খাদ্য নিরাপত্তা ও পুষ্টি নিশ্চিত করতে দেশের মোট ৩০০ উপজেলায় ভিটামিন ও খনিজসমৃদ্ধ পুষ্টিচাল (ফর্টিফায়েড রাইস) বিতরণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) খাদ্য পরিকল্পনা ও পরিধারণ কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে সরকারের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় দেশের ৫৫ লাখ গ্রামীণ দরিদ্র ও অতি দরিদ্র পরিবারকে প্রতি কেজি ১৫ টাকা দরে মাসে ৩০ কেজি করে ছয় মাস চাল দেওয়া হবে। এ কর্মসূচিতে মোট ৯ লাখ ৯০ হাজার মেট্রিক টন চাল বিতরণ করা হবে।
পুষ্টিচাল কী
পুষ্টিচাল বা ফর্টিফায়েড রাইস হলো এমন চাল, যাতে সাধারণ চালের সঙ্গে শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও খনিজ উপাদান যুক্ত করা হয়। চালকে আরও পুষ্টিকর করে তুলতে বিশেষ প্রযুক্তির মাধ্যমে তৈরি পুষ্টি উপাদানসমৃদ্ধ চালের দানা সাধারণ চালের সঙ্গে নির্ধারিত অনুপাতে মিশিয়ে এই চাল প্রস্তুত করা হয়। দেখতে ও রান্নার পদ্ধতিতে এটি সাধারণ চালের মতো হলেও এতে অতিরিক্ত পুষ্টি উপাদান থাকায় এর পুষ্টিমান বেশি।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পুষ্টিচাল কোনও ওষুধ নয়; বরং এটি সাধারণ চালেরই পুষ্টিমান বাড়ানো একটি সংস্করণ। সুষম খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবে পুষ্টি চাল গ্রহণ করলে শরীরের প্রয়োজনীয় কিছু মাইক্রোনিউট্রিয়েন্টের ঘাটতি পূরণে সহায়তা করতে পারে। তবে এর পাশাপাশি শাকসবজি, ডাল, মাছ, মাংস, ডিম ও ফলসহ বৈচিত্র্যময় খাদ্য গ্রহণও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
কী থাকে পুষ্টিচালে
বিশেষজ্ঞদের মতে, পুষ্টিচালে সাধারণত আয়রন (লৌহ), ফলিক অ্যাসিড এবং ভিটামিন বি-১২ যোগ করা হয়। অনেক ক্ষেত্রে জিঙ্কও সংযোজন করা হয়। এসব উপাদান শরীরে রক্ত তৈরিতে সহায়তা করে, আয়রনের ঘাটতি ও রক্তস্বল্পতা (অ্যানিমিয়া) প্রতিরোধে ভূমিকা রাখে এবং শিশু, কিশোর-কিশোরী, গর্ভবতী নারী ও প্রবীণদের পুষ্টি চাহিদা পূরণে সহায়ক।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, পুষ্টি চাল তৈরির ক্ষেত্রে প্রথমে চালের গুঁড়া, ভিটামিন ও খনিজ উপাদান মিশিয়ে বিশেষ প্রযুক্তিতে ফর্টিফায়েড রাইস কার্নেল (এফআরকে) বা পুষ্টি দানা তৈরি করা হয়। পরে এই দানাগুলো সাধারণ চালের সঙ্গে নির্ধারিত অনুপাতে মিশিয়ে বাজারজাত বা বিতরণ করা হয়। রান্নার সময় অতিরিক্ত কোনো প্রক্রিয়ার প্রয়োজন হয় না; সাধারণ চালের মতোই এটি রান্না করা যায়।
কীভাবে রান্না করতে হবে?
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা এবং বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচিসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা খাদ্যে ভিটামিন ও খনিজ উপাদান সংযোজনকে অপুষ্টি মোকাবিলার কার্যকর কৌশল হিসেবে বিবেচনা করে। যেসব দেশে প্রধান খাদ্য হিসেবে চাল বেশি খাওয়া হয়, সেসব দেশে পুষ্টি চালের ব্যবহার পুষ্টিঘাটতি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে বিভিন্ন গবেষণায় উঠে এসেছে।
সরকারের উদ্যোগ
বাংলাদেশেও অপুষ্টি ও রক্তস্বল্পতা কমাতে সরকার ধাপে ধাপে পুষ্টি চালের ব্যবহার বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি, ভিজিএফ, ভিজিডি, স্কুল ফিডিংসহ বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে পর্যায়ক্রমে পুষ্টি চাল অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এর মাধ্যমে দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর মধ্যে প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও খনিজের ঘাটতি কমানো সম্ভব হবে।