও পারে। ফলে দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা থাকার অনুভূতি তৈরি হয়। তবে ফুড নয়েজ কমানোর ক্ষেত্রে এই ওষুধগুলোর নির্দিষ্ট ভূমিকা কতটা, তা নিয়ে গবেষণা এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে। তাই শুধুমাত্র খাবারের চিন্তা কমানোর জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া এই ধরনের ওষুধ ব্যবহার করা উচিত নয়।

খাবারের কথা ভাবলেই কি চিন্তার কারণ?

একেবারেই নয়। খাবার নিয়ে ভাবনা অনেক সময় আনন্দের উৎস হতে পারে। নতুন রান্না শেখা, পছন্দের মানুষের সঙ্গে খাওয়াদাওয়ার পরিকল্পনা কিংবা নানা পদের স্বাদ নেওয়ার ইচ্ছা এগুলো স্বাভাবিক। সমস্যা তৈরি হয় তখনই, যখন খাবারের চিন্তা নিজের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় এবং কাজ, সম্পর্ক কিংবা মানসিক স্বস্তিতে বাধা সৃষ্টি করে।

ফুড নয়েজ এখনও স্বীকৃত কোনও রোগ বা মানসিক ব্যাধি নয়। তবে খাবার নিয়ে অতিরিক্ত ভাবনা যদি দৈনন্দিন জীবনকে প্রভাবিত করে, তা হলে পুষ্টিবিদ বা মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে। নিজের খিদে, খাওয়ার অভ্যাস এবং মানসিক অবস্থার মধ্যে সম্পর্ক বোঝাও জরুরি। কারণ খাবার জীবনের আনন্দের অংশ, কিন্তু সেই আনন্দ যেন সারাক্ষণের দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে না ওঠে।