জাঙ্ক ফুড—নাম শুনলেই কারও চোখে ভেসে ওঠে গরম গরম পিৎজা, কারও মনে পড়ে ক্রিসপি ফ্রাইড চিকেন, আবার কেউ হয়তো চুপিচুপি ভাবছেন, “একটা বার্গার খেলে এমন কী হবে!”
সংজ্ঞা অনুযায়ী, জাঙ্ক ফুড হলো এমন খাবার যাতে সাধারণত প্রচুর পরিমাণে চর্বি, চিনি, লবণ ও ক্যালরি থাকে। পুষ্টিগুণের দিক থেকে এগুলো খুব একটা এগিয়ে না থাকলেও স্বাদের দিক থেকে এরা যেন অলিম্পিকের স্বর্ণপদক জয়ী!
আর সে কারণেই আছে জাতীয় জাঙ্ক ফুড দিবস—যেদিন আপনার স্বাদের কুঁড়িগুলো একটু আনন্দ করতে পারে। আজ ২১ জুলাই হচ্ছে সেই বিশেষ দিন। এই দিনে নিজের পছন্দের খাবার খান ইচ্ছামতো। তবে মনে রাখবেন, পরের দিন কিন্তু আবার সবজি, সালাদ আর স্বাস্থ্যকর খাবারের দলে ফিরে আসতে হবে!
আজ শুধু ক্যান্ডি নয়, সবই চলবে
জাঙ্ক ফুড মানেই শুধু ক্যান্ডি বা চকলেট নয়। বেকন ভালো লাগে? আজ বেকনের পাহাড় বানিয়ে ফেলুন! চিলি চিজ ডগ পছন্দ? যতগুলো খেতে ইচ্ছা করে, গুনে গুনে খান (তবে পেটের সঙ্গে আলোচনা করে)। পেঁয়াজের রিং? অবশ্যই, স্বাগতম। আর পিৎজা? সেটি তো এমন এক বন্ধু, যাকে সকালের নাশতা, দুপুরের খাবার কিংবা রাতের খাবার—যেকোনো সময় ডাকা যায়!
জাতীয় জাঙ্ক ফুড দিবস আসলে নিজের প্রিয় খাবারের সঙ্গে একটু আনন্দ করার দিন।
তবে ছোট্ট একটি সতর্কবার্তা: জাঙ্ক ফুড বেশি খেলে স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়তে পারেন। আর পরে যদি মা বলেন, “আমি তো আগেই বলেছিলাম!”—সেটিও কিন্তু এই দিনের সম্ভাব্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার অংশ!
কীভাবে উদযাপন করবেন
এই দিন উদযাপনের নিয়ম খুব সহজ—পছন্দের খাবার খুঁজে বের করুন এবং উপভোগ করুন।
কাপকেক বানান, কুকিজ তৈরি করুন, পপকর্ন তৈরি করুন অথবা প্রিয় ক্যান্ডির প্যাকেট খুলে বসুন।
আরও মজা করতে চাইলে বন্ধুদের ডাকুন। সবাইকে বলুন, “আজ স্বাস্থ্যকর খাবারের প্রবেশ নিষেধ!” সবাই নিয়ে আসবে নিজেদের পছন্দের জাঙ্ক ফুড, আর তৈরি হবে বিশাল এক খাবারের উৎসব।
তারপর সিনেমা চালু করুন, হাতে নিন পপকর্ন, আর উপভোগ করুন দিনটি।
বিশ্বের নানা দেশের মজার জাঙ্ক ফুড
জাঙ্ক ফুডের দুনিয়াও কিন্তু বেশ বৈচিত্র্যময়। জাপানে আছে এমন মজার ক্যান্ডি, যেগুলো খাওয়ার আগে নিজেকেই মিশিয়ে তৈরি করতে হয়। কোরিয়ায় রয়েছে চেওং উ পাম্পকিন ক্যান্ডি। কুমড়ার স্বাদের মিষ্টি এক খাবার এটি।
ইউক্রেনের মিস্টার ফিজি মুখে দিলে ফিজ ফিজ অনুভূতি তৈরি করে। কলম্বিয়ার জেট চকলেটের সঙ্গে আবার পাওয়া যায় ডাইনোসরের স্টিকার!
