সবজি দেখেই নাক সিঁটকান? বর্ষার বিভিন্ন সবজি দিয়ে বানিয়ে দেখুন এই পদ

সবজি দেখেই নাক সিঁটকান? বিশেষ করে ঝিঙে, গাজর কিংবা বরবটি এসব সবজির নাম শুনলেই অনেকের মুখ ভার হয়ে যায়? আর শিশুদের সবজি খাওয়ানো যেন এক যুদ্ধ। তবে একটু ভিন্নভাবে রান্না করলে সাধারণ সবজিও হয়ে উঠতে পারে দারুণ সুস্বাদু। বর্ষার তাজা ঝিঙে, গাজর, বরবটি, মটর ডালের বড়া, দুধ ও কাজুবাদাম দিয়ে তৈরি ‘ঝিঙের রসগোল্লা’ তেমনই একটি অভিনব পদ।

এই রান্নায় ঘি, দুধ, কাজুবাদাম মিলেমিশে অভিনব এক স্বাদ তৈরি হয়। যাদের সবজি পছন্দ নয়, তারাও তৃপ্তি করে খেতে পারবেন। সময় বেশি লাগবে না, পরিশ্রমও বেশি নয়। রান্নার সহজ রেসিপি শিখে নিন।

উপকরণ

২টি বড় ঝিঙে, ১টি গাজর, এক মুঠো বরবটি, ৫০ গ্রাম মটর ডাল, পরিমাণ মতো সরিষার তেল, ২ চা-চামচ আদাবাটা, ২টি তেজপাতা, ২টি দারচিনি, ৪টি এলাচ, ১ চা-চামচ গোটা জিরা, ১২টি কাজুবাদাম, আধ লিটার গরম দুধ, ১ চা-চামচ চিনি, ১ চা-চামচ ঘি, স্বাদমতো কাঁচামারচ, ১৫টি গোলমরিচের গুঁড়ো এবং স্বাদমতো লবন।

প্রণালি

রান্না শুরুর অন্তত দুই ঘণ্টা আগে মটর ডাল ও পোস্ত আলাদা করে পানিতে ভিজিয়ে রাখুন।

ঝিঙের খোসা ছাড়িয়ে মাঝারি আকারে কেটে নিন। গাজর গোল করে কেটে রাখুন এবং বরবটি দুই টুকরো করে নিন।

ভেজানো মটর ডাল, সামান্য আদাবাটা ও লবণ একসঙ্গে ব্লেন্ডারে মোটা করে বেটে নিন। এবার হাত দিয়ে ছোট ছোট গোল বড়া বানিয়ে গরম সর্ষের তেলে সোনালি করে ভেজে তুলে রাখুন।

একই তেলে তেজপাতা, দারচিনি, এলাচ ও গোটা জিরার ফোড়ন দিন। সুগন্ধ বের হলে আদাবাটা দিয়ে হালকা কষিয়ে নিন। এরপর ঝিঙে, গাজর ও বরবটি দিয়ে কয়েক মিনিট নেড়ে লবণ মিশিয়ে ভাজুন।

এদিকে কাজুবাদাম সামান্য দুধ দিয়ে মিহি করে বেটে নিন। সবজির মধ্যে কাজুবাদাম বাটা মিশিয়ে গরম দুধ ঢেলে দিন। সবজি থেকে পানি বের হয়ে এলে মাঝারি আঁচে ফুটতে দিন।

এরপর সাদা গোলমরিচের গুঁড়ো ও চিরে রাখা কাঁচামরিচ দিয়ে ঢেকে কয়েক মিনিট রান্না করুন। সবজি নরম হয়ে এলে ভাজা ডালের বড়া, চিনি ও ঘি যোগ করে আলতোভাবে নেড়ে আরও ২–৩ মিনিট রান্না করুন।

গরম গরম ভাত, পোলাও কিংবা রুটি—সবকিছুর সঙ্গেই দারুণ মানিয়ে যাবে এই ব্যতিক্রমী ‘ঝিঙের রসগোল্লা’। একবার তৈরি করলে সবজি অপছন্দ করা মানুষও দ্বিতীয়বার চাইতেই পারেন।