গ্রিন টি নয়, ঘরেই তৈরি ৫ পানীয়েও মিলতে পারে অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট

শরীরকে সুস্থ রাখতে অ্যান্টি-অক্সিড্যান্টের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণত এ ধরনের যৌগের কথা বললেই গ্রিন টি-র কথা মনে আসে। তবে প্রতিদিনের খাবার ও পানীয়ের তালিকায় থাকা আরও কিছু পরিচিত উপাদান থেকেও অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট পাওয়া যেতে পারে। রান্নাঘরে থাকা সহজ কিছু উপকরণ দিয়ে তৈরি এসব পানীয় স্বাদ বদলের পাশাপাশি খাদ্যতালিকায় যোগ করতে পারে নানা ধরনের উদ্ভিজ্জ যৌগ।

সজনেপাতার চা (ছবি: সংগৃহীত)

সজনেপাতার চা

সজনেপাতা শুধু রান্নায় ব্যবহারের জন্যই নয়, পানীয় হিসেবেও খাওয়া যায়। এতে ভিটামিন সি ও বিভিন্ন অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট যৌগ রয়েছে। পাশাপাশি সজনেপাতায় আয়রন ও ক্যালশিয়ামও পাওয়া যায়। পরিষ্কার সজনেপাতা পানিতে ফুটিয়ে বা ভিজিয়ে সহজেই তৈরি করা যায় এর চা। তবে কোনও রোগের চিকিৎসা বা ওষুধের বিকল্প হিসেবে সজনেপাতার চাকে বিবেচনা করা উচিত নয়।

জবাফুলের চা (ছবি: সংগৃহীত)

জবাফুলের চা

রঙিন জবাফুল দিয়ে তৈরি চা দেখতে যেমন আকর্ষণীয়, পুষ্টিগুণের দিক থেকেও এটি বেশ পরিচিত। জবাফুলে অ্যান্থোসায়ানিনসহ বিভিন্ন উদ্ভিজ্জ যৌগ থাকে, যেগুলো অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট হিসেবে কাজ করে। চায়ে অতিরিক্ত চিনি না মেশানোই ভালো। বিশেষ করে যারা নিয়মিত রক্তচাপ বা অন্য কোনও শারীরিক সমস্যার ওষুধ খান, তারা নিয়মিত জবাফুলের চা পান করার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে পারেন।

বিটের পানীয় (ছবি: সংগৃহীত)

বিটের পানীয়

বিটের গাঢ় লাল রঙের পেছনে রয়েছে বিটালেইন নামের যৌগ, যা অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট বৈশিষ্ট্যের জন্য পরিচিত। বিটে প্রাকৃতিক নাইট্রেটও থাকে। শরীরে নাইট্রিক অক্সাইড তৈরিতে এই উপাদান ভূমিকা রাখে। ফলে শারীরিক পরিশ্রম বা ব্যায়ামের সময় বিটের পানীয় নিয়ে আগ্রহ দেখা যায়। তবে বিটের রস বানানোর সময় পুরোপুরি ছেঁকে শুধু তরল অংশ খাওয়ার বদলে পাল্পসহ খেলে ফাইবারও পাওয়া যায়।

লেবু-আদার পানীয় (ছবি: সংগৃহীত)

লেবু-আদার পানীয়

সকালের পানীয় হিসেবে লেবু-আদার জল বেশ জনপ্রিয়। লেবুতে ভিটামিন সি এবং আদায় জিঞ্জেরলসহ বিভিন্ন উদ্ভিজ্জ যৌগ রয়েছে। উষ্ণ পানিতে সামান্য আদা ও লেবুর রস মিশিয়ে সহজেই এটি তৈরি করা যায়। বাড়তি চিনি না দিলে পানীয়টির অতিরিক্ত ক্যালোরিও এড়ানো সম্ভব।

আমলকির শরবত (ছবি: সংগৃহীত)

আমলকির শরবত

ভিটামিন সি-এর পাশাপাশি আমলকিতে বিভিন্ন উদ্ভিজ্জ অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট যৌগ রয়েছে। তাই আমলকি দিয়ে তৈরি পানীয়ও প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় বৈচিত্র আনতে পারে। তবে শরবত তৈরির সময় বেশি চিনি ব্যবহার না করাই ভালো। বাজারে তৈরি আমলকির পানীয় কিনলে লেবেলে থাকা চিনির পরিমাণ দেখে নেওয়া জরুরি।

শুধু একটি পানীয়ের ওপর নির্ভর নয়

অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট পাওয়ার জন্য কোনো একটি পানীয়কে আলাদা করে ‘সেরা’ মনে করার প্রয়োজন নেই। শরীরের প্রয়োজনীয় পুষ্টি নিশ্চিত করতে নানা ধরনের শাকসবজি, ফল, ডাল, বাদাম ও অন্যান্য পুষ্টিকর খাবার খাদ্যতালিকায় রাখা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে পর্যাপ্ত পানি পান করাও জরুরি।

আর ফল বা সবজির রস পান করার ক্ষেত্রে পরিমাণের দিকে খেয়াল রাখা দরকার। বিশেষ করে চিনি মিশিয়ে পান করলে অপ্রয়োজনীয় ক্যালোরি বাড়তে পারে। তাই ঘরে তৈরি পানীয় হলে অতিরিক্ত চিনি এড়িয়ে এবং সম্ভব হলে ফল বা সবজি পুরোটা খাওয়ার অভ্যাস করাই ভালো।