প্রয়াত আত্মাদের স্মরণ করার দিন, কীভাবে পালিত হয়?

মৃত্যুর পরেও প্রিয়জনের স্মৃতি মুছে যায় না। তাঁদের সঙ্গে কাটানো মুহূর্ত, ভালোবাসা আর জীবনের নানা গল্প মনে করেই দিন কাটে পরিবারের সদস্যদের। প্রয়াতদের স্মরণে খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের রয়েছে একটি বিশেষ দিন ‘অল সোলস ডে’ বা প্রয়াত আত্মাদের স্মরণ করার দিন। প্রতি বছর ২ নভেম্বর পালিত হয় এই দিন। মৃত স্বজনদের আত্মার শান্তি কামনায় প্রার্থনা করেন অনেকে। কেউ যান সমাধিস্থলে, কেউ আবার বাড়িতেই সাজিয়ে রাখেন প্রয়াতদের ছবি।

বিশেষ করে রোমান ক্যাথলিক ও ইস্টার্ন অর্থোডক্স সম্প্রদায়ের কাছে দিনটির গুরুত্ব অনেক। অ্যাংলিকান এবং কিছু প্রোটেস্ট্যান্ট গোষ্ঠীর মধ্যেও এই দিন পালনের রীতি রয়েছে। খ্রিস্টীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, মৃত্যুর পর যেসব আত্মা স্বর্গে যাওয়ার আগে শুদ্ধিলাভের অপেক্ষায় রয়েছে, তাদের জন্য প্রার্থনা করা হয় এই দিনে।

কীভাবে শুরু হল এই দিনের প্রচলন?

অল সোলস ডে-র ইতিহাস বহু পুরনো। খ্রিস্টীয় ঐতিহ্যে মৃতদের জন্য প্রার্থনার উল্লেখ পাওয়া যায় বাইবেলের ‘টু ম্যাকাবিস’ গ্রন্থে। ষষ্ঠ শতক নাগাদ পশ্চিমি খ্রিস্টধর্মে মৃতদের আত্মার উদ্দেশে প্রার্থনার রীতি প্রতিষ্ঠা পেতে শুরু করে। একাদশ শতকে ক্লুনির অ্যাবট সেন্ট ওডিলো অল সেন্টস ডে-র পরের দিন, অর্থাৎ ২ নভেম্বর, প্রয়াতদের জন্য বিশেষ প্রার্থনার দিন হিসেবে পালনের নির্দেশ দেন। পরে এই রীতি ছড়িয়ে পড়ে পশ্চিমি খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের মধ্যে।

কীভাবে পালন করেন মানুষ?

এই দিনে অনেকেই প্রিয়জনদের সমাধিস্থলে গিয়ে কবর পরিষ্কার করেন, ফুল দেন এবং মোমবাতি জ্বালান। গির্জায় বিশেষ প্রার্থনাসভার আয়োজন করা হয়। সেখানে প্রয়াতদের আত্মার শান্তি কামনায় প্রার্থনা ও ধর্মগ্রন্থ পাঠ করা হয়।

কেউ কেউ বাড়িতেও প্রয়াত স্বজনদের ছবি সাজিয়ে তাদের স্মৃতিচারণ করেন। পরিবারের সদস্য ও বন্ধুবান্ধব একসঙ্গে বসে মৃত প্রিয়জনদের জীবনের নানা ঘটনা মনে করেন। তাদের বলা গল্প, পছন্দের জিনিস কিংবা একসঙ্গে কাটানো বিশেষ মুহূর্ত ফিরে দেখেন।

প্রিয়জন চলে গেলেও তাদের স্মৃতি যে বেঁচে থাকে, তা মনে করিয়ে দেয় এই দিন। জীবনের ব্যস্ততার মাঝে প্রয়াতদের কথা স্মরণ করা, তাদের প্রতি ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা জানানোর এক বিশেষ উপলক্ষ এই ‘অল সোলস ডে’।