লিভারে জমছে চর্বি? প্রতিদিনের যোগাভ্যাসে মিলতে পারে উপকার

বর্তমান জীবনযাত্রায় ফ্যাটি লিভার বা লিভারে অতিরিক্ত চর্বি জমার সমস্যা অনেকেরই চিন্তার কারণ হয়ে উঠেছে। অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস, অতিরিক্ত ক্যালরিযুক্ত খাবার, শারীরিক পরিশ্রমের অভাব এবং অতিরিক্ত মদ্যপানের কারণে লিভারে চর্বি জমতে পারে। তবে শুধু ওষুধের ওপর নির্ভর না করে, স্বাস্থ্যকর খাবার ও নিয়মিত ব্যায়ামও লিভার ভালো রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় ফ্যাটি লিভারকে মূলত দুই ভাগে দেখা হয় অ্যালকোহলজনিত ফ্যাটি লিভার এবং নন-অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার। মদ্যপান না করেও অতিরিক্ত ওজন, ভুঁড়ি, ডায়াবেটিস বা অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের কারণে লিভারে চর্বি জমতে পারে।

লিভারে জমা চর্বি বাইরে থেকে বোঝা যায় না। কিন্তু দীর্ঘদিন অবহেলা করলে এটি প্রদাহ, লিভারের ক্ষত (ফাইব্রোসিস), সিরোসিসসহ গুরুতর সমস্যার ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তাই জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আনা জরুরি।

ফ্যাটি লিভারে নাভাসন কি উপকারী

যোগাসনের মধ্যে নাভাসন বা ‘বোট পোজ’ একটি জনপ্রিয় আসন। নিয়মিত অনুশীলনে এটি পেটের পেশি সক্রিয় করতে, শরীরের ভারসাম্য বাড়াতে এবং সামগ্রিক ফিটনেস উন্নত করতে সাহায্য করতে পারে।

তবে মনে রাখা জরুরি, শুধু কোনও একটি যোগাসন করলেই ফ্যাটি লিভার পুরোপুরি নির্মূল হয়ে যাবে এমন প্রমাণ নেই। ফ্যাটি লিভার নিয়ন্ত্রণে খাবারের অভ্যাস, ওজন নিয়ন্ত্রণ, নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম এবং প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ গুরুত্বপূর্ণ।

কীভাবে করবেন নাভাসন

প্রথমে চিত হয়ে শুয়ে পড়ুন। দুই হাত শরীরের দুই পাশে রাখুন এবং স্বাভাবিকভাবে শ্বাস নিন। ধীরে ধীরে শ্বাস নিতে নিতে কোমর ও নিতম্বের ওপর ভর দিয়ে মাথা, বুক ও দুই পা একসঙ্গে ওপরে তুলুন। দুই পা শরীরের সঙ্গে প্রায় ৪৫ ডিগ্রি কোণে রাখুন এবং দুই হাত সামনে সোজা করে বাড়িয়ে দিন। এ অবস্থায় শরীরের আকৃতি অনেকটা নৌকার মতো হবে। ২০ থেকে ৩০ সেকেন্ড এই অবস্থায় থাকার চেষ্টা করুন। এরপর ধীরে ধীরে শ্বাস ছাড়তে ছাড়তে আগের অবস্থায় ফিরে আসুন।

নাভাসনের সম্ভাব্য উপকারিতা

নিয়মিত অনুশীলনে নাভাসন পেটের পেশি শক্তিশালী করতে সাহায্য করতে পারে, শরীরের ভারসাম্য ও স্থিতিশীলতা বাড়াতে পারে, হজমশক্তি ভালো রাখতে সহায়ক হতে পারে,  পেটের অতিরিক্ত মেদ কমানোর ব্যায়াম রুটিনের অংশ হতে পারে ও শরীরের নমনীয়তা ও শক্তি বাড়াতে সাহায্য করতে পারে।

কিছু ক্ষেত্রে হরমোন-সংক্রান্ত সমস্যায়, যেমন পিসিওএস, ব্যায়াম ও যোগাসন জীবনযাত্রার উন্নতির অংশ হিসেবে উপকারী হতে পারে। তবে এ ধরনের সমস্যায় বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া ভালো।

কারা নাভাসন করবেন না?

সবাইয়ের জন্য সব যোগাসন উপযুক্ত নয়। বিশেষ করে যাদের সম্প্রতি পেটে অস্ত্রোপচার হয়েছে, তাদের এই আসন এড়িয়ে চলা উচিত। গর্ভাবস্থায় চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া নাভাসন করা ঠিক নয়। কোমর, ঘাড় বা পেটের গুরুতর সমস্যায় ভুগলে প্রশিক্ষকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

ফ্যাটি লিভার নিয়ন্ত্রণে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো জীবনযাত্রার পরিবর্তন। নিয়মিত ব্যায়াম, সুষম খাবার, ওজন নিয়ন্ত্রণ এবং প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ, এই সবকিছুর সমন্বয়েই লিভার সুস্থ রাখা সম্ভব। নাভাসন হতে পারে সেই স্বাস্থ্যকর রুটিনের একটি অংশ, তবে এটি কোনও একক চিকিৎসা নয়।