রাগ করে ৬০ সেকেন্ড নষ্ট কেন? আজ বরং সুখী হওয়ার দিন!

সকালে ঘুম থেকে উঠে মন খারাপ? অফিসে বসের বকা? রাস্তায় যানজট? বন্ধুর ‘সিন’ করে রিপ্লাই না দেওয়া? কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম খুলেই কারও সুখী ছবি দেখে নিজের জীবন নিয়ে হাহাকার?

একটু থামুন। আজ অন্যের সুখ দেখে বিরক্ত হওয়ার দিন নয়, বরং সুখ ছড়িয়ে দেওয়ার দিন!

কারণ সুখ উদযাপন দিবস আমাদের মনে করিয়ে দেয় সুখ একা উপভোগ করার বিষয় নয়। আপনি খুশি হলে সেই আনন্দ অন্যের সঙ্গে ভাগ করে নিন। আর কেউ যদি নিজের আনন্দের গল্প শোনাতে আসে, তাকে ‘আচ্ছা, তারপর?’ বলে থামিয়ে না দিয়ে একটু মন দিয়ে শুনুন!

সুখ ছোঁয়াচে, তবে ভয় পাওয়ার কিছু নেই

জাতীয় সুখ উদযাপন দিবসের মূল বার্তা বেশ সহজ ‘সুখ ছড়িয়ে দিন, অন্যের সুখ নষ্ট করবেন না।’

জীবনের ছোট ছোট আনন্দের মুহূর্তগুলোকে উপভোগ করাই এই দিনের অন্যতম উদ্দেশ্য। প্রিয় খাবার খাওয়া, বন্ধুর সঙ্গে আড্ডা, পছন্দের গান শোনা, বিকেলে এক কাপ চা কিংবা হঠাৎ পাওয়া কোনো সুখবর এসবকে ‘এ তো সামান্য ব্যাপার’ বলে এড়িয়ে যাওয়ার দরকার নেই।

কারণ সুখের মুহূর্ত ছোট হলেও তার প্রভাব কিন্তু বেশ বড় হতে পারে।

রালফ ওয়াল্ডো এমারসনের একটি বিখ্যাত উক্তি রয়েছে, “আপনি যত মিনিট রাগ করে থাকেন, তত ৬০ সেকেন্ডের সুখ হারান।”

অর্থাৎ, কারও ওপর রাগ করে বসে থাকলে ক্ষতি কিন্তু তার চেয়ে আপনারই বেশি।

অন্যের সুখ দেখে জ্বলে উঠবেন না, চাইলে হাসুন

এই দিনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হলো ‘অন্যের আনন্দে পানি ঢালবেন না।’

সত্যি বলতে, এমন ঘটনা আমাদের সবার জীবনেই ঘটে। নিজের দিনটা খারাপ যাচ্ছে, অথচ পাশের মানুষটি হাসিমুখে ছবি তুলছে। ব্যস! মনে হতে পারে, ‘এত খুশি হওয়ার কী আছে?’

আবার কখনও অন্যের সুখ নিজের জীবনের কোনো অপূর্ণতার কথা মনে করিয়ে দিতে পারে। তখনও বিরক্তি আসতে পারে।

কিন্তু আপনার দিন খারাপ তাই বলে অন্যের দিনটাও খারাপ করে দেওয়ার অধিকার আপনার নেই। বরং পাশের মানুষের হাসিটা দেখে নিজেও একটু হাসার চেষ্টা করুন। দেখবেন, ব্যাপারটা মন্দ নয়।

আর কাউকে মন খারাপ করে থাকতে দেখলে, সম্ভব হলে তার মুখে হাসি ফোটানোর চেষ্টা করুন। আপনার একটি ভালো কথা, ছোট্ট সাহায্য কিংবা নিছক একটি হাসিই হয়তো তার পুরো দিনটা বদলে দিতে পারে।

এই সুখের দিবসের শুরু কীভাবে

জাতীয় সুখ উদযাপন দিবসের ইতিহাসও বেশ মজার। ১৯৯৯ সালে অ্যাডমিট ইউ আর হ্যাপি ডে’ নামে দিবসটির যাত্রা শুরু হয়। এর পেছনে ছিল ‘দ্য সিক্রেট সোসাইটি অব হ্যাপি পিপল’।

সংগঠনটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ১৯৯৮ সালের আগস্টে। উদ্দেশ্য ছিল বেশ সোজাসাপ্টা ‘মানুষকে সুখের মুহূর্তগুলো চিনতে শেখানো এবং আনন্দকে উদযাপন করা।’

সংগঠনটির দুটি মূলমন্ত্রের একটি হলো, “আমার আনন্দে কখনও পানি ঢালার কথা ভাববেন না”। আর দ্বিতীয়টি, “সুখ কখনও কখনও এমনিতেই ঘটে যায়।”

সেই ‘এমনিতেই ঘটে যাওয়া’ সুখটুকু যেন আমরা উপভোগ করতে ভুলে না যাই এই হলো দিবসটির মূল কথা।

সুখী মানুষের একটি দায়িত্বও আছে

দ্য সিক্রেট সোসাইটি অব হ্যাপি পিপল মনে করে, সুখ সংক্রামক। তাই আপনি সুখী হলে সেই সুখ অন্যদের মধ্যেও ছড়িয়ে দেওয়া উচিত। অন্যদিকে, কারও সুখবর শুনে সঙ্গে সঙ্গে তার আনন্দে ‘কিন্তু…’ যোগ করারও দরকার নেই!

আমরা এমন এক সময়ে বাস করছি, যখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অন্যের চেহারা, পোশাক, জীবনযাপন থেকে শুরু করে সুখ সবকিছু নিয়েই মন্তব্য করার প্রবণতা রয়েছে।

কিন্তু ছোটবেলায় বাবা-মায়ের কাছ থেকে শেখা সেই সহজ কথাটি এখনও বেশ কার্যকর ভালো কিছু বলার না থাকলে চুপ থাকুন।

আপনার একটি মন্তব্য যদি কারও আনন্দ নষ্ট করে, তাহলে সেই মন্তব্য না করাই বরং ভালো।

তাহলে আজকের মিশন কী?

দ্য সিক্রেট সোসাইটি অব হ্যাপি পিপল-এর মতে, জাতীয় সুখ উদযাপন দিবসে তিনটি বিষয় মনে রাখা যায়। এক, অন্যের আনন্দে পানি ঢালবেন না। দুই, অন্য কেউ সুখের কথা বললে মন দিয়ে শুনুন। এবং তিন, নিজের সুখকে চিনুন এবং প্রকাশ করুন।

সমস্যা হলো, মানুষ সাধারণত জীবনের খারাপ ঘটনাগুলোই বেশি মনে রাখে। অথচ প্রতিদিন ঘটে যাওয়া অসংখ্য ভালো ঘটনা আমরা সহজেই ভুলে যাই।

তাই আজ একটু হিসাব করুন, সারাদিনে কতগুলো ভালো ঘটনা ঘটেছে, সকালের ভালো নাশতা? প্রিয় মানুষের ফোন, বন্ধুর মজার মেসেজ, সময়মতো বাস পাওয়া, অথবা বহুদিন পর প্রিয় গানটি শুনে ফেলা। দেখবেন, সুখের তালিকাটা একেবারে ছোট নয়।

কীভাবে উদযাপন করবেন

এই দিবস উদযাপনের জন্য কোনও বিশাল আয়োজনের দরকার নেই। নিজের জন্য এমন কিছু করুন, যা আপনাকে আনন্দ দেয়।

পছন্দের খাবার খেতে পারেন, প্রিয়জনের সঙ্গে সময় কাটাতে পারেন, পুরোনো কোনও শখে ফিরতে পারেন কিংবা নিছক কিছুক্ষণ নিজের মতো করে থাকতে পারেন।

কারণ প্রচলিত কথায় আছে, ‘সুখের শুরু ঘর থেকেই।’ নিজেই যদি সারাক্ষণ মুখ ভার করে থাকেন, তাহলে অন্যের মুখে হাসি ফোটানোও একটু কঠিন।

অন্যকে খুশি করতে পকেট খালি করার দরকার নেই

অন্য মানুষকে আনন্দ দেওয়ার জন্য বড় অঙ্কের টাকা খরচ করারও প্রয়োজন নেই।

বন্ধুকে একটি ছোট্ট শুভেচ্ছা বার্তা পাঠাতে পারেন। কাউকে ফোন করে বলতে পারেন, ‘তোমার কথা মনে পড়ছিল।’ কোনও অসহায় মানুষকে খাবার বা গরম পানীয় কিনে দিতে পারেন। স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজে সময় দিতে পারেন কিংবা কোনও দাতব্য প্রতিষ্ঠানে সহায়তা করতে পারেন।

কাজগুলো ছোট, কিন্তু আনন্দটা বড় হতে পারে। আর সবচেয়ে সহজ কাজ হাসুন। হ্যাঁ, একদম বিনামূল্যের জিনিস!

নেতিবাচক খবরের ভিড়ে একটু সুখবরও হোক

সুখ ছড়ানোর আরেকটি উপায় হলো ইতিবাচক খবর পড়া এবং অন্যদের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া। প্রতিদিন পৃথিবীর নানা প্রান্তে অসংখ্য ভালো ঘটনা ঘটে। কিন্তু সংবাদমাধ্যম বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চোখ রাখলে অনেক সময় মনে হয়, পৃথিবীতে বুঝি শুধু খারাপ ঘটনাই ঘটছে।

তাই নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভালো খবর, অনুপ্রেরণাদায়ক গল্প কিংবা আনন্দের কোনো ঘটনা শেয়ার করতে পারেন।

আর যদি কোনও সুন্দর বিড়ালের ভিডিও পা সেটিও কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। কারণ একটি আদুরে বিড়াল, একটি মজার ভিডিও কিংবা ছোট্ট কোনও আনন্দের খবরও কারও মুখে হাসি ফুটিয়ে দিতে পারে।

আজ একটু সুখী হয়ে দেখুন

জাতীয় সুখ উদযাপন দিবসের মূল শিক্ষা খুব জটিল নয়। নিজে হাসুন, অন্যকে হাসতে দিন।
ভালো লাগলে বলুন। সুখবর শুনলে মন দিয়ে শুনুন। আর কারও আনন্দ দেখে বিরক্ত হওয়ার বদলে সম্ভব হলে সেই আনন্দে একটু অংশ নিন।

শেষ পর্যন্ত সুখ হয়তো সব সমস্যার সমাধান নয়। তবে একটি হাসি, একটি ভালো কথা আর একটু ইতিবাচক মনোভাব দিনটাকে যে অনেকটাই সুন্দর করে দিতে পারে, সেটা তো অস্বীকার করার উপায় নেই।