বর্ষা এলেই হাট-বাজারে দেখা মেলে দেশীয় নানা শাক-সবজি ও জলজ উদ্ভিদের। এর মধ্যে শাপলা লতা অন্যতম, যা শুধু সহজলভ্যই নয়, পুষ্টিগুণেও সমৃদ্ধ। সাধারণত শাপলা লতা দিয়ে ভাজি, ঝোল কিংবা ডাল রান্না করা হলেও একটু ভিন্ন স্বাদ পেতে তৈরি করতে পারেন শাপলা লতার ভর্তা। চিংড়ি, নারকেল ও সরিষার তেলের ঘ্রাণে তৈরি এই ভর্তা গরম ভাতের সঙ্গে খেতে দারুণ সুস্বাদু। বর্ষার মৌসুমে ঘরোয়া খাবারের তালিকায় রাখতে পারেন সহজে তৈরি এই ঐতিহ্যবাহী পদটি।
উপকরণ
শাপলা লতা (কেটে বেছে নেওয়া) ৩০০ গ্রাম, খোসা ছাড়ানো মাঝারি চিংড়ি ২টি, কোরানো নারকেল ১/৪ কাপ, রসুন ৬ কোয়া, দেশি পেঁয়াজ ৩টি (চার টুকরা করা), শুকনা মরিচ ৬টি, লবণ ১ চা-চামচ, চিনি ১ চা-চামচ, লেবুর রস ১ টেবিল চামচ এবং সরিষার তেল ২ টেবিল চামচ।
প্রণালি
প্রথমে শাপলা লতা ভাপ দিয়ে ভালোভাবে পানি ঝরিয়ে নিন। ঠান্ডা হলে হাত দিয়ে চিপে বাড়তি পানি নিংড়ে একটি পাত্রে রাখুন। এরপর একটি ফ্রাইপ্যানে ১ টেবিল চামচ সরিষার তেল গরম করে শুকনা মরিচ হালকা ভেজে তুলে রাখুন। একই তেলে চিংড়ি মাছ, কোরানো নারকেল ও আধা চা-চামচ লবণ দিয়ে ভালোভাবে ভেজে তুলে রাখুন। এবার বাকি তেল গরম করে তাতে পেঁয়াজ ও রসুন ভেজে নিন। কিছুক্ষণ পর শাপলা লতা ও বাকি লবণ দিয়ে ভালোভাবে নেড়ে ভাজুন। অতিরিক্ত পানি শুকিয়ে এলে ভাজা চিংড়ি ও নারকেল দিয়ে আরও কিছুক্ষণ রান্না করুন। শেষে শুকনা মরিচ, চিনি ও লেবুর রস দিয়ে ভালোভাবে মিশিয়ে ভাজা ভাজা করে নামিয়ে নিন। সব উপকরণ পাটায় বা শিলপাটায় মসৃণ করে বেটে গরম ভাতের সঙ্গে পরিবেশন করুন।
পরামর্শ
শাপলা লতা কাটার পর অল্প সময়ের মধ্যেই এর গায়ে লালচে-কালো আবরণ পড়ে যেতে পারে। তাই ফুটন্ত পানিতে অল্প সময় ভাপিয়ে নিলে এটি আবার টাটকা সবুজ রং ফিরে পায়। পাশাপাশি শাপলা লতার স্বাভাবিক মেটে গন্ধও অনেকটাই দূর হয়ে যায়, ফলে ভর্তার স্বাদ ও ঘ্রাণ আরও ভালো হয়।