আজ ডানহাতিদের দুনিয়ায় বাঁহাতিদের রাজত্ব!

কাঁচি হাতে নিতেই বিপত্তি, স্কুলের ডেস্কে বসে লিখতে গেলেই অস্বস্তি, আবার কম্পিউটারের মাউসও যেন বলে, ‘আমার সঙ্গে তোমার সম্পর্কটা ডানহাতেই ভালো!’ ডানহাতিদের দুনিয়ায় বাঁহাতি মানুষদের এমন অভিজ্ঞতার শেষ নেই।

তবে আজ আর এসব নিয়ে মন খারাপ করার দিন নয়। আজ আন্তর্জাতিক বাঁহাতি দিবস। দিনটি বাঁহাতি মানুষদের স্বাতন্ত্র্য, প্রতিভা ও প্রতিদিনের নানা মজার সংগ্রামকে উদযাপন করার উপলক্ষ।

আর বাঁহাতিদের নিয়ে মজা করতে গিয়ে একটি মজার কথা প্রায়ই শোনা যায়, ডানহাতিরা নাকি মস্তিষ্কের বাম পাশ দিয়ে কাজ করেন, আর বাঁহাতিরা কাজ করেন ডান পাশ দিয়ে। তাহলে তো বাঁহাতিরাই ‘রাইট মাইন্ড’-এ আছেন!

ইতিহাসের পাতায় বাঁহাতিরা

আন্তর্জাতিক বাঁহাতি দিবস প্রথম পালিত হয় ১৯৭৬ সালে। বাঁহাতি মানুষদের নানা সমস্যা ও অসুবিধা সম্পর্কে সচেতনতা তৈরিতে ‘লেফটহ্যান্ডার্স ইন্টারন্যাশনাল’ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

তবে বাঁহাতি হওয়ার ঝামেলা নতুন নয়। ইতিহাসের এক পর্যায়ে শুধু অন্য হাতের তুলনায় একটি হাত বেশি ব্যবহার করার কারণেও বাঁহাতিদের ডাইনি বা জাদুকরী বলে সন্দেহ করা হতো!

বর্তমানে পৃথিবীর মোট জনসংখ্যার আনুমানিক ১০ শতাংশ বাঁহাতি। সংখ্যায় কম হওয়ায় বাঁহাতিদের জন্য তৈরি বিশেষ পণ্য অনেক সময় তুলনামূলকভাবে বেশি দামী হয়।

কাঁচি, ছুরি কিংবা স্কুলের ডেস্ক কোনোটিই যেন বাঁহাতিদের খুব একটা ছাড় দিতে রাজি নয়। কিছু ক্ষেত্রে এসব পণ্যের দাম প্রায় ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত বেশি হতে পারে। আর গলফ খেলতে গেলে তো ব্যাপারটি আরও গুরুতর। ব্র্যান্ডভেদে বাঁহাতিদের গলফ ক্লাবের দাম ২০০ শতাংশ পর্যন্ত বেশি হতে পারে।

অর্থাৎ বাঁহাতি হওয়া শুধু আলাদা হওয়ার বিষয় নয়, মাঝে মাঝে পকেটের জন্যও আলাদা পরীক্ষা!

বাঁহাতি হলে গর্ব করুন

আন্তর্জাতিক বাঁহাতি দিবসে বাঁহাতিরা নিজেদের নিয়ে একটু গর্ব করতেই পারেন। বাঁহাতিদের জন্য তৈরি টি-শার্ট পরতে পারেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের বাঁহাতি পরিচয় নিয়ে পোস্ট দিতে পারেন কিংবা বন্ধুদের বলতে পারেন, ‘হ্যাঁ, আমি বাঁহাতি। আর এতে আমার কোনও আপত্তি নেই।’

কারণ পৃথিবী যখন ডানদিকে যায়, তখন একটু বাঁদিকে হাঁটাও মন্দ কী।

বাঁহাতি বন্ধুকে আজ একটু বিশেষ অনুভূতি দিন

আপনার বন্ধু বা পরিবারের কেউ যদি বাঁহাতি হন, তাহলে আজ তাকে একটু আলাদা করে প্রশংসা করতে পারেন। তাকে দুপুরের খাবার বা কফিতে আমন্ত্রণ জানিয়ে বলতে পারেন, ‘ডানহাতিদের এই দুনিয়ায় টিকে থাকার জন্য অভিনন্দন।’

চাইলে নিজেও একবার বিপরীত হাত দিয়ে খাওয়ার চেষ্টা করতে পারেন। কয়েক লোকমার পরই হয়তো বুঝতে পারবেন বাঁহাতিদের প্রতিদিনের জীবনটা এত সহজ নয়।

একদিন বাঁহাতিদের সমস্যাটা অনুভব করুন

ডানহাতি মানুষদের জন্য একটি মজার পরীক্ষাও হতে পারে। বাঁহাতিদের কাঁচি নিয়ে ডান হাতে ব্যবহার করে দেখুন। অথবা বাঁহাতিদের ডেস্কে বসে ডান হাতে লেখার চেষ্টা করুন। তারপর দেখুন, কয়েক মিনিটের মধ্যেই আপনার হাত আপনাকে বলে কি না, ‘ভাই, আমাকে আমার নিজের কাজে ফিরতে দাও।’

বাঁহাতিদের জন্য তৈরি পেয়ারিং নাইফ ডান হাতে ব্যবহার করেও দেখা যেতে পারে। এমনকি কফির মগের ছবিটা কোন দিকে থাকে, সেটিও খেয়াল করুন। অনেক মগ এমনভাবে তৈরি করা হয় যে ডান হাতে ধরলেই ছবি বা লেখা সামনে আসে। বাঁহাতি মানুষ মগটি ধরলেই ছবিটি যেন লুকোচুরি খেলতে শুরু করে।

কম্পিউটারের মাউসও কম যায় না। সাধারণ মাউস ডানহাতি ব্যবহারকারীদের কথা মাথায় রেখে তৈরি হওয়ায় বাঁহাতিদের জন্য সেটিংস বদলাতে হয়। সেই সেটিংস না জানলে মাউসের সঙ্গে সম্পর্কটা বেশ ‘জটিল’ হয়ে যেতে পারে।

বাঁহাতিদের নিয়ে একটু হাসাহাসি হোক

দিবস মানেই শুধু গম্ভীর আলোচনা নয়। বাঁহাতিদের নিয়ে কিছু মজার কথাও বলা যায়। যেমন, ‘সবাই ডানহাতি হয়ে জন্মায়, কিন্তু শুধু সেরারাই তা কাটিয়ে উঠতে পারে।’  অথবা বন্ধুকে বলা যেতে পারে, ‘শোনা যায়, অক্টোপাসের মাত্র একটি ডান হাত আছে!’ আরেকটি প্রচলিত মজার দাবি হলো, মেরু ভালুক নাকি মূলত বাঁহাতি!

এসব তথ্য নিয়ে বিতর্ক থাকলেও মজা করতে তো আর বাধা নেই। সব মিলিয়ে, আন্তর্জাতিক বাঁহাতি দিবস শুধু বাঁহাতিদের উদযাপনের দিন নয়, ডানহাতিদের জন্যও এটি একটি সুযোগ। বাঁহাতি হয়ে ডানহাতিদের দুনিয়ায় বেঁচে থাকার মজার গল্পগুলো একটু বোঝার দিন।

তাই আজ বাঁহাতিদের জন্য একটি ছোট্ট বার্তা হতে পারে, ‘আপনার হাত বাঁয়ে, কিন্তু আপনার জায়গাটা সবার হৃদয়ের ডান পাশে।’