পায়ের যত্নে অনেকেই মুখের মতো নিয়মিত মনোযোগ দেন না। অথচ দীর্ঘক্ষণ হাঁটা, ধুলো-ময়লা, ঘাম, খসখসে ত্বক কিংবা অতিরিক্ত শুষ্কতার কারণে পায়ের পাতায় কালচে ভাব ও রুক্ষতা দেখা দিতে পারে। শুধু পা ধুয়ে ক্রিম মাখলেই সব সময় এই সমস্যা দূর হয় না। নিয়মিত পরিচর্যার পাশাপাশি মৃত কোষ পরিষ্কার ও ত্বকে আর্দ্রতা ধরে রাখার দিকেও নজর দিতে হবে।
পার্লারে গিয়ে পেডিকিয়োর করানোই পায়ের যত্নের একমাত্র উপায় নয়। ঘরেই কিছু সহজ পদ্ধতিতে পায়ের ত্বক পরিষ্কার ও মসৃণ রাখার চেষ্টা করতে পারেন।
ঈষদুষ্ণ পানিতে পা ভিজিয়ে রাখুন
ঈষদুষ্ণ পানিতে কয়েক ফোঁটা শ্যাম্পু, বাথ সল্ট ও ল্যাভেন্ডার এসেনশিয়াল অয়েল মিশিয়ে নিতে পারেন। এতে ১০ থেকে ১৫ মিনিট পা ভিজিয়ে রাখুন। এরপর পিউমিস স্টোন দিয়ে গোড়ালির শক্ত ও মৃত ত্বক খুব আলতোভাবে পরিষ্কার করুন। আঙুলের ফাঁকও ভালোভাবে ধুয়ে নিন।
কফির স্ক্রাবে দূর করুন রুক্ষতা
কফি প্রাকৃতিক স্ক্রাব হিসেবে ব্যবহার করা যায়। এক চামচ কফির সঙ্গে দুই চামচ নারকেল তেল, আধ চামচ চিনি ও কয়েক ফোঁটা লেবুর রস মিশিয়ে নিন। গোসলের আগে মিশ্রণটি পায়ের পাতায় লাগিয়ে আলতো হাতে ঘষুন। পরে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।
কলা-মধুর প্যাকে ফিরিয়ে আনুন কোমলতা
একটি পাকা কলা ভালোভাবে চটকে তাতে এক চামচ মধু মিশিয়ে নিন। পায়ের পাতায় লাগিয়ে প্রায় ১৫ মিনিট অপেক্ষা করুন। এরপর ঈষদুষ্ণ পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। শুষ্ক ও রুক্ষ ত্বকে এই ধরনের ময়েশ্চারাইজিং প্যাক ব্যবহার করা যেতে পারে।
শসার মাস্কে মিলবে সতেজতা
অর্ধেক শসা বেটে তার সঙ্গে আধখানা পাতিলেবুর রস ও আধ চা-চামচ অলিভ অয়েল মিশিয়ে নিন। পরিষ্কার ও শুকনো পায়ে মাস্কটি লাগিয়ে ১৫ থেকে ২০ মিনিট রাখুন। এরপর ঈষদুষ্ণ পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।
পরিচর্যার সঙ্গে সতর্কতাও জরুরি
পায়ের কালচে ভাব সব সময় শুধু মৃত কোষ বা শুষ্কতার কারণে হয় না। চুলকানি, ব্যথা, ফুসকুড়ি, ক্ষত বা ত্বকের রং অস্বাভাবিকভাবে বদলে গেলে ঘরোয়া পদ্ধতিতে বারবার ঘষাঘষি না করে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া ভালো। আর নতুন কোনো উপাদান ব্যবহারের আগে ত্বকের ছোট অংশে পরীক্ষা করে নেওয়াই নিরাপদ।