শীতের আগেই বাড়ছে বায়ুদূষণের মাত্রা। বাতাসে বাড়ছে ধূলিকণা ও ধোঁয়ার পরিমাণ। বাতাসে ভাসমান সূক্ষ্ম ধূলিকণা ও গাড়ির ধোঁয়ার ফলে দূষণের মাত্রা আরও বেড়ে যায়। ঢাকাসহ অন্যান্য বড় শহরেও দূষণ এখন বড় উদ্বেগের কারণ। এর প্রভাব পড়ছে ফুসফুসের উপর। দীর্ঘদিন দূষিত বাতাসে শ্বাস নিলে ফুসফুসে প্রদাহ ও অক্সিডেটিভ স্ট্রেস বাড়তে পারে। বিশেষ করে হাঁপানি বা সিওপিডির রোগীদের ক্ষেত্রে সমস্যা আরও গুরুতর হয়ে ওঠে।
গুরুগ্রামের এক হাসপাতালের ফুসফুসের চিকিৎসক কুলদীপ কুমার গ্রোভারের মতে, বাতাসে থাকা অতি সূক্ষ্ম ধূলিকণা শ্বাসের সঙ্গে ফুসফুসের গভীরে পৌঁছে শ্বাসনালিতে সমস্যা তৈরি করতে পারে। এর ফলে কাশি ও শ্বাসকষ্টের মতো উপসর্গ বাড়ে। দীর্ঘদিন দূষিত বাতাসের সংস্পর্শে থাকলে সুস্থ মানুষের ফুসফুসের কার্যক্ষমতাও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
দূষণ থেকে বাঁচতে অনেকেই প্রথমে ঘরের জানলা-দরজা বন্ধ রাখেন। কিন্তু সারাক্ষণ তা করে রাখলেই যে ঘরের বাতাস নিরাপদ থাকবে, এমন নয়। কারণ ঘরের ভেতরেও দূষণের নানা উৎস রয়েছে। রান্নার ধোঁয়া, ধূপ, সুগন্ধি মোমবাতি এবং বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক পদার্থ থেকে ঘরের বাতাস দূষিত হতে পারে। জানলা-দরজা সব সময় বন্ধ থাকলে সেই দূষিত বাতাস ঘরের ভেতরেই আটকে থাকে। তাই বাইরের বাতাসের দূষণ কম থাকলে ঘরে কিছুক্ষণ প্রাকৃতিক বায়ু চলাচলের ব্যবস্থা করাও জরুরি।
এই পরিস্থিতিতে এয়ার পিউরিফায়ার কার্যকর হতে পারে। ঘরের আয়তন অনুযায়ী সঠিক যন্ত্র বেছে নিলে বাতাসে ভাসমান সূক্ষ্ম ধূলিকণা অনেকটাই কমানো সম্ভব। কেনার সময় ট্রু হেপা ফিল্টার রয়েছে কি না, তা দেখে নেওয়া প্রয়োজন। যে ঘরে পরিবারের সদস্যরা বেশি সময় কাটান, বিশেষ করে শোয়ার ঘরে, সেখানে দরজা-জানলা বন্ধ রেখে যন্ত্রটি চালানো যেতে পারে। তবে শুধু যন্ত্র কিনলেই হবে না, নিয়মিত ফিল্টার পরিষ্কার বা বদলানোর দিকেও নজর রাখতে হবে।
এয়ার পিউরিফায়ারের বদলে ঘরে গাছ রাখলে কি একই উপকার পাওয়া যাবে? অন্দরসজ্জার জন্য নানা ধরনের গাছ রাখা হলেও সেগুলি বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে এয়ার পিউরিফায়ারের বিকল্প নয়। পরীক্ষাগারের নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে কিছু গাছের নির্দিষ্ট দূষক শোষণের ক্ষমতা দেখা গেলেও সাধারণ বাড়ির পরিবেশে সেই প্রভাব যথেষ্ট নয়। বিশেষ করে বাতাসে থাকা অতি সূক্ষ্ম ধূলিকণা দূর করার ক্ষেত্রে গাছের কার্যকারিতা সীমিত।
তাই ঘরের বাতাস পরিষ্কার রাখতে শুধু গাছের ওপর নির্ভর না করে দূষণের উৎস কমানো, রান্নাঘরে পর্যাপ্ত বায়ু চলাচলের ব্যবস্থা রাখা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী এয়ার পিউরিফায়ার ব্যবহার করাই বেশি কার্যকর। গাছ রাখতে পারেন ঘরের সৌন্দর্য ও মন ভালো রাখার জন্য, তবে দূষণ থেকে ফুসফুসকে সুরক্ষিত রাখতে সেগুলিকে বায়ু পরিশোধনের যন্ত্রের বিকল্প ভাবা ঠিক নয়।