বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ত্বকে বলিরেখা, কালচে দাগ, শুষ্কতা কিংবা জেল্লা কমে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। ত্বকের স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা ধরে রাখতে ভিটামিন-সি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এটি ত্বকের কোষের পুনর্গঠনে সাহায্য করে, ক্ষত মেরামতে সহায়তা করে এবং ত্বকের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে কার্যকর।
বাজারে ভিটামিন-সি সমৃদ্ধ নানা সিরাম, স্ক্রাব ও ক্রিম পাওয়া যায়। তবে অনেক পণ্যে থাকা অতিরিক্ত রাসায়নিক ও প্রিজারভেটিভ সংবেদনশীল ত্বকের জন্য সমস্যা তৈরি করতে পারে। তাই চাইলে ঘরোয়া উপাদান দিয়েই তৈরি করে নিতে পারেন ভিটামিন-সি সমৃদ্ধ ফেস মাস্ক।
পাতিলেবু ও মধুর মাস্ক
পাতিলেবুর রসে থাকা ভিটামিন-সি ত্বকের কালচে দাগ হালকা করতে সাহায্য করতে পারে। এক চামচ পাতিলেবুর রসের সঙ্গে এক চামচ মধু মিশিয়ে মুখে লাগিয়ে নিন। ১০ মিনিট পর ঠান্ডা জল দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।
তবে সংবেদনশীল ত্বকে সরাসরি পাতিলেবুর রস ব্যবহার না করাই ভালো। এর পরিবর্তে আমলকির রস ব্যবহার করা যেতে পারে।
পেঁপে ও দুধের মাস্ক
পাকা পেঁপেতে থাকা ভিটামিন-সি ও অন্যান্য উপাদান ত্বককে নরম ও উজ্জ্বল রাখতে সাহায্য করে। ২-৩ টুকরো পাকা পেঁপের সঙ্গে এক চামচ দুধ ও কয়েক ফোঁটা গোলাপজল মিশিয়ে তৈরি করুন ফেস মাস্ক।
মুখ ও গলায় ভালোভাবে লাগিয়ে ১৫ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন। নিয়মিত ব্যবহারে ত্বকের মসৃণতা ও উজ্জ্বলতা বাড়তে পারে।
আমলকির ফেস মাস্ক
ভিটামিন-সি-এর অন্যতম প্রাকৃতিক উৎস আমলকি। দুই চা চামচ আমলকি পাউডারের সঙ্গে এক চামচ দই মিশিয়ে তৈরি করে নিতে পারেন ফেস মাস্ক। মিশ্রণটি মুখে লাগিয়ে ১৫-২০ মিনিট রেখে ঈষদুষ্ণ জল দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।
এ ছাড়া দুইটি কাঁচা আমলকি বেটে তার সঙ্গে দুই চা চামচ অ্যালোভেরা জেল মিশিয়েও ব্যবহার করা যায়। এটি ত্বকের মৃতকোষ দূর করতে এবং ত্বকের সতেজতা ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করতে পারে।
ত্বকের যত্নে কিছু সতর্কতা
ঘরোয়া ফেস মাস্ক ব্যবহারের আগে ত্বকের ছোট অংশে লাগিয়ে পরীক্ষা করে নেওয়া ভালো। যাদের ত্বক খুব সংবেদনশীল, তারা বিশেষ করে লেবুর মতো অ্যাসিডিক উপাদান ব্যবহারে সতর্ক থাকুন। পাশাপাশি নিয়মিত সানস্ক্রিন ব্যবহার, পর্যাপ্ত জল পান এবং সুষম খাবার খাওয়াও ত্বকের সুস্থতার জন্য জরুরি।