ত্বক টানটান ভাব হারাচ্ছে? শুষ্কতা কমাতে রুটিনে রাখুন এই যত্নগুলি

মুখ ধোয়ার পরই ত্বক টানটান লাগছে? গালে খসখসে ভাব, লালচে দাগ কিংবা সূক্ষ্ম রেখা আগের তুলনায় বেশি চোখে পড়ছে? আবহাওয়া বদল, অতিরিক্ত শুষ্ক পরিবেশ, দীর্ঘ সময় এসি-তে থাকা কিংবা ত্বকের স্বাভাবিক আর্দ্রতা কমে যাওয়ার কারণে এমনটা হতে পারে।

অনেকেই শুধু শীতকালেই ত্বক শুষ্ক হয় বলে মনে করেন। কিন্তু বছরের অন্য সময়েও যদি ত্বক বারবার ফেটে যায়, চামড়া উঠে আসে বা অতিরিক্ত রুক্ষ হয়ে পড়ে, তা হলে বিষয়টিকে অবহেলা না করাই ভালো। দীর্ঘস্থায়ী শুষ্ক ত্বকের ক্ষেত্রে বিশেষ যত্নের প্রয়োজন হতে পারে।

ময়েশ্চারাইজারের সঙ্গে তেলও ব্যবহার করতে পারেন

ত্বক খুব বেশি শুষ্ক হলে শুধু সাধারণ ময়েশ্চারাইজার যথেষ্ট মনে নাও হতে পারে। সে ক্ষেত্রে স্কিন কেয়ারের শেষ ধাপে হালকা ফেস অয়েল ব্যবহার করা যেতে পারে।

আর্গান অয়েল বা ভিটামিন-ই যুক্ত ফেস অয়েল ত্বকের উপর একটি আবরণ তৈরি করে আর্দ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করতে পারে। তবে ব্রণপ্রবণ বা সংবেদনশীল ত্বকে নতুন কোনও তেল ব্যবহারের আগে অল্প জায়গায় পরীক্ষা করে নেওয়া ভালো।

দিনের মধ্যে ত্বককে দিন বাড়তি আর্দ্রতা

দীর্ঘ সময় শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ঘরে থাকলে ত্বক আরও শুষ্ক লাগতে পারে। সে ক্ষেত্রে হাইড্রেটিং ফেস মিস্ট সঙ্গে রাখা যেতে পারে।

মুখ পরিষ্কার করার পর বা দিনের মধ্যে প্রয়োজনমতো মিস্ট ব্যবহার করলে ত্বকে সাময়িক সতেজতা আসে। তবে মিস্ট ব্যবহারের পর ত্বকে ময়েশ্চারাইজার লাগানো ভালো, যাতে আর্দ্রতা দ্রুত উড়ে না যায়।

ঘরোয়া প্যাক ব্যবহারে সতর্কতা

শুষ্ক ত্বকের জন্য বাড়িতে তৈরি প্যাক ব্যবহার করার চল রয়েছে। তবে সব উপাদান সব ধরনের ত্বকের জন্য উপযুক্ত নয়। বিশেষ করে লেবু, দারচিনি বা সুগন্ধিযুক্ত কোনও উপাদান সংবেদনশীল ত্বকে জ্বালা বা অ্যালার্জি তৈরি করতে পারে।

তাই ঘরোয়া প্যাক ব্যবহার করতে চাইলে আগে হাতে বা চোয়ালের কাছের ছোট জায়গায় অল্প পরিমাণ লাগিয়ে দেখে নেওয়া ভালো। জ্বালা, চুলকানি বা লালচে ভাব দেখা দিলে ব্যবহার বন্ধ করুন।

ত্বক কোমল রাখতে মধু, পাকা কলা বা ওট্‌সের মতো তুলনামূলক মৃদু উপাদান দিয়ে সহজ প্যাক তৈরি করেন অনেকে। তবে এগুলিকে চিকিৎসার বিকল্প হিসেবে না দেখে শুধুমাত্র বাড়তি পরিচর্যার অংশ হিসেবে ভাবা উচিত।

মুখ পরিষ্কার করার সময়ও ভুল করবেন না

অতিরিক্ত গরম জল দিয়ে মুখ ধুলে ত্বকের স্বাভাবিক তেল আরও কমে যেতে পারে। ফলে শুষ্কতা বাড়তে পারে। তাই মুখ পরিষ্কারের জন্য কুসুম গরম বা স্বাভাবিক তাপমাত্রার জল ব্যবহার করুন।

ফেসওয়াশও এমন বেছে নেওয়া ভালো, যা ত্বকের স্বাভাবিক আর্দ্রতা অতিরিক্ত কমিয়ে দেয় না। মুখ ধোয়ার পর ত্বক সামান্য ভেজা থাকতেই ময়েশ্চারাইজার লাগানো যেতে পারে।

বলিরেখা দেখা দিলেই বয়সের ছাপ নয়

ত্বক অতিরিক্ত শুষ্ক হয়ে গেলে সূক্ষ্ম রেখা ও ভাঁজ তুলনামূলক বেশি স্পষ্ট দেখাতে পারে। এর অর্থ সবসময় ত্বক দ্রুত বুড়িয়ে যাচ্ছে, এমন নয়। পর্যাপ্ত আর্দ্রতা বজায় রাখলে অনেক সময় এই ধরনের শুষ্ক রেখা কম চোখে পড়ে।

তবে ত্বক যদি নিয়মিত ফাটে, আঁশের মতো চামড়া উঠতে থাকে, চুলকানি বা লালচে ভাব দীর্ঘস্থায়ী হয়, তা হলে শুধু প্রসাধনী দিয়ে সমস্যা সামলানোর চেষ্টা না করে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া ভালো।

ছোট রুটিনেই ফিরতে পারে ত্বকের স্বস্তি

শুষ্ক ত্বকের যত্নে দামি প্রসাধনীর চেয়ে নিয়মিত রুটিন বেশি গুরুত্বপূর্ণ। মৃদু ক্লিনজার, ভালো ময়েশ্চারাইজার, দিনে সানস্ক্রিন এবং পর্যাপ্ত পানি এই কয়েকটি অভ্যাস নিয়মিত রাখুন।

ত্বকের ধরন অনুযায়ী প্রয়োজন হলে ফেস অয়েল বা হাইড্রেটিং প্রোডাক্ট যোগ করা যেতে পারে। আর নতুন কোনও উপাদান ব্যবহারের আগে ত্বক সেটি সহ্য করতে পারছে কি না, তা দেখে নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।

মনে রাখবেন, ত্বক শুধু বাইরে থেকে নয় তার পরিবর্তনকে গুরুত্ব দিয়ে প্রয়োজন হলে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়াও রূপচর্চারই একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।