জাপানের ইউনিক্যান মিকিতা মেলন মিল্ক ক্যান্ডি মেলনের স্বাদের চিবানো যায় এমন ক্যান্ডি।
স্পেনে আছে ভায়োলেটাস, যা চিনি দিয়ে মোড়ানো প্রাকৃতিক বেগুনী ফুলের মিষ্টি। আর পোল্যান্ডে রয়েছে প্রিন্স পোলো—মচমচে ওয়েফার-চকলেট বার।
নিজের হাতে বানান প্রিয় জাঙ্ক ফুড
রেস্টুরেন্টে যাওয়ার দরকারই বা কী? নিজের রান্নাঘরকেই বানিয়ে ফেলুন ছোট্ট ফাস্ট ফুড দোকান!
কেএফসির মতো ফ্রাইড চিকেন বানানোর চেষ্টা করুন, নিজের মতো বার্গার তৈরি করুন কিংবা এমন কোনও অদ্ভুত রেসিপি বানান যা দেখে বন্ধুরা বলবে, “এটা খাবার নাকি বিজ্ঞান পরীক্ষা?”
অনলাইনে এখন জাঙ্ক ফুডের অসংখ্য মজার রেসিপি পাওয়া যায়।
বন্ধুদের সঙ্গে জাঙ্ক ফুড পার্টি
একলা কেন? বন্ধুদের সঙ্গে ভাগ করে নিন এই আনন্দ। একটি জাঙ্ক ফুড পার্টি আয়োজন করুন। শর্ত দিন—সবাইকে আনতে হবে মজাদার, মুখরোচক খাবার। তবে সালাদ বা সবুজ শাকসবজি নিয়ে কেউ হাজির হলে তাকে মজার জরিমানা করা যেতে পারে!
কারণ আজকের দিনটা একটু অন্যরকম হওয়ার দিন।
জাঙ্ক ফুডের জন্য আলাদা দিন কেন?
আপনি হয়তো ভাবতে পারেন, “জাঙ্ক ফুডের জন্য আবার দিবস লাগে নাকি?”
আসলে আপনি যদি নিয়মিত স্বাস্থ্যকর ও সুষম খাবার খান, তাহলে বছরে একটি দিন নিজের পছন্দের খাবার উপভোগ করায় সমস্যা নেই। বরং মাঝে মাঝে নিজের পছন্দের খাবার খেলে অনেকেই আবার স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসে ফিরে যেতে উৎসাহ পান।
তবে পুরোপুরি উপভোগ করবেন কি না, সিদ্ধান্ত আপনার। আমরা শুধু জানি—এই দিনে বার্গার আর পিৎজা আমাদের ডাকলে আমরা হয়তো না বলতে পারব না!
জাতীয় জাঙ্ক ফুড দিবসের ইতিহাস
এই দিবসের সঠিক উৎপত্তি সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায় না। ধারণা করা হয়, কোনও স্বাস্থ্যসচেতন ব্যক্তি বা গোষ্ঠী হয়তো ভেবেছিলেন—“বছরে অন্তত একদিন অপরাধবোধ ছাড়া জাঙ্ক ফুড খাওয়া যাক!”
আর সেই ভাবনা থেকেই শুরু হতে পারে এই মজার দিবস।
জাঙ্ক ফুড আমাদের জীবনে এলো কীভাবে?
১৯০০ সালের শেষভাগে প্যাকেটজাত খাবারের জনপ্রিয়তা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে জাঙ্ক ফুডও মানুষের জীবনে জায়গা করে নিতে শুরু করে।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর মানুষ বেশি ভ্রমণ করতে শুরু করে, বাইরে খাওয়ার প্রবণতা বাড়ে। ফলে ফাস্ট ফুড রেস্তোরাঁ ও হিমায়িত খাবারের বাজার দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।
তবে ১৯৭০-এর দশকে এসে জাঙ্ক ফুড শব্দটি নেতিবাচক অর্থ পেতে শুরু করে। মাইক্রোবায়োলজিস্ট মাইকেল জ্যাকবসন এই শব্দটি জনপ্রিয় করেন, যাতে বেশি লবণ, চিনি ও সংরক্ষণকারী উপাদানযুক্ত খাবারের বিষয়ে মানুষ সচেতন হয়।
আজ অনেক প্রতিষ্ঠানই জাঙ্ক ফুডের স্বাস্থ্যকর সংস্করণ তৈরি করছে। কারণ মানুষ বুঝেছে—স্বাদ আর স্বাস্থ্য, দুটোর মধ্যেই একটা ভারসাম্য রাখা সম্ভব।
তাই মাঝে মাঝে একটি বার্গার, এক টুকরো পিৎজা বা এক বাটি আইসক্রিম উপভোগ করতেই পারেন।
কারণ জীবন শুধু সালাদ দিয়ে চলে না—মাঝে মাঝে একটু “চিট ডে” দরকার হয়!