পরিবারে প্রথম সন্তান হলে ‘বড়’ হওয়ার আলাদা মর্যাদা থাকে, আর ছোট হলে আদর-সোহাগের কমতি থাকে না। কিন্তু মাঝখানে থাকা সন্তানটির কী অবস্থা? বড়দের মতো সব সুবিধা নেই, আবার ছোটদের মতো বাড়তি আদরও নেই। তাই মেজ সন্তানদের জন্যও যদি একটি বিশেষ দিন থাকলে মন্দ কী? অবশেষে মেজ সন্তানদেরও এমন একটি দিন এসেছে, যেদিন পরিবারের মাঝখানে থেকেও তারা একেবারে কেন্দ্রবিন্দুতে থাকতে পারে। আজ হচ্ছে সেই দিন।
মেজ সন্তান দিবস সেই দিন, যখন পরিবারের ‘মাঝখানের মানুষটিকে’ একটু বেশি গুরুত্ব, ভালোবাসা ও মনোযোগ দেওয়ার সুযোগ আসে। দিনটি উদযাপনের জন্য বড় কোনও আয়োজনেরও প্রয়োজন নেই। বরং ছোট ছোট কিছু উদ্যোগেই মেজ সন্তানকে বিশেষ অনুভব করানো যায়।
আজ একটু বেশি গুরুত্ব মেজ সন্তানকে
তিন বা ততোধিক সন্তানের বাবা-মা চাইলে এই দিনে মেজ সন্তানকে নিয়ে আলাদাভাবে সময় কাটাতে পারেন। কোথাও ঘুরতে যাওয়া, একসঙ্গে সিনেমা দেখা কিংবা শুধু তার সঙ্গে গল্প করাও হতে পারে দারুণ আয়োজন।
আর যদি সময় কম থাকে, তাহলে তার পছন্দের খাবারটি রান্না করে ফেলুন। এতেই হয়তো মেজ সন্তানের মনে হবে, ‘আচ্ছা, আজ তাহলে আমাকেও কেউ মনে রেখেছে!’
প্রাপ্তবয়স্ক মেজ সন্তানদের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। ভাই-বোন কিংবা জীবনসঙ্গী যদি পরিবারের মেজ সন্তান হন, তাহলে একটি কার্ড, ফুল, বেলুন কিংবা ছোট্ট একটি নোট দিয়েই জানিয়ে দিতে পারেন, ‘তুমি আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ।’
কারণ পরিবারের ভিড়ে কখনও কখনও মেজ সন্তানদের মনে হতে পারে, তাদের যেন কেউ ঠিকমতো দেখছেই না।
মেজ সন্তানদের আবার ‘সুপারপাওয়ার’ও আছে!
মেজ সন্তানদের নিয়ে যত অভিযোগই থাকুক, তাদের কিছু মজার বৈশিষ্ট্যও আছে। যেমন, পরিবারের কেউ বিপদে পড়লে বা শাস্তির মুখোমুখি হলে মেজ সন্তানরা কীভাবে যেন নিঃশব্দে সরে পড়তে পারে!
আবার বড় ও ছোট ভাই-বোনের মধ্যে ভারসাম্য রাখতে গিয়ে তারা ছোটবেলা থেকেই শিখে যায় সমঝোতা, মধ্যস্থতা ও পরিস্থিতি সামলানোর কৌশল। ফলে পরিবারের ঝগড়া মেটানোর দায়িত্বও অনেক সময় গিয়ে পড়ে এই মেজ সন্তানটির ওপর।
নতুন কিছু করার ঝোঁক, আত্মনির্ভরতা ও মানসিক দৃঢ়তা
অবশ্য সব মেজ সন্তান একরকম নয়। তবে পরিবারে তাদের অবস্থানের কারণে অনেকের মধ্যে কিছু বিশেষ বৈশিষ্ট্য গড়ে উঠতে পারে।
উদ্ভাবনী মানসিকতা: নতুন কিছু চেষ্টা করতে এবং প্রচলিত পথের বাইরে যেতে তারা আগ্রহী হতে পারে।
স্বনির্ভরতা: তুলনামূলকভাবে কম মনোযোগ পাওয়ার কারণে অনেক মেজ সন্তান ছোটবেলা থেকেই নিজের কাজ নিজে করতে শেখে।
মানসিক দৃঢ়তা: পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া এবং হতাশা থেকে দ্রুত ঘুরে দাঁড়ানোর ক্ষমতাও তাদের মধ্যে দেখা যেতে পারে।
টিভির পর্দাতেও মেজ সন্তানদের জয়জয়কার
মেজ সন্তানদের নিয়ে মজা করতে চাইলে টেলিভিশনের পর্দার কিছু জনপ্রিয় চরিত্রও মনে করা যায়। ‘দ্য ব্র্যাডি বাঞ্চ’-এর জ্যান, ‘দ্য কসবি শো’-এর থিও, ‘ফুল হাউস’-এর স্টেফানি কিংবা ‘দ্য ফ্রেশ প্রিন্স’-এর কার্লটন বছরের পর বছর দর্শকদের বিনোদন দিয়েছে এসব মেজ সন্তান চরিত্র।
জাতীয় মেজ সন্তান দিবসে চাইলে মেজ সন্তানদের ঘিরে তৈরি জনপ্রিয় সিরিজ ‘ম্যালকম ইন দ্য মিডল’ (২০০০–২০০৬), ‘দ্য মিডল’ (২০০৯–২০১৮) এবং ‘স্টাক ইন দ্য মিডল’ (২০১৬–২০১৮) দেখে নিতে পারেন।
মেজ সন্তান হওয়া কি সত্যিই এতটা কঠিন
পরিবারের বড় সন্তানটি অনেক কিছু আগে করার সুযোগ পায়। ছোট সন্তানটি পায় বাড়তি আদর ও সুরক্ষা। মাঝখানে থাকা সন্তানটি তাই অনেক সময় নিজের আলাদা জায়গা তৈরি করতে গিয়ে কিছুটা উপেক্ষিত বোধ করতে পারে।
এ থেকেই এসেছে ‘মেজ সন্তান সিনড্রোম’-এর ধারণা। জন্মক্রম ব্যক্তিত্বে কী ধরনের প্রভাব ফেলে, তা নিয়ে বিভিন্ন গবেষণা থাকলেও সব মেজ সন্তান যে একই ধরনের অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যায়, এমনটা বলা যায় না।
তবে মেজ সন্তানদের একটি সাধারণ অনুভূতি হতে পারে, তারা পরিবারের নেতা নয়, আবার সবচেয়ে ছোটও নয়। ফলে কখনও কখনও মনে হতে পারে, ‘আমার কথাটা আসলে কে শুনছে?’
আজকের দিনটা তাই একটু মেজ সন্তানদের জন্য
প্রথম সন্তান হওয়ার গৌরব কিংবা ছোট সন্তান হওয়ার আদর দুটিই থাকুক। কিন্তু তার মাঝখানে থাকা সন্তানটির জন্যও থাকুক একটু বাড়তি ভালোবাসা।
তাই আজ মেজ সন্তানকে জিজ্ঞেস করুন, ‘তোমার কী খেতে ইচ্ছে করছে?’ কিংবা শুধু বলুন, ‘তোমাকে আমরা খুব ভালোবাসি।’ আর যদি বাবা-মা দিনটির কথা মনে রাখেন, তাহলে তো কথাই নেই